অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সব সহায়তা ভেঙে পুঁজি বাজারের সূচক চার বছর পিছিয়ে পাঁচ হাজারের নিচে নেমেছে। এর আগে ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর সূচকটি আজকের অবস্থানে ছিল। পুঁজি হারানোর আতঙ্কে বিনিয়োগকারীদের ৯৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রির চাপে বাজার ব্যাপক পতনের সম্মুখীন হয়। সময় যাওয়ার সাথে সাথে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে বাজার দিনের সর্বনিম্ন সূচকে শেষ হয়। ডিএসইএক্স ১৪৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে শেষ হয়। সিএসইতে ২৯৬ পয়েন্ট হারিয়ে ১৪ হাজার ৬ পয়েন্টে নেমেছে। আর ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে একদিনে ৯ হাজার ৭৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বর্তমান মাকসুদ কমিশনের আমলে এটি সর্বোচ্চ পতন। এর আগে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮ আগস্ট ডিএসইর সূচক ১২৫ পয়েন্ট কমে, যা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এটিই ছিল মাকসুদ কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ে সর্বোচ্চ দরপতন।
দিনের লেনদেন শেষে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সূচকের অব্যাহত নিম্নমুখিতায় পুঁজি হারানোর ভয়ে বিক্রির চাপ ৯৯ শতাংশে নেমে আসে। কোনোভাবেই সূচকের পতন রোধ করা যায়নি। ফলে সেঞ্চুরি হারে সূচকের পতন হয়। ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৪৯.২০ পয়েন্ট হারিয়ে এখন চার হাজার ৯৬৫.৩৯ পয়েন্টে। ‘ডিএসইএস’ বা শরিয়াহ সূচক ৩৬.২৭ পয়েন্ট হারিয়ে এক হাজার ১০৭.৭২ পয়েটে এবং ‘ডিএসই-৩০’ সূচক ৪৮.১৮ পয়েন্ট হারিয়ে এখন এক হাজার ৮৩০.৯৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। চার বছর আগে এই সূচক ছিল। ফলে বাজারের অবস্থা খুবই নাজুক।
ডিএসইতে চৌদ্দ কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার ২৩৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ৩০৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৮ হাজার ৭৭ টাকায়। যেখানে ২৪ অক্টোবর লেনদেন হয়েছিল ৩০৬ কোটি ১ লাখ ৩১ হাজার টাকার। ফলে লেনদেন ৩ কোটি টাকা কমেছে। ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয় এরমধ্যে দর বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ৩৪১টির বা ৮৬.১১ শতাংশ এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।
লেনদেন, দর বৃদ্ধি ও পতনে শীর্ষ ১০ : এ দিকে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ইফাদ অটোস। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৪ টাকা ৫০ পয়সা বা ১৬.৪৮ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ার দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ২ টাকা ২০ পয়সা বা ১৬.২৯ শতাংশ। আর ২ টাকা ৭০ পয়সা বা ১০ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ স্থানে জায়গা নিয়েছে কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এ ছাড়া ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- জেমিনি সি ফুডের ৯.৯৮ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রিমের ৯.৯৪ শতাংশ, আরামিট সিমেন্টের ৯.৯৪ শতাংশ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ৯.৯৩ শতাংশ, ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের ৯.৯৩ শতাংশ, পেপার প্রসেসিংয়ের ৯.৯২ শতাংশ এবং আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের শেয়ার দর ৯.৯২ শতাংশ কমেছে।
আর সর্বোচ্চ দর বেড়েছে এস্কয়ার নিট কম্পোজিটের। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ২২.০৭ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থান নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা রানার অটোমোবাইলস পিএলসির দর বেড়েছে ২ টাকা বা ৮.৪৩ শতাংশ। আর ১০ টাকা ৯০ পয়সা বা ৫.৪২ শতাংশ শেয়ার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় শীর্ষে রয়েছে কেঅ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এ ছাড়া ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে-কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ৪.৫৪ শতাংশ, ইউনিলিভার কনজিউমারের ৪.৪৩ শতাংশ, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের ৩.৩৩ শতাংশ, ইনডেক্স অ্যাগ্রোর ৩.৩২ শতাংশ, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৩.২২ শতাংশ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৩.০৮ শতাংশ এবং একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের ২.৫ শতাংশ দর বেড়েছে।
ব্লক মার্কেটে ২৬ কোম্পানির ১১.৭০ কোটি শেয়ার : ডিএসইর ব্লক মার্কেটে ২৭ অক্টোবর ২৬টি কোম্পানির ৫৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৯টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ১১ কোটি ৭০ লাখ ৮৯ হাজার টাকায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হতে দেখা গেছে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ব্যাংক এশিয়া, বেক্সিমকো, লাভেলো আইসক্রিম, সিএন্ডএ টেক্সটাইল এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকারও বেশি। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংক এশিয়ার। এদিন ব্যাংকটির ২ কোটি ৫২ লাখ ৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। বেক্সিমকোর ২ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ২ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ৫১ লাখ ৪১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টকে দর পতনে ৮৪.৮০ শতাংশ : চট্টগ্রাম স্টকে ২৭ অক্টোবর সবগুলো সূচকই পতনে সেঞ্চুরি করেছে। সিএএসপিআই ২৯৫.৯৯ পয়েন্ট হারিয়ে এখন ১৪ হাজার ৬.৫৯ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স ১৮০.৫৮ পয়েন্ট হারিয়ে আট হাজার ৫২৫.১০ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ১৩৩.৯৭ পয়েন্ট হারিয়ে এখন ১১ হাজার ৬০৫.৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ২০৪টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিলেও দর বৃদ্ধিতে মাতো ২৩টি, দর পতনে ১৭৩টি বা ৮৪.৮০ শতাংশ এবং দর অপরিবর্তিত ৮টি। ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড বেচাকেনা হয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৩৯ টাকা বাজারমূল্যে।
রয়্যাল ক্যাপিটাল বলছে, ডিএসইর বাজার লেনদেন ৩ কোটি টাকা কমে ৩০৩ কোটি টাকা হয়েছে। ঢাকার শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) নিম্নমুখী ছিল। মূলধন ২৪ অক্টোবরের তুলনায় ১.৪৯ শতাংশ কমেছে। যেখানে ভলিউম ১৪ শতাংশ বাড়লেও টার্নওভার ১ কমেছে। ১৯টি সেক্টরের মধ্যে সবগুলো সেক্টরের শেয়ার দর কমেছে। ফোর প্রাইসে ১টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ব্লক মার্কেটে ১১.৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা মোট লেনদেনের ৩.৮৫ শতাংশ। এসএমই বাজার সূচক (ডিএসএমইএক্স) ৪৩.০৫ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২.৬ কোটি টাকা, যা ২৪ অক্টোবরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। বাজার শুরুর ১৫ মিনিট পর থেকে শেষ পর্যন্ত বাজার নেতিবাচক ছিল। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/২৭ অক্টোবর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

