অর্থকাগজ ডেস্ক> 

বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি ফিরলেও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। বৈশ্বিক বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়লেও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব সামান্য কমেছে। বিপরীতে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্ব পোশাক রপ্তানির বাজার ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৫৭৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সম্প্রসারণের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত ছিল না। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারিত্ব কিছুটা কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, দীর্ঘসূত্রতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পণ্য বৈচিত্র্যের অভাব বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ঐতিহ্যগত বাজারের ওপর নির্ভর না থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাইরে নতুন বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের পোশাক, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কারখানা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি আনতে না পারলে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা আরও কমার ঝুঁকি থাকবে। তবে নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো গেলে বিশ্ববাজারে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারের সুযোগ এখনও রয়েছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 day আগে

Leave A Reply

Exit mobile version