তারেক আবেদীন>

জাল বা ভুয়া শিক্ষা সনদে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোতে বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছেন অযোগ্য মুখ্য নির্বাহীরা। ফলে দেশের বীমা সেক্টরে তৈরি হয়েছে আস্থার সংকট। এদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি জীবন বীমা মানে লাইফ বীমা কোম্পানির। অর্থকাগজ এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করা অযোগ্য লাইফ বীমা কোম্পানির এমডির মধ্যে প্রথম প্রজন্মের একজন, তৃতীয় প্রজন্মের ৪ জন, চতুর্থ প্রজন্মের ৫ জন এবং তৃতীয় প্রজন্মের নন লাইফের একজন এমডি অন্যতম।

ভুয়া সনদ জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে অর্থকাগজসহ দেশের বহু সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হলেও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কী কারণে তাদের অপসারণ করেনি তা রহস্যজনক!

আইন লংঘন করে চলতি দায়িত্ব পালনকারী দেশের ৫টি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় গত বছরের ৪ জুন। এরমধ্যে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. রফিকুল ইসলাম অন্যতম।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) এর স্মারক নম্বর–০৩.১২.২৬৬৬.৫৪২.২৩.০০১.২৫-৫৩৪ সূত্র উল্লেখ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়) এর সচিবকে প্রেরিত সম্প্রতি এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এর পরিচালক-১২ র. হ. ম. আলাওল কবির। সে চিঠির সূত্র ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রেরিত চিঠিতে মতামত পর্বে বলা হয়, আইন লংঘন করে চলতি দায়িত্ব পালনকারী সিইও এবং বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইডিআরএ কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না তা প্রতীয়মান। বরং নিয়ন্ত্রক আইডিআরএ’র এ ধরনের কার্যক্রম বীমা কোম্পানিগুলোর দুর্নীতিতে উৎসাহিত করছে। কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান কোম্পানি থেকে তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য তাদের অনুগত ব্যক্তিদের সিইও পদে নিয়োগ প্রদান করে থাকে। অনুগত ব্যক্তি যোগ্য না হলেও তার জন্য জরিমানা দিয়ে বছরের পর বছর সিইও পদে বহাল রাখা হয়। জরিমানার এ টাকা বীমা গ্রাহকের। ফলে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি বীমা খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।
এনএসআই চিঠির এক বছরে শুধু সোনালী লাইফের মো. রফিকুল ইসলাম ছাড়া বাকি ৪ জন মুখ্য নির্বাহীর দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তার মধ্যে একজন নিয়মিত হয়েছেন এবং ৩ জন পদ ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রক আইডিআরএকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গ্রাহকদের কোটি কোটি আমানতের দায়িত্বরত চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি লাইফ বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম কাজ করে যাচ্ছেন নিশ্চিন্তে।

বিদ্যমান বীমা আইন, ২০১০ এর ৮০(৪) ধারা অনুয়ায়ি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে একাধারে ৩ মাস অধিক সময়ের জন্য শূন্য পদ রাখার বিধান নেই। তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) অপরিহার্য় পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সময়সীমা আরো ৩ মাস বাড়াতে পারে। কিন্তু মো. রফিকুল ইসলাম কোন খুঁটির জোরে আড়াই বছর ধরে এমডি পদে আছেন তা প্রশ্নবিদ্ধ!

ভুয়া শিক্ষা সনদে সোনালী লাইফে দুই এমডি! 

