অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দেশের পুঁজি বাজার। ইরানে মার্কিন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুন ব্যাপক বিক্রয়চাপে থাকা বাজার ২৩ জুন এ চাপ সামলে নেয়। দিনের শুরুতে কিছুটা চাপের মধ্যে থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও ক্রয়াদেশ বাড়লে দ্রুতই চাপ সামলে নিতে সক্ষম হয় দেশের দুই পুঁজি বাজার। দিনশেষে উভয় বাজারে সূচকের উন্নতির পাশাপাশি লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশিরভাই মূল্য বেড়েছে। এতে ২২ জুন হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায় বিভিন্ন কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দায় আক্রান্ত পুঁজি বাজারে বিনিয়োগকারীরা এমনিতেই খুবই অস্বস্থির মধ্য দিয়ে পার করছেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নতুন করে ইরানের ওপর হামলা এ যুদ্ধকে আরো ব্যাপকতার দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে রোববার বাজারে ব্যাপক বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে হয়তো বিনিয়োগকারীরা তাদের ভুল বুঝতে পারেন। এ কারণে ২৩ জুন অনেকটা চাপমুক্ত ছিল বাজার। তাদের মতে, বিশ্ব বাজারের সাথে আমাদের পুঁজি বাজারের খুবই একটা সম্পর্ক নেই। এখানে নেই বড় কোনো বিদেশী বিনিয়োগ যা বৈশ্বিক যেকোনো ভালো-মন্দের কারণে খুব বেশি প্রভাবিত হতে পারে। তাই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে বিনিয়োগকারীদের উচিত আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি যাচাই করা। তাতে তাৎক্ষণিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩ জুন ১৭ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়েছে। ৪ হাজার ৬৭৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনের শেষে পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৬৯৫ দশমিক ০৩ পয়েন্টে। লেনদেনের প্রথম একঘণ্টা বাজারে কিছুটা বিক্রয়চাপ থাকলে পরে তা কাটিয়ে উঠে দুপুর ১২টার দিকে সূচকটি পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭০৯ পয়েন্টে। পরে তা ৪ হাজার ৬৯৫ দশমিক ৪২ পয়েন্টে স্থির হয়। এ সময় ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯১ ও ৭ দশমিক ২৯ পয়েন্ট।

অপরদিকে ২৩ জুন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের কিছুটা মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। সার্বিক মূল্যসূচক ২৪ দশমিক ৯৯ ও সিএসিএক্স সূচক ১৯ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বাড়লেও সিএসই-৩০ সূচকটি ১১ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়।

এদিকে পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট নিরীক প্রতিষ্ঠান। ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থ বছরের নিরীতি আর্থিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

নিরীা প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগের পরিপ্রেেিত পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিদর্শন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। ডিএসইর একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, নিরীকের মতামতের ভিত্তিতে সেন্ট্রাল ফার্মার সার্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিদর্শন করা প্রয়োজন। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস-২০২০ এর রেগুলেশন ১৭ এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিস্টিং) রেগুলেশন-২০১৫ এর রেগুলেশন ৫৪(১) এর অধীনে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষ করে পরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন বিএসইসিতে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।

তদন্ত করতে গিয়ে যেসব বিষয় ডিএসই খতিয়ে দেখবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- ৩০ জুন, ২০২৩-২৪ সমাপ্ত অর্থ বছরে কোম্পানির ১০৪ কোটি ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯১০ টাকা লোকসান এবং ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫১ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পারা। নিরীক কোম্পানির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার মতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় তা পরীা এবং চলমান পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি আছে কি না তা যাচাই করা। এ ছাড়া ব্যাংক ব্যালেন্স নিশ্চিতকরণসহ প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখা এবং ইসলামী ব্যাংকের শ্যামলী শাখায় কোম্পানির বর্তমান হিসাব ও অন্যান্য আমানতও পরীা করা হবে।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থ বছরের নিরীতি আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ার হোল্ডারদের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। সমাপ্ত অর্থ বছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় ৩৫ পয়সা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থ বছরে কোম্পানির প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদ মূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ০৬ পয়সা।

সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ২০১৩ সালে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি এবং এর মোট পরিশোধিত মূলধন ১১৯ কোটি ৮০ লাখ ৮৪৪ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪৪টি। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের কাছে ৭.৬৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬.২০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮৬.১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

২৩ জুন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম। এদিন ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১৯ লাখ ৯১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিডল্যান্ড ব্যাংকের ১২ কোটি ০১ লাখ টাকায় ৫০ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে আরো ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, বিএটিবিসি, সি পার্ল বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড। ●

অকা/পুঁবা/ফর/সন্ধ্যা/২৪ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 8 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version