অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দুই দিন সংশোধনের পর ১৫ জুলাই পুঁজি বাজারগুলো দিনের বেশির ভাগ সময় সূচকের উন্নতি ধরে রাখলেও শেষ মুহূর্তে এসে পতনের শিকার হয়। দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক সূচকের মিশ্র আচরণে দিন শেষ করলেও চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে সবগুলো সূচকেরই কমবেশি অবনতি ঘটে। সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করা দুই পুঁজি বাজারেই লেনদেনের মাঝামাঝি পর্যায়ে সূচকের বড় উন্নতি রেকর্ড করা হয়। কিন্তু দিনের শেষভাগে বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে দুই বাজার।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ১৫ জুলাই নামমাত্র (দশমিক ৩৬ পয়েন্ট) উন্নতি ধরে রাখলেও অপর দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৯ দশমিক ০৯ ও ১ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৫ হাজার ৬১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি দুপুর ১২টার দিকে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৮৭ দশমিক ৫১ পয়েন্টে। এ সময় সূচকটি ২৫ পয়েন্টের বেশি উন্নতি রেকর্ড করা হয়। কিন্তু বেলা ১টার পর বাজারে বিক্রয়চাপ তৈরি হলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচক ফের নিম্নমুখী হতে শুরু করে। দিনের বাকি সময় এ চাপ আর কাটিয়ে ওঠতে পারেনি ডিএসই। আর এভাবে সূচকের নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয় বাজারটি।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক এদিন ৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। এখানে অন্য দু’টি সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৬৭ দশমিক ৩৩ ও ২ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায় উভয় পুঁজি বাজারেই সবচেয়ে বেশি পতন শিকার হয়েছে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি দিয়ে গড়া সূচকটি।
পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দিনের শুরু থেকে বাজারের যে আচরণ ছিল তা বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বস্থির ইঙ্গিত বহন করে। এ সময় লেনদেনও কিছুটা গতি ফিরে পায়। কিন্তু লেনদেনের শেষ মুহূর্তে তৈরি হওয়া বিক্রয়চাপ বাজারের সাবলিলতায় ছন্দপতন ঘটায়। তাদের মতে, সংশোধনের কারণে গতকাল এ বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। দিনশেষে বাজারগুলোতে লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা তারই প্রমাণ। একই সাথে ১৫ জুলাই ডিএসইর লেনদেনেও বেশ গতি ছিল। সচরাচর বাজারে বিক্রয়চাপ তৈরি হয়, লেনদেনও গতি হারায়।
এদিকে পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত সিরামিক খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সিরামিক পণ্য রফতানির জন্য একটি চুক্তি স্বার করেছে। চুক্তি অনুসারে বিশ্বের অন্যতম প্রিমিয়াম টেবলওয়্যার ব্র্যান্ড লেনক্স করপোরেশন মুন্নু সিরামিকের কাছ থেকে এসব পণ্য কিনে ওই দেশের বাজারে বিক্রি করবে।
১৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত এইচআরকে লিগ্যাসি ভবনে অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়। ১৫ জুলাই দুই পুঁজি বাজারের ওয়েবসাইটে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কোম্পানি কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে, চুক্তির আওতায় মুন্নু সিরামিক লেনক্স করপোরেশনের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এক্সকুসিভ ভেন্ডার হিসেবে উচ্চমানের পোর্সেলিন ও বোন চায়না পোর্সেলিন ডিনারওয়্যার সরবরাহ করবে। মাসে কমপক্ষে ২০ লাখ পিস পোরসেলিন ডিনারওয়্যার উৎপাদনের সমতা নিয়ে কোম্পানিটি কাজ শুরু করবে। এটি মুন্নু সিরামিকের উৎপাদন মতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের একটি বড় ধাপ।
মুন্নু সিরামিক নিশ্চিত করেছে, তাদের উন্নতমানের উৎপাদন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষত মার্কিন ফেডারেল মানদণ্ড অনুসারে। লেনক্সের নান্দনিকতা, উদ্ভাবন ও গুণগত মানের সাথে সমন্বয় করে এই অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চুক্তি উভয়পরে জন্যই উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুফল বয়ে আনবে। লেনক্স করপোরেশনের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, বর্ধনযোগ্য ও ব্যয় সাশ্রয়ী সাপ্লাই চেইন গঠিত হবে, যা তাদের মান ও উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতকে আরো শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে মুন্নু সিরামিকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে একটি দৃঢ় উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সাথে সংযুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে (MADE IN BANGLADESH) ব্রান্ড ও কারিগরি প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হবে। এটি কোম্পানির (ORGANIC GROWTH) প্রাকৃতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানির কৌশলগত অংশীদারিত্ব কোম্পানিটির রফতানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থিক অবস্থান মজবুত করবে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ও শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১৫ জুলাই লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড। ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪১ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ জুলাই। ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় ৭০ লাখ ৯২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড। আর ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মুন্নু সিরামিকস লিমিটেড। দিনের লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ছিল মাগুরা মাল্টিপ্লেক্স, বিচ হ্যাচারি, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং কাসেম ইন্ডাস্ট্রিস।
এদিন বাজারটিতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস। কোম্পানিটির দর ১০ শতাংশ বেড়েছে। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মনস্পুল বাংলাদেশের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে এপেক্স ট্যানারি লিমিটেড।
এ ছাড়া ১৫ জুলাই ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস, মাগুরা মাল্টিপ্লেক্স, বাংলাদেশ অটোকারস, জাহিন স্পিনিং এবং সেনা ইন্স্যুরেন্স।
ডিএসইতে ১৫ জুলাই সবচেয়ে বেশি দর কমেছে বীমা কোম্পানি এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ হ্রাস পায়। দরপতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের দর কমেছে ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল ইউনিয়ন ক্যাপিটালস, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস, ইবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ডর, প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের, আরএকে সিরামিকস, বেক্সিমকো ফার্মা, এআইবিএল ১ম ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড এবং ফার্স্ট ফাইন্যান্স। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/১৬ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 8 months আগে

