অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
লেনদেনের শুরুতে সূচকের উন্নতি ঘটিয়ে পরক্ষণেই বিক্রয়চাপে বাজারে তৈরি হয় অস্থিরতা। এটাই যেন সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজি বাজারে একটি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি দিনই দিনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বাজারে ইতিবাচক ধারায় ফেরার চেষ্টা করলেও বরাবরই বিক্রয়চাপ তাতে ছন্দপতন ঘটায়। ২৫ সেপ্টেম্বরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ২৫ সেপ্টেম্বর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচকের বড় উন্নতি দিয়ে লেনদেন শুরু করা বাজারগুলো দিনের শেষভাগে এসে ব্যাপক বিক্রয়চাপের মুখে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের মাত্র এক-তৃতীয়াংশই ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসটি পুঁজি বাজারের বেশ ভালোই কাটছিল। বেশ ক’দিনের মন্দাভাব কাটিয়ে বুধবার ইতিবাচক ধারায় ফিরে পুঁজি বাজারগুলো। এরই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে সূচকের উন্নতি দিয়েই শুরু হয় বাজারগুলোর লেনদেন। ২৫ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৩৯২ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪৩৮ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৪৫ পয়েন্ট। এখান থেকেই প্রথমবার বিক্রয়চাপ শুরু হয়। তবে প্রথমদিকের এ চাপ দ্রুতই সামলে নেয় বাজারটি। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে ডিএসই সূচক। বেলা পৌনে ১টার সূচকটি পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৪৫৫ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকটির উন্নতি ঘটে ৬৩ পয়েন্ট। এর পরই দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ শুরু হয়, যা লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এভাবে দিনশেষে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের মাত্র ২২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট টিকে থাকে। বাজারটির অপর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ এ সময় যথাক্রমে ১১ দমমিক ৭৮ ও ৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সবগুলো সূচকের উন্নতি ঘটে ২৫ সেপ্টেম্বর। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক ৬৫ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ১৫ হাজার ২৭ দশমিক ১৫ পয়েন্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে যাত্রা শুরু করলেও দিনশেষে সূচকটি স্থির হয় ১৫ হাজার ৮৮ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে। সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স-এর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৩৮ দশমিক ২২ ও ৩৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট।

বিক্রয় চাপের ফলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের একটি বড় অংশ হারালেও ২৫ সেপ্টেম্বর দুই পুঁজি বাজারেই লেনদেনের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। ঢাকা শেয়ার বাজার ৭০৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে ২৫ সেপ্টেম্বর যা আগের দিন অপেক্ষা ১৩২ কোটি টাকা বেশি। ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএসইর লেনদেন ছিল ৫৭৬ কোটি টাকা। অপর দিকে, চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেন হয় ২১ কোটি টাকা। আগের দিন এখানে ১০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছিল।

এ দিকে পুঁজি বাজার উন্নয়নের অংশ হিসাবে দেশের সিরামিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজি বাজারের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) তালিকাভুক্তির সুযোগ নিতে কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ সিরামিকস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সাথে ডিএসই কর্তৃপক্ষের এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। ডিএসইর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএসইর প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস সংগঠনটির সব সদস্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নের ধারায় সিরামিক শিল্প একটি দ্রুত বর্ধনশীল ও সম্ভাবনাময় খাত। দেশীয় বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমাদের সিরামিক পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারেও গুণগত মানের জন্য সুপরিচিত হয়ে উঠেছে। এই শিল্পের বিকাশ শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেই নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে ব্যাংকের পরিবর্তে পুঁজি বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি তারল্য সঙ্কট মেটানোর আহ্বান জানান। ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, ডিএসই ও সিরামিক শিল্প খাতের কোম্পানিগুলোর পুঁজি বা মূলধন জোগানের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধন সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারে। এ ছাড়া পুঁজি বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা হলে তাতে কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।

এ সময় ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক সাঈদ মাহমুদ জুবায়ের এক প্রেজেন্টেশন-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজি বাজারের কাঠামোগত ওভারভিউ, ডিএসইর প্রোডাক্ট সমূহ, ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের পুঁজি বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া, এটিবি ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মালিকানা হস্তান্তরের তুলনা, তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া, বিভিন্ন ধরনের ইনভেস্টমেন্ট অপশন, তালিকাভুক্তির সুবিধা এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের জন্য চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

ডিএসইর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিসিএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদ, এফসিএমএ বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জে সিরামিক সেক্টরসহ অন্যান্য ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির জন্য আইপিও প্রক্রিয়াকে স্বল্পতম সময়ে সম্পন্ন করা জরুরি। একই সাথে লিস্টিং পরবর্তী কমপ্লায়েন্স অধিকতর সহজ করা প্রয়োজন। তিনি ডিএসই ও বিসিএমইএ উভয় প্রতিষ্ঠান আগামীতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে পুঁজি বাজারে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানিগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল মার্কেট, এসএমই বোর্ডে এবং অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)-এর তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া ও সুবিধা নিয়ে অ্যাসোসিয়েশনসহ সিরামিক সেক্টরের কর্ণধারদের নিয়ে একটি সেমিনার আয়োাজনের অনুরোধ জানান। ●

অকা/পুঁবা/ফর/সন্ধ্যা/২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 5 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version