অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দেশের পুঁজি বাজারে সূচক ও লেনদেনের উন্নতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ২০ জুলাই সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের দুই পুঁজি বাজার সূচকের বড় ধরনের উন্নতি রেকর্ড করা হয়। এর ফলে বিগত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি। ২০ জুলাই লেনদেনের এ পর্যায়ে ৫ হাজার ২০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে সূচকটি। তবে দিনশেষে সূচকটি স্থির হয় ৫ হাজার ১৯৪ দশমিক ০৩ পয়েন্টে। এ বছরের ১৩ এপ্রিলের পর আর এ অবস্থানে পৌঁছতে পারেনি সূচকটি।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০ জুলাই ৬১ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ১৩২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ২০ জুলাই দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ১৯৪ দশমিক ০৩ পয়েন্টে। তবে এর আগে সূচকটি কমপক্ষে দুইবার ৫ হাজার ২০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে। বেলা ১টার দিকে সূচকটি ৫ হাজার ২০৩ পয়েন্টে এবং বেলা ২টার পর ৫ হাজার ২০৪ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে সূচকটি। তবে দিনের সমন্বয় শেষে ৫ হাজার ১৯৪ দশমিক ০৩ পয়েন্টে তা স্থির হয়। বাজারটির অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ এ সময় যথাক্রমে ৪২ দশমিক ০৭ ও ১৭ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২০ জুলাই ১৪৬ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। বাজারটির অপর দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১৭৫ দশমিক ০৬ ও ৮৬ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।

সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটলেও ২০ জুলাই ঢাকা শেয়ার বাজারের লেনদেন কিছুটা হ্রাস পায়। এখানে ২০ জুলাই ৭৭৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হতে দেখা যায়, যা আগের দিন অপেক্ষা ১৪ কোটি টাকা কম। ১৭ জুলাই ডিএসইর লেনদেন ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। তবে একই সময় লেনদেন বেড়েছে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে। বাজারটিতে ৬ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকায় পৌঁছে লেনদেন।

এ দিকে ২০ জুলাই বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা এবার মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন। ২০ জুলাই দেশের দুই পুঁজি বাজারেই মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গড়া ডিএসই-৩০ ও সিএসই-৩০ সূচক দু’টির উন্নতি তারই ইঙ্গিত বহন করে। এ ছাড়া উভয় বাজারেই লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকতে দেখা যায় বেশ কয়েকটি দেশীয় ও বহুজাতিক ব্লু-চিপস কোম্পানিকে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বিনিয়োগকারীদের এ আচরণকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। তাদের মতে, এ আচরণ বাজারকে টেকসই করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কারণ এ মুহূর্তে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে। অতীতে বাজারের এ ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা নানা ধরনের গুজবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দুর্বল ভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হতে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ের বাজার আচরণ পর্যালোচনায়ও বাজারের মন্দাভাবকে পুঁজি করে বিগত কয়েক মাস ধরে দেশের দুই বাজারেই লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে বেশ কিছু দুর্বল ভিত্তির কোম্পানিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কোম্পানির পারফর্মেন্স নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দিনের পর দিন দাম বাড়তে দেখা যায় এসব কোম্পানির শেয়ারের। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভিন্ন। বিনিয়োগকারীরা প্রচুর লোকসান গুনতে গুনতে নিঃশেষ হয়ে গেছেন। তাই এবার তারা কিছুটা হলেও সতর্ক থাকবেন বলে আশা করা যায়।

২০ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। ৩০ কোটি ৮৯ লাখ ১১ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৩১ লাখ ১৬ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ২০ জুলাই । ২২ কোটি ৯৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় ৪২ লাখ ১৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকার লেনদেন শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। এ ছাড়া শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে আরো ছিল যথাক্রমে রেনেটা, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, লাফার্জ হোলসিম, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, একমি পেস্টিসাইডস এবং নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস।

এ দিন বাজারটিতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে বস্ত্র খাতের কোম্পানি এম হোসাইন স্পিনিং মিলস। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নেয় ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফিন্যান্স। ৯ দশমিক ২১ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকিং কোম্পানি এসবিএসি ব্যাংক ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে।

এ ছাড়া, ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ছিল লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ডেসকো, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, আমান কটন ফেব্রিক্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, তিতাস গ্যাস ও আইপিডিসি ফিন্যান্স।

২০ জুলাই ডিএসইতে দরপতনের শীষের্ ছিল বীমা কোম্পানি এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স। এ দিন ১০ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৯.৫৭ শতাংশ দর হারিয়ে পতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড। তৃতীয় স্থানে উঠে আসা রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারের দর কমেছে ৫.০৫ শতাংশ। ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ৪.৫৩ শতাংশ, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৪.১৭ শতাংশ, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের ৩.৩৩ শতাংশ, এপেক্স ট্যানারির ৩.২৯ শতাংশ, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের ৩.২৮ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৩.২৩ শতাংশ এবং ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডের ৩.২৩ শতাংশ দর কমেছে। ●

অকা/পুঁবা/ফর/রাত/২১ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 7 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version