ফাতেমা আক্তার>
চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের পরীক্ষিত অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। তবে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের বড় একটি বৈশিষ্ট্য হলো—বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ পণ্য চীন থেকে আমদানি করলেও রফতানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশকে। এ বাস্তবতায় রফতানি বৃদ্ধি এখন ঢাকা-বেইজিং অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের রফতানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফর। সরকারের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সফরটি সফল হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ হবে। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি বর্তমানের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং ওষুধশিল্পের পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, বাজারসংক্রান্ত জটিলতা এবং পর্যাপ্ত বিপণন সুবিধার অভাবে সেই সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাজারে প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ, বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং শিল্প খাতে যৌথ উদ্যোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ আসতে পারে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানো গেলে দেশের রফতানি আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে নতুন বাজার সম্প্রসারণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তাদের প্রত্যাশা, সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে কার্যকর সিদ্ধান্ত এবং নতুন সমঝোতা সামনে আসবে, যা বাংলাদেশের রফতানি খাতকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে।
আমরা আশা করবো, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মাধ্যমে নতুন বাজার সম্প্রসারণ ঘটবে। জোরদার হবে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ। দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি যেমন বাড়বে, তেমনি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কাটিয়ে উঠে গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি।
লেখিকা : গণমাধ্যমকর্মী।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