কথা কিন্তু সত্যি! সোনালী লাইফের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. রফিকুল ইসলাম জাল সনদধারী। এই জাল সনদ নিয়েই তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আজ অবধি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর নাকের ডগায় বসে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত এমডি তথা সিইও হিসেবে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। হাতিয়ে নিচ্ছেন চড়া বেতন, ভাতা, কমিশন ও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা। অথচ দেখার কেউ নেই! কাগজে কলমে কোম্পানির বোর্ড অব ডিরেক্টরস এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর পর্যায়ক্রমিক প্রশাসক ও পর্যবেক্ষক থাকলেও সবাই যেন পটের বিবি কিংবা ম্যানেজ পার্টির সদস্য। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান জয়নুল বারী ও ড. এম. আসলাম আলমকে এমডি রফিকুল ইসলাম ম্যানেজ করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সদ্য যিনি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারে বসেছেন; তিনি কি এই দুর্নীতির যবনিকা টানবেন? নাকি তাঁর প্রাক্তনদের কাতারে দাঁড়াবেন? সময় দিবে এর উত্তর! কারণ এসব ম্যানেজের পিছনে আশীর্বাদ রয়েছে সোনালী লাইফের সিংহভাগ শেয়ারধারী মরহুম মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের পরিবার যাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান। সোনালী লাইফের বরখাস্তকৃত সিইও মীর রাশেদ বিন আমান সে সময়কার বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেনকে ম্যানেজ করে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কোম্পানির সিইও ছিলেন। সোনালী লাইফের দাপুটে দুর্নীতিবাজ প্রাক্তন এই সিইও মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের বড় জামাতা মীর রাশেদ বিন আমানও ছিলেন একজন জাল শিক্ষা সনদধারী। স্ত্রী ফওজিয়া কামরুন তানিয়া ও শ্বশুর মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০২৩ সালের শেষের দিকে মীর রাশেদ বিন আমানের দুর্নীতি ও সনদ জালিয়াতির খবর প্রকাশ্যে চলে আসে এবং শ্বশুর মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ২০২৪ এর জানুয়ারীতে তিনি বরখাস্ত হন। আশ্চর্যের বিষয় ২০১৯ সালে মীর রাশেদ বিন আমানের জাল শিক্ষা সনদপত্র মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ও তার পরিবারের হাত দিয়েই আইডিআরএতে জমা করা হয়েছিল যা তারা তখন বেমালুম চেপে যান।

একাডেমিক সনদ অনুযায়ী সোনালী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. রফিকুল ইসলাম পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ২০০০ সালে  ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। দেশের ইতিহাসে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ একই বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে পারেন কিনা আগে জানা ছিল না‌ -এই প্রথম আবিষ্কার! জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে ১৯৯৫-৯৬ সেশনে স্নাতক পর্যায়ে তার রোল নম্বর ৩৩৬, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রোল নম্বর ৪৫১৮৪। এমডি মো. রফিকুল ইসলামের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সেশন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাশের বছর একই। সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে দাখিলকৃত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর সনদ অনুযায়ী তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ২৮৯৫৩, সেশন ১৯৯৫-৯৬, পাশের বছর ২০০০ সাল। শুধু রোল নম্বর আলাদা। এটি কিভাবে সম্ভব? একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বছর এবং একই সেশন ও রোল নম্বর নিয়ে একজন ব্যক্তি কিভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন? বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এ কী সব চোখে ছানিপড়া লোকজন নিয়োগ দিয়ে রেখেছে? দেশের ইাতহাসে এমডি মো. রফিকুল ইসলামের মত এমন অনন্য ভাগ্যবান ছাত্র অন্য কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে বা ছিল বলে জানা নেই। তবে সোনালী লাইফে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনার সন্ধান পাওয়া গেছে! আর এক জালিয়াত সনদধারী মীর রাশেদ বিন আমানের হাত ধরেই ২০১৬ সালে মো. রফিকুল ইসলাম সোনালী লাইফে যোগদান করেন। যেন চোরে চোরে খালাত ভাই!

মূলত এমডি মো. রফিকুল ইসলাম ও তার গোটা টিম সোনালী লাইফকে জিম্মি করে রেখেছে। মাস শেষে কোম্পানি থেকে তার নামে বেনামে হিসাবগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা বেতন, ভাতা ও কমিশন বাবদ পরিশোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ৩৫% থেকে ৪০% রিনিউয়ালকে ৮৫% থেকে ৯০% দেখিয়ে লিডার্স ক্লাব, সেঞ্চুরী ক্লাব, পিকনিক ক্লাব, বিদেশ ভ্রমণ, স্পেশাল ভাতার নামে বছরে শত শত কোটি টাকা কোম্পানিটি থেকে লোপাট করা হচ্ছে এমন অভিযোগ অনেকেই করছে। এ যেন একই মুরগি একাধিকবার জবাই করার সার্কাস! আইডিআরএ'র কর্মকর্তারা যেন এ সার্কাসের বোবা দর্শক! আইডিআরএকে ম্যানেজের মাধ্যমে জাল সনদে অনেকেই এখন দেশের বীমা কোম্পানির সিইও হয়ে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। দেখার কেউ নেই!

