অর্থকাগজ প্রতিবেদন>

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে তীব্র মন্দাভাব লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিনই সূচকের পতন ঘটে, যার ফলে সার্বিক বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। সূচক ও মূলধনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের অভাবে টেক্সটাইল, ডাইং, সিরামিক, স্টিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী তালিকাভুক্ত কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলো পুরোদমে উৎপাদনে থাকতে না পারলে কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক করপোরেট আয় বা মুনাফা তলানিতে ঠেকবে, আর তা শেষ পর্যন্ত দেশের প্রধান দুই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত—রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধস নামাতে পারে। এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধস নেমেছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক বাজারে।

সপ্তাহের শুরুতে চূড়ান্ত মার্জিন রুল সংশোধনীর প্রস্তাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের সতর্কতা ও উদ্বেগ কাজ করছিল। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে মার্জিন রুল নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করা হলেও বাজারে ছড়িয়ে পড়া কড়া ব্যবস্থার গুঞ্জনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যকার দ্বিধা ও সংশয় পুরোপুরি কাটেনি।

চলমান জাতীয় গ্যাস সংকট নিরসন না হওয়ায় কোম্পানিগুলোর করপোরেট আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সপ্তাহের শেষের দিকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও দেশীয় নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল ছিল, যার ফলে বাজারে বড় ধরণের ক্রয়গতি তৈরি হতে পারেনি।
ডিএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৫২টি শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩১৪টি প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটেছে এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দরপতনের প্রভাবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৩ হাজার ৮১২ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।

মূল্যসূচকের চিত্রে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ৯৭.৮৩ পয়েন্ট বা ১.৬৬ শতাংশ কমেছে, যেখানে আগের সপ্তাহে সূচকটি ২২.৯৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২১.০৩ পয়েন্ট বা ১.৭৯ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ৩০.২১ পয়েন্ট বা ১.৩৮ শতাংশ।

মন্দা পরিস্থিতির কারণে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯০৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৯৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তুলনায় ৯১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা ৯.২১ শতাংশ কম। টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্স; কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ২৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ৩.২৬ শতাংশ। এর পরপরই দ্বিতীয় স্থানে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, যার প্রতিদিনের গড় লেনদেন ছিল ২৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

Leave A Reply

Exit mobile version