অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাঠামোয় বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পৃথক করে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানায়, দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন—এই দুটি কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলাদা করার পথ সুগম হলো।

এর আগে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল, নতুন দুই বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন, সাংগঠনিক কাঠামো এবং কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কোন বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন—এসব বিষয়ে নীতিগত অনুমোদনের পরই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিআর ভেঙে এই দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কর প্রশাসনকে আধুনিক করা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কাঠামোগতভাবে রাজস্ব নীতি বিভাগ নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করবে, আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সেই নীতির বাস্তবায়ন ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে থাকবে।

রাজস্ব নীতি বিভাগের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে কর আইন প্রণয়ন, করহার নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক কর চুক্তি তত্ত্বাবধান এবং কর ফাঁকি রোধে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন। পাশাপাশি কর ফাঁকি ও কর ফাঁকির প্রবণতা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নও এ বিভাগের আওতাভুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সরাসরি রাজস্ব আদায়ের মাঠপর্যায়ের কাজ পরিচালনা করবে। আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আদায়, কর সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন, নিরীক্ষা ও তদারকি এই বিভাগের মূল দায়িত্ব। এনবিআরের বর্তমান জনবল ধাপে ধাপে এই বিভাগে স্থানান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

নিকার সভায় শুধু রাজস্ব প্রশাসন নয়, স্বাস্থ্য খাতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ—এই দুটি বিভাগ একীভূত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় করার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করা হয়।

এ ছাড়া সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে চারটি নতুন থানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলায় পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পূর্বাচল দক্ষিণ এবং কক্সবাজার জেলায় মাতারবাড়ী নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাকে বিভক্ত করে আরও একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশে মোট থানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৩৯টি।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একাধিক উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সরকারের মোট ১৪ জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিব।

অকা/রা/ই/সকাল/২১ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version