এমডি প্রসঙ্গে তথ্য জানাতে সোনালী লাইফের গাফলতি

ভুয়া শিক্ষা সনদধারী সোনালী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও ও এমডি মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে অর্থকাগজ এর এই প্রতিবেদক একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কথা বলেননি। তারপর তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ছকে এমডি মো. রফিকুল ইসলামের সকল শিক্ষা সনদ সঠিক কিনা তা যাচাইয়ের জন্য কোম্পানির মানব সম্পদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে গত ৫ মে ২০২৬ অর্থকাগজ এর পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়। তাতে মানব সম্পদ বিভাগকে এমডি মো. রফিকুল ইসলামের একাডেমিক সনদগুলোর সত্যায়িত ফটোকপি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। তথ্য প্রাপ্তির আবেদনপত্র (ফরম ‘ক’) সোনালী লাইফের স্টোর ও ডেসপাচ বিভাগ গ্রহণের ২ মাস পরও কোন উত্তর না পাওয়ায় মানব সম্পদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা নাইমুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। দু’ দফায় এমডি মো. রফিকুল ইসলামের ভুয়া শিক্ষা সনদের বিষয়ে নাঈমুর রহমানের কথা হয়। প্রথমে তিনি জানান, কোথাও বসে কথা বলতে হবে। অর্থাৎ তিনি এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করতে চেয়েছেন। অর্থকাগজ এর প্রতিবেদককে ম্যানেজ করতে না পেরে এক মাস পর তিনি জানান, চিঠিটা আমি ব্যস্ততার কারণে দেখতে পারিনি! বিষয়টি নিয়ে এম ডি মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে নাইমুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, উনার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি (এমডি) বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে। আগে আপনার ভিজিটিং কার্ড পাঠান। তখন প্রতিবেদক বলেন, অর্থকাগজ এর প্রমাণসহ আমার স্বাক্ষর রয়েছে; তাই কার্ড পাঠানোর প্রয়োজন মনে করি না। তখন নাইমুর রহমান বলেন, ফর্মটি আবার দেন আমাদের আইন বিশেষজ্ঞের কাছে তা পাঠাই। এ বিষয়ে আর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, অর্থকাগজকে পাশ কাটিয়ে অন্য কোন রাঘব বোয়ালকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে সোনালী লাইফ।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর বক্তব্য

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এমডি মো. রফিকুল ইসলামের ভুয়া শিক্ষা সনদের বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অর্থকাগজকে জানান, সোনালী লাইফের বিরুদ্ধে অনিয়মের জন্য জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আমরা এমডি মো. রফিকুল ইসলামের তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত মাস্টার্সের শিক্ষা সনদ গ্রহণ করিনি। তিনি (মো. রফিকুল ইসলাম) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইম এশিয়াতে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সে শিক্ষা এখন শেষ পর্যায়ে। এর অর্থ দাঁড়ায় এমডি মো. রফিকুল ইসলামের প্রদত্ত স্নাতকোত্তর শ্রেণি পাশের সনদপত্র যে ভুয়া; যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা জেনে শুনেই কোন না কোন কিছুর বিনিময়ে এই অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। কতদিন অপেক্ষা করবে তার মাস্টার্স দ্বিতীয় শ্রেণির সনদের জন্য এবং এ সময়ক্ষেপন কী আইনম্মত? উত্তরে কর্মকর্তা অর্থকাগজকে জানান, তিনি (এমডি) সময় চেয়েছেন। যেহেতু কোম্পানিটি জরিমানার টাকা প্রদান করেছে তাতেতো সময় দিতেই হয়! সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এমন একচোখা উদারমনা হলে দেশে তৃতীয় শ্রেণীর সনদধারীদের পোয়াবারো আর কী! বিষয়টি সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।


ভুয়া শিক্ষা সনদধারী প্রধান বীমা নির্বাহীদের নিয়োগ নবায়ণ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান কী ভূমিকা গ্রহণ করবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর ওই কর্মকর্তা অর্থকাগজকে জানান, সনদ মিথ্যা প্রমাণিত হলে বীমার সে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়োগ আর নবায়ণ করা হবে না। 

 

বিশেষ ঘোষণা : বীমা সেক্টরের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অর্থকাগজের অনুসন্ধান চলমান। অর্থকাগজ চায় বীমা সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, ফিরে আসুক গ্রাহকের আস্থা।

সর্বশেষ হালনাগাদ 17 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version