অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বিক্রয়চাপ প্রতিনিয়তই অস্থির করে তুলছে পুঁজি বাজারকে। এর ফলে প্রতিদিনই পুঁজি বাজারগুলোতে অবনতি ঘটছে লেনদেন ও সূচকের। বরাবরই লেনদেনের প্রথমদিকে ঊর্ধ্বমুখী থাকা সূচক দিনশেষে তা ধরে রাখতে পারছে না। একটি সময় বড় পতনের মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে লেনদেন। ২২ সেপ্টেম্বর নিয়ে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিনই বড় ধরনের সূচক হারিয়েছে দেশের দুই পুঁজি বাজার। এ দুই দিনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটে ১১২ পয়েন্টের বেশি। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক হ্রাস পায় ২৫৮ পয়েন্ট। এরই সাথে প্রতিনিয়তই অবনতি ঘটে চলেছে লেনদেনের।
বাজার সংশ্লিষ্টরা এতদিন বিষয়টিতে সংশোধন হিসেবে দেখলেও এখন তা মনে করছেন না। তারা মনে করেন, নানা কারণে বাজারে আবার আস্থাহীনতা ভর করছে। বিশেষ করে কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে পুঁজি বাজার। তারা বেশ কয়েকটি স্বল্প মূলধনের কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বাজারে এক ধরনের অনৈতিক খেলায় মেতে ওঠে যেগুলো মৌলভিত্তির দিক থেকে বেশ পিছিয়ে। একটি বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দর গত দুই মাসে ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়াই তার প্রমাণ। এ ধরনের আরো কিছু কোম্পানি শুধুমাত্র স্বল্প মূলধনকে পুঁজি করে কয়েক শ’ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে দেখা গেছে।
কিন্তু এসব ক্ষেত্রে পুঁজি বাজার কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়গুলো প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তা ছাড়া সস্প্রতি এনবিআরের নেয়া একটি পদক্ষেপ যা প্রকৃত অর্থে যথাযথ হলেও তার প্রক্রিয়টা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এসব কারণে বাজারে আবার আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ সেপ্টেম্বর ৪৪ দশমিক ৭০ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৫ হাজার ৩৮১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ২২ সেপ্টেম্বর দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৩৩৭ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। এ নিয়ে টানা চার দিন সূচক হারাল পুঁজি বাজারগুলো। আর এ চার দিনে ডিএসইয়ের প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটেছে ২৭২ পয়েন্ট। একই সময়ে লেনদেন প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। ৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইয়ের লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সার্বিক মূল্যসূচক ২২ সেপ্টেম্বর ১২০ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ১৫ হাজার ১৯৯ দশমিক ১৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলেও দিনশেষে সূচকটি ১৫ হাজার ৭৮ দশমিক ৯১ পয়েন্টে স্থির হয়। সিএসইয়ের বিশেষায়িত দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৮৬ দশমিক ৪২ ও ৬৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। তবে এদিন বাজারটির লেনদেনের কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। আগের দিনের ১৪ কোটি টাকার স্থলে ২২ সেপ্টেম্বর বাজারটির লেনদেন দাঁড়ায় ২০ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে একটি ওষুধ কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশনের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি টাকার বেশি।
২২ সেপ্টেম্বর ডিএসইয়ের লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল জীবন বীমা কোম্পানি ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪৭ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ২২ সেপ্টেম্বর। ২৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ৫৯ লাখ ২৪ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট। এ ছাড়া ডিএসইয়ের লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, টেকনো ড্রাগস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইনফরমেশন সার্ভিসে নেটওয়ার্ক ও ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং।
এদিন ডিএসইয়ের মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল বিডি অটো কারস। ডিএসইয়ের মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, সাউথইস্ট ব্যাংক, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সিলকো ফার্মা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, তাশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ওরিয়ন ইনফিউশন।
২২ সেপ্টেম্বর ডিএসইয়ের দরপতনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল বারাকা পাওয়ার। ১০ শতাংশ দরপতনের শিকার হয় কোম্পানিটি। ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ ছাড়া ডিএসইয়ের দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ, জাহিন স্পিনিং ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, ক্রাউন সিমেন্ট ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, ফাস ফিন্যান্স ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, নিউলাইন কদিংস ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিং ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ , আজিজ পাইপস ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ দর হারায়। ●
অকা/পুঁবা/ফর/সন্ধ্যা/২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 months আগে

