অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সূচকের সামান্য অবনতি ঘটলেও দেশের পুঁজি বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা জারি রয়েছে। ১৬ মার্চ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে উভয় বাজারেই বেশ কিছু কোম্পানিকে দিনের মূল্যবৃদ্ধির সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে উঠে যেতে দেখা যায়। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলেই এটি ঘটে। দিনশেষে বেড়েছে বাজারের লেনদেন।
এ দিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাজের উন্নয়ন ও গতিশীলতা আনতে সংস্থাটির নিজস্ব কর্মকর্তাদের ওপর নিরঙ্কুশ নির্ভরশীলতা কাটাতে চান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) থেকে তিনজন নির্বাহী পরিচালক, তিনজন পরিচালক, একজন কমিশন সচিব এবং ১২ জন যুগ্ম/অতিরিক্ত পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ করতে চান। এ জন্য দ্রুত পদায়নের দাবি জানিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করার কথা জানান তিনি। চেয়ারম্যান মনে করছেন, এ েেত্র কমিশনের অনেক বিষয় গোপনীয়তা বজায় থাকবে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, পুঁজি বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে ৫ মার্চ সংঘটিত কার্যক্রম এবং এ জন্য কমিশনের তরফ থেকে নেয়া পদপে ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। সেই সাথে বিএসইসিতে হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়াসহ প্রতিষ্ঠানের ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল ও দ্রুত প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে ৯ দফা সুপারিশ করেছে কমিশন।
অর্থ উপদেষ্টার কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেছেন, বিভিন্ন গুরুতর অনিয়মের কারণে সাবেক নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে অবসর দেয়া হয়।
এ ছাড়া সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম ও রেজাউল করিম, পরিচালক শেখ মাহবুব-উর-রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক এবং এস কে মো. লুৎফুল কবির ও যুগ্ম পরিচালক মো. রশিদুল আলমের বিরূদ্ধে শেয়ার কেলেঙ্কারিসহ শেয়ারবাজার লুটপাটে সহযোগিতার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এটি তদন্ত রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে। ঘটনার দিন কমিশনের উচ্ছৃঙ্খল এবং উদ্ধত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাবেক নির্বাহী পরিচালকের অবসরের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। একই সঙ্গে তারা কমিশন যাদের শেয়ার কারসাজি ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে তা প্রত্যাহার এবং এ সম্পর্কিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ গ্রহণ না করতে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অফিসে ভাঙচুর চালায়।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সরকারি চাকরি বিধির পরিপন্থী অনাকাক্সিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে কমিশন গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আরো কার্যক্রম গ্রহণ করা আবশ্যক বলে কমিশন মনে করে।
বাজার পর্যালোচনা- দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ১৬ মার্চ ৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট হারায়। বাজারটির অপর দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৯৫ ও ১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ছিল সূচকের মিশ্র আচরণ। এখানে সাাির্বক মূল্যসূচক ও সিএসইস এক্স সূচকের যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫২ ও ৫ দশমিক ১৯ পয়েন্ট উন্নতি ঘটলেও সিএসই-৩০ সূচকটির ৯ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট অবনতি ঘটে।
১৬ মার্চ ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে স্কয়ার ফার্মা। ১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৬ লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় দুই লাখ ৮২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, শাইনপুকুর সিরামিকস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, লভেলো আইসক্রিম, লিনডে বাংলাদেশ, গোল্ডেন হারভেস্ট, কাট্টলি টেক্সটাইলস ও বিচ হ্যাচারিজ। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেনে এগিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল লভেলো আইসক্রিম, ফাইন ফুড, ওয়ান ব্যাংক, একমি ল্যাবরেটরিজ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ ও লিনডে বাংলাদেশ।
ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় ১৬ মার্চ কমপক্ষে ছয়টি কোম্পানি দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে লেনদেন হতে দেখা যায়। এসব কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এগুলো ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, বসুন্ধরা পেপার, এস আলম কোল্ডরোল স্টিলস, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস ও দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। এ তালিকায় আরো ছিল এস্কয়্যার নিটিং, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্স।
অন্য দিকে চট্টগ্রামে দিনের সর্বোচ্চ দরে উঠে আসে কমপক্ষে ৯টি কোম্পানি। এগুলোর মধ্যে ছিল বিডি ফিন্যান্স, শমরিতা হাসপাতাল, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস, ক্রাউন সিমেন্ট, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বসুন্ধরা পেপার, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, এস আলম কোল্ড রোল স্টিলস ও শাইনপুকুর সিরামিকস।
ঢাকায় দরপতনের শীর্ষে ছিল লিনডে বাংলাদেশ। ১৬ মার্চ কোম্পানিটি ৪০০ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এ নিয়ে গত এক বছরে এ বহুজাতিক কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের মোট ৬ হাজার ৪০০ শতাংশ তথা প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ৬৪০ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গতকাল লভ্যাংশ ঘোষণার দিনই ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।
দরপতনের তার্লিকায় অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ৭ দশমিক ০১, আরামিট সিমেন্ট ৫ দশমিক ১৯ ও মিথুন নিটিংয়ের ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ দরপতন ঘটে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে দরপতনের শীর্ষে ছিল সোনালি পেপার। এখানে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। এ ছাড়া মুন্নু সিরামিকস ৯ দশমিক ৩৭, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ৮ দশমিক ১২ ও লিনডে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর হারায়। দরপতনের তালিকায় অন্য কোম্পানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিএসআরএম লি., ডরিন পাওয়ার, সন্ধানী লাইফ ও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/১৬ মার্চ, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 12 months আগে

