অর্থকাগজ ডেস্ক>

মায়ামির গ্যালারিতে বসা ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শক উপভোগ করলেন বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক লড়াই। গোলবন্যার সেই ম্যাচে বুকায়ো সাকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। একই ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২।

১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর পুরুষদের বিশ্বকাপে এটিই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য। বিদেশের মাটিতে এটিই ইংলিশদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অর্জনও।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা ইংল্যান্ড প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তৃতীয় মিনিটে ডেক্লান রাইসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ১৮ মিনিটে তাঁরই বাড়ানো বলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা। এরপর ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১) মার্কাস রাশফোর্ড ও এবেরেচি এজের পাস থেকে টানা দুটি গোল করে হ্যাটট্রিকের ভিত গড়ে দেন বুকায়ো সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই চার গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো ফ্রান্সের।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দিদিয়ের দেশমের দল। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাঝখানে ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাও একটি গোল করেন। ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন এবং মেসিকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি এগিয়ে যান।

ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, তখন ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। এর মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হন তিনি। পাশাপাশি ১৯৫৮ সালে পেলের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়ের কীর্তিও গড়েন।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ত উপামেকানোর পাস থেকে উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের চতুর্থ গোলটি করলেও শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ডই। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যাম গোল করে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

বেলিংহ্যামের এই গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তাঁর সপ্তম, যা এক বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড।

এদিকে, মাইকেল ওলিসে এক আসরে সাতটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন। তিনি ভেঙে দিয়েছেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের করা ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

অন্যদিকে, ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য হয়ে থাকল হতাশার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম তারা এক ম্যাচে ছয় গোল হজম করল। শুধু তাই নয়, যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৬৬ বছর পর প্রথমবারের মতো ছয় গোল খাওয়ার লজ্জায় পড়তে হলো লে ব্লুদের।

সর্বশেষ হালনাগাদ 6 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version