অর্থকাগজ প্রতিবেদন
সাত দিন টানা দরপতনের পর আবারো ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে দেশের পুঁজি বাজার। ১৭ আগস্ট টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশের দুই পুঁজি বাজারে সবগুলো সূচকের উন্নতি ঘটতে দেখা যায়। পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মাসব্যাপী সূচকের টানা উন্নতি ঘটার পর গত দুই সপ্তাহে সাত কর্মদিবস সংশোধনের মধ্য দিয়ে যায় পুঁজি বাজারগুলো। এ সময় দেশের প্রধান পুঁজি বাজারে প্রধান সূচকটি ২২২ পয়েন্ট হ্রাস পায়। তবে ১৭ আগস্ট দুই দিনের হারানো সূচকের ৮৫ পয়েন্টের বেশি ফিরে পেয়েছে বাজারটি। আর এর মাধ্যমে বাজার আবারো ইতিবাচক ধারায় ফিরছে।
১৭ আগস্ট দেশের দুই পুঁজি বাজারে সবগুলো সূচকের কমবেশি উন্নতি রেকর্ড করা হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সকালে ৫ হাজার ৩৫০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৪০১ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে। কোনো ধরনের বিক্রয়চাপ ছাড়াই সূচকের উন্নতি ঘটে এ দিন। এ সময় লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর বেশির ভাগই উঠে আসে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়। একই সময় ডিএসইর অপর দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ২২ দশমিক ১৩ ও ৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৭ আগস্ট ১২৪ দশমিক ০৫ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ১৪ হাজার ৯৬০ দশমিক ২৯ পয়েন্ট থেকে শুরু করা সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ১৫ হাজার ৯৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে। সিএসইর অপর দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৯৫ দশমিক ৩৪ ও ৭৮ দশমিক ০৬ পয়েন্ট। এখানেও সূচকগুলোর উন্নতি ছিল সাবলীল এবং বড় কোনো বিক্রয়চাপ ছাড়াই তা ঘটে।
ঢাকা শেয়ার বাজার ১৭ আগস্ট ৮০১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৯৮ কোটি টাকা বেশি। ১৪ আগস্ট বাজারটির লেনদেন ছিল ৭০৩ কোটি টাকা। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে চার কোটি ৬১ লাখ টাকা থেকে ১৩ কোটি ছয় লাখ টাকায় পৌঁছে লেনদেন। ৯ কোটি টাকার বেশি লেনদেন বাড়ে বাজারটির।
এ দিকে ১৭ আগস্টের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায় দুই পুঁজি বাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির দিকেই ছিল বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক। ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২২০টি কোম্পানির লেনদেন নিষ্পত্তি ঘটলেও এদের মধ্যে দর বেড়েছে ১২২টির। কমেছে ৭৮টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ২০টি কোম্পানির শেয়ারদর। অন্য দিকে ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ৮৩টির লেনদেন নিষ্পত্তি হলেও এদের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫২টির। দর কমেছে ২৩টির। আর দর অপরিবর্তিত ছিল আটটির। আবার ‘জেড’ গ্রুপে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭ আগস্ট ৯৫টির লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ৩৪টির এবং দর অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির। সে হিসাবে ‘জেড’ গ্রুপে বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারিয়েছে।
পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরলে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক থাকে ভালো কোম্পানির দিকে। আবার বাজারে মন্দা চলতে থাকলে অপেক্ষাকৃত খারাপ কোম্পানিতেই ঝোঁক বেড়ে যায়। গত কয়েক দিনের বাজার আচরণ দেখলে এটিই স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় স্বল্প মূলধনই ছিল বিনিয়োগকারীদের প্রধান বিবেচ্য। আর এর ফলে গত কয়েক দিনে স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলো লাগাম ছাড়া দাম বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্যাংকিং কোম্পানি সিটি ব্যাংক। ৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ৪৮ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৭ আগস্ট। ২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকায় ২৩ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। এ ছাড়া ২৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, মালেক স্পিনিং মিলসথ, যমুনা ব্যাংক, মাগুরা মাল্টিপ্লেক্স, ডোমিনেজ স্টিলস ও সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি।
১৭ আগস্ট ডিএসই দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি দেশ গার্মেন্টস লিমিটেড। এ দিন কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল একই খাতের হাওয়েল টেক্সটাইলস। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে জিকিউ বলপেন, একমি পেস্টিসাইড, স্কয়ার টেক্সটাইলস, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, মুন্নু সিরামিকস ও সিভিও পেট্রোকেমিক্যালস রিফাইনারি। মূল্যবৃদ্ধির এ তালিকায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে ১৭ আগস্ট বাজারে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় সব খাতের কোম্পানিই জায়গা করে নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে টেক্সটাইলস খাতের আধিপত্য ছিল।
১৭ আগস্ট ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৮ কোম্পানির মধ্যে দর হারায় ১৩৫টি। দরপতনের এ তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোম্পানিটি ১৭ আগস্ট ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ দর হারায়। ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। দরপতনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে লিগেসী ফুটওয়্যার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সাফকো স্পিনিং, উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আরামিট লিমিটেড, জনতা ব্যাংক, ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, রিজেন্ট টেক্সটাইলস ও পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/১৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 months আগে

