অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নিয়মিত অর্থ পরিশোধের কারণে আদানি পাওয়ারের বকেয়া পাওনা ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ১ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা করে পাচ্ছে আদানি। আদায়ের এই পরিমাণ নিয়মিত মাসের বিলের চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়ায় বকেয়া ধীরে ধীরে আরও কমবে বলে আশাবাদী ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ কোম্পানিটির পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা)।
সম্প্রতি এক বার্ষিক সভায় আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস বি খালিয়া বিনিয়োগকারীদের এসব তথ্য জানান। খালিয়া বলেছেন, বিপিডিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। গত মাসেও ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমাদের বকেয়া পাওনা সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল।
এ ছাড়া উভয়পক্ষের মধ্যে অমীমাংসিত কিছু বিষয় নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের (এসআইএসি) দ্বারস্থ হয়েছে আদানি পাওয়ার।
এই প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কাজ করতে উভয়পক্ষই প্রতিনিধি মনোনীত করেছে। এ-সংক্রান্ত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। চলতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। উৎপাদন করা হয় গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। আর শীতে চাহিদা কমে ১০ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নামে। ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বাংলাদেশে।
‘জুন-জুলাই মাসে আমাদেরে এককালীন একটি বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছে বিপিডিবি। এটি বাংলাদেশ থেকে আমাদের এই পাওনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। প্রান্তিকভিত্তিক তুলনা করলে বকেয়া পাওনা এখন বেশ ভালোভাবেই কমে এসেছে’, বলছিলেন সিইও খালিয়া।
সর্বশেষ হালনাগাদ 48 minutes আগে

