অর্থকাগজ প্রতিনিধি, কলকাতা>
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নন্দন প্রাঙ্গণে যেন এদিন ধরা দিল এক টুকরো বাংলাদেশ। ‘৯ম সাউথ এশিয়ান শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা জীবন শাহাদাৎ পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সম্পর্ক’। প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের দীর্ঘ করতালি আর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিল—দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি কলকাতার দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
চলচ্চিত্রটি শেষ হওয়ার পর কয়েক মুহূর্তের জন্য নন্দনের প্রদর্শনী কক্ষে নেমে আসে গভীর নীরবতা। এরপরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রেক্ষাগৃহ। অনেক দর্শক আবেগ ধরে রাখতে পারেননি; কারও চোখে ছিল অশ্রু, কারও মুখে ছিল ইতিহাসের বেদনা আর মানবিক সম্পর্কের অনুরণন।
প্রয়াত কবি তারেক মাহমুদের কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত ‘সম্পর্ক’ মূলত দেশভাগ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সেই সময় মানুষের বিচ্ছেদ, স্মৃতি ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। রূপক ও বাস্তবতার মেলবন্ধনে নির্মাতা জীবন শাহাদাৎ এমন একটি গল্প তুলে ধরেছেন, যেখানে ইতিহাসের নির্মমতা ছাপিয়ে উঠে এসেছে মানুষের ভালোবাসা, শিকড় আর আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন।
কবিতার আবেগ ও চলচ্চিত্রের ভাষার সমন্বয়ে নির্মিত এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দর্শকদের জন্য হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
প্রদর্শনী শেষে কলকাতার প্রবীণ সাহিত্যিক অমল চৌধুরী বলেন, "অনেক দিন পর এমন একটি চলচ্চিত্র দেখলাম, যা দীর্ঘদিন মনে থাকবে। দেশভাগ শুধু ভূখণ্ডের বিভাজন ছিল না, এটি ছিল মানুষের হৃদয়ের বিচ্ছেদ। ‘সম্পর্ক’ সেই বেদনাকে কোনো উচ্চকণ্ঠ নয়, বরং গভীর মানবিকতায় তুলে ধরেছে। জীবন শাহাদাৎ দেখিয়ে দিয়েছেন, স্বল্প সময়েও বিশাল এক ইতিহাস বলা যায়।"
চলচ্চিত্র শিক্ষার্থী সারা আহমেদ বলেন, "চলচ্চিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফি, আবহসংগীত এবং নির্মাণশৈলী অসাধারণ। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশভাগের স্মৃতি যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। মনে হয়েছে ইতিহাসেরই একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে আছি।"
উৎসব আয়োজকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন এই সাউথ এশিয়ান শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। এবারের আসরে বাংলাদেশের ‘সম্পর্ক’ বিশেষভাবে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

