অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পবিত্র ঈদুল আজহা পূর্ববতী শেষ কর্মদিবসