বিশেষ প্রতিনিধি>

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহর সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আগামী বছরের মধ্যে লিজের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০টি এয়ারক্রাফট যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বিমানের বহরে লিজে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের সংখ্যা বেড়ে হবে ২৯টি, যা বর্তমান বহরের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির বাইরে আলাদাভাবে নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হলেও সেগুলোর সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে। একই সময়ে এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় নির্মাতার কাছ থেকেই ২০৩০ সালের আগে নতুন উড়োজাহাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বাড়তে থাকা যাত্রীচাহিদা ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মধ্যবর্তী সময়ের সমাধান হিসেবে লিজের পথ বেছে নিয়েছে বিমান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, শুরুতে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিচালনাগত প্রয়োজন ও নতুন রুট সম্প্রসারণের ভিত্তিতে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে উন্নীত করা হতে পারে।

তিনি বলেন, "এ বছরের মধ্যেই লিজ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাই। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন গন্তব্যে সেবা চালু করা সহজ হবে।"

লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরো লিজ প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে বিমান ইতোমধ্যে ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হবে।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান ১৪টি অত্যাধুনিক বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর আওতায় ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স সংগ্রহ করা হবে।

বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির পর এয়ারবাসও বিমানকে ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রয়েছে ৬টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ৪টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। এ৩৫০-৯০০ মডেলে ৩৮টি বিজনেস, ২৮টি প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ২১৪টি ইকোনমি—মোট ২৮০টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে এ৩২১নিও উড়োজাহাজে ২৮টি বিজনেস ক্লাসসহ মোট ২১৫টি আসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এর মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড রয়েছে। 

সর্বশেষ হালনাগাদ 24 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version