অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
২৪ ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া বিরাট বিপর্যয়ে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের দিন দেশের পুঁজি বাজার সূচকেও ছিল প্রচণ্ড অস্থিরতা। ২২ জুলাই লেনদেনের প্রথম অর্ধেক সময় পুঁজি বাজারগুলো পার করে সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে। মনে হচ্ছিল বিনিয়োগকারীরা বুঝে উঠতে পারছিলেন না কী করবেন। ফলে দুই পুঁজি বাজারের সূচকগুলো এই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে তো পরক্ষণেই আবার বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে নিম্নমুখী হয়ে পড়ছিল। তবে দুপুর ১২টার পর এ অস্থিরতার অবসান হয়। দিনের বাকি সময় বাজার আচরণের পরিবর্তন ঘটলে সূচকের বড় উন্নতি দিয়েই ২২ জুলাই দিন শেষ করে পুঁজি বাজারগুলো।
২২ জুলাই সকালে লেনদেন শুরুর সাথে সাথেই বিক্রয়চাপের শিকার হয় দুই পুঁজি বাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের পাঁচ হাজার ২১৯ দশমিক ৬২ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে ১৫ মিনিটের মাথায় নেমে আসে পাঁচ হাজার ২০০ পয়েন্টে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্রয়চাপ কাটিয়ে সূচকটি আবার পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ২৪০ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ২০ পয়েন্টের মতো। তবে এ প্রবণতাও বেশিক্ষণ টেকেনি। বেলা ১১টায় ডিএসই সূচক ফের নেমে আসে পাঁচ হাজার ২০৭ পয়েন্টে।
পরবর্তীতে ফের ঊর্ধ্বমুখী আচরণ করা সূচকটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ২৪২ পয়েন্টে। কিন্তু আধঘণ্টার মাথায় আবার তা নেমে আসে পাঁচ হাজার ২১০ পয়েন্টে। এভাবেই প্রথম দু’ঘণ্টা পার করে দেশের প্রধান পুঁজি বাজারটি। এ সময়টিতে বাজারের গতিও ছিল বেশ দুর্বল। এর কিছুক্ষণ পরই বাজার পরিস্থিতির ফের উন্নতি ঘটতে থাকে। দিনের বাকি সময় বড় কোনো বিক্রয়চাপ তৈরি না হলে দিনশেষে পাঁচ হাজার ২৭০ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে পৌঁছে যায় ডিএসই সূচক। এতে ৫০ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে প্রধান সূচকটির। একইভাবে ডিএসইর অন্য দুই সূচকও ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ৩৮ ও ১৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
অনুরূপ বাজার আচরণের পর দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসই সার্বিক মূল্যসূচক ২২ জুলাই ৮১ দশমিক ১১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। বাজারটির অন্য দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১৭৯ দশমিক ৯৯ ও ৫৮ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট। তিনটি সূচকই লেনদেনের প্রথমদিকে বড় ধরনের অবনতির শিকার হলেও পরবর্তীতে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায় উন্নতি ঘটে সূচকের।
পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আগের দিন জাতীয় জীবনে বড় একটা বিপর্যয় ঘটল যা সর্বস্তরের বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের ট্রমার মধ্যে ফেলে। ২২ জুলাই লেনদেনের শুরুতে তারা দীর্ঘক্ষণ সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে ছিলেন। পরবর্তীতে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠলে বাজার আচরণ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। দিনশেষে তারই চিত্র ফুটে ওঠে সূচকের উন্নতিতে। তবে তাদের মতে, গত কয়েক দিন ধরে পুঁজি বাজার সূচকের ধারাবাহিক উন্নতি বাজারের মূল্যস্তরকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত হবে খুবই সচেতনতার সাথে। তা না হলে বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
সূচকের বড় উন্নতি ঘটলেও দিনের শুরুতে বাজারের শ্লথগতি দুই বাজারেই লেনদেনকে প্রভাবিত করে। এতে হ্রাস পায় বাজারগুলোর লেনদেন। ডিএসই ২২ জুলাই ৭২২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১৩৮ কোটি টাকা কম। ২১ জুলাই বাজারটির লেনদেন ছিল ৮৬০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা থেকে লেনদেন নেমে আসে ছয় কোটি ৬২ লাখ টাকায়।
২২ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। ২৯ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ২৮ লাখ ৪১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ২২ জুলাই । ২০ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় ৯৩ লাখ ১৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিটি ব্যাংক। ১৯ কোটি ৮৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ্, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্ট।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৩টির মধ্যে ১৭৩টির দর বেড়েছে। ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে সবচেয়ে মূল্যবৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে উঠে আসে খাদ্য খাতের কোম্পানি গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ দর বৃদ্ধি পাওয়া সিরামিক খাতের বহুজাতিক কোম্পানি আর এ কে সিরামিকস উঠে আসে দ্বিতীয় অবস্থানে।
এ ছাড়া, দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি হইডেলবার্গ সিমেন্ট ৮.৭৫ শতাংশ, অ্যাডভেন্ট ফার্মা ৭.৮৯ শতাংশ, গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান : স্কিম ২ ৭.৬৯ শতাংশ, লিন্ডে বিডি ৭.১৮ শতাংশ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ৭.১৭ শতাংশ, শমরিতা হাসপাতাল ৫.৪০ শতাংশ ও সমতা লেদার ৫.৩৭ শতাংশ দর বেড়েছে।
অপরদিকে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫১টির দর কমেছে। ২২ জুলাই সবচেয়ে বেশি দর কমেছে রেনউইক যজ্ঞেশ্বর এর। ৫.৪৮ শতাংশ দর হারিয়ে পতনের তালিকার শীর্ষে চলে গেছে কোম্পানিটি। ৫.২০ শতাংশ দর হারিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল বীমা কোম্পানি দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। ৫.০০ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে নিউ লাইন কোথিং। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে-সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ৪.৯৮ শতাংশ, প্রাইম ফাইন্যান্স ৪.৩৫ শতাংশ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩.৯০ শতাংশ, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ৩.৬৫ শতাংশ, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ৩.৪৫ শতাংশ, খুলনা পাওয়ার ৩.৩৯ শতাংশ এবং মেট্রো স্পিনিংয়ের ৩.৩৩ শতাংশ দর কমেছে। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/২৩ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 months আগে
