অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
শেয়ার বাজারে শেয়ারের দরপতনের সীমায় আবারও পরিবর্তন আনল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এখন থেকে শেয়ারের দাম দিনে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারবে। এত দিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা আরোপিত ছিল ২ শতাংশে। গতকাল বুধবার পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সীমায় পরিবর্তন এনেছে। বিএসইসি জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন এ সীমা কার্যকর হবে।
জানা গেছে, শেয়ারের দরপতনের সীমা ২ শতাংশে বেঁধে দেওয়ায় বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারণ, কিছুদিন ধরে ২ শতাংশ দাম কমলেই বেশির ভাগ শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেন করতে পারছিলেন না। তাতে লেনদেনের পরিমাণও অনেক কমে যায়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে শেয়ারের দরপতনের সীমা বাড়ানোর কথা বলে আসছিলেন। বাজারসংশ্লিষ্টদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ সীমা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ৮ মার্চ শেয়ারবাজারের পতন ঠেকাতে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এখন এ সীমা ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
দরপতনের সীমায় পরিবর্তন আনা হলেও মূল্য বৃদ্ধির সীমা আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে যেকোনো শেয়ারের দাম এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে পারবে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ পরিবর্তনের ফলে বাজারে ক্রেতা বাড়বে। কারণ, দাম কমলে ক্রেতারা কম দামে শেয়ার কেনায় বেশি আগ্রহী হবেন।
এদিকে টানা পতন ঠেকাতে বাজারে বিএসইসির তদারকি বৃদ্ধির ফলে সূচক ও লেনদেনে কিছুটা গতি ফিরেছে। এ অবস্থায় পতন ঠেকাতে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিএসইসি। আইন লঙ্ঘন করে শেয়ারের বিক্রয়াদেশ দেওয়ার অভিযোগে ৯টি ব্রোকারেজ হাউসের ১৫ জন অনুমোদিত প্রতিনিধি বা ট্রেডারকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর লেনদেন শুরুর আগে সর্বনিম্ন দামে শেয়ারের বিক্রয়াদেশ দেওয়ায় ১৫টি ব্রোকারেজ হাউসের ১৫ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইওর কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়। এর জেরে দরপতন থেমেছে সূচকের। লেনদেনেও এসেছে গতি। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেয়ার বাজারে কমবেশি সব সময় নানা ধরনের কারসাজির ঘটনা ঘটে। এসব কারসাজির কারণেই বাজারে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ হঠাৎ বড় ধরনের উত্থান-পতন দেখা যায়। সব সময় যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সব ধরনের কারসাজির বিষয়ে কঠোর হয়, তাহলে বাজারে কারসাজির প্রবণতা কমে আসবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থা ফিরে পাবেন। কিন্তু বিএসইসি যখনই কারসাজির ঘটনা জেনেও চুপচাপ থাকে, তখনই বাজারের ওপর থেকে আস্থা কমতে থাকে বিনিয়োগকারীদের।
#
অকা/পুঁবা/দুপুর, ২১ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে
