অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাকি ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি আগামী ১৫ জানুয়ারি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন খাতে তারল্য সরবরাহ বাড়ানো ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এক্সপোর্ট প্রসিড ও রেমিট্যান্স রেট সমন্বয়ের জন্য মুদ্রানীতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
করোনা মহামারির আগে ছয় মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা হতো। কিন্তু করোনার কারণে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতি এক বছরের জন্য করা হয়। তবে এবার আগের মতো বছরে দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদল।
দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় ঋণের প্রবৃদ্ধির তুলনায় আমানতের প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গেছে। গত বছরের অক্টোবরে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৭.৩৫ এবং একই সময় ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ১৪ শতাংশ। এর ফলে দেশের ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য মাত্র তিন মাসে ৩৩,০০০ কোটি টাকা কমে সেপ্টেম্বরে ১.৭০ লাখ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
গত ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে দ্বিতীয় সমন্বয় সভা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ও ডেপুটি গভর্নর ও সব নির্বাহী পরিচালক এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় কয়েকজন নির্বাহী পরিচালক মূল্যস্ফীতি কমাতে রেপো ও ব্যাংকঋণের সুদহার বাড়াতে বলেছেন। এর আগে ৫ ডিসেম্বর দেশের কয়েকজন অর্থনীতিবিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সাধারণত মুদ্রার গতিবিধি প্রক্ষেপণ করে এই মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতির অন্যতম কাজগুলো হলো—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা, ঋণের প্রক্ষেপণের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ঋণের জোগান ধার্য করা এবং মুদ্রার প্রচলন নিয়ন্ত্রণ করা। এদিকে নতুন মুদ্রানীতি আসার আগেই তিনবার নীতি সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে রেপো সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রেপো সুদহার বেড়ে হয়েছে ৫.৭৫ শতাংশ।
রেপো সুদহার বাড়ানোর ফলে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত টাকার প্রবাহ কমাতে, যাতে ব্যাংকগুলো বেশি সুদের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কম টাকা ধার করে, এটাই এ সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
এদিকে গত ২০ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল হয়েছে। সেখানে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। ●
অকা/ব্যাংখা/সকাল, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 years আগে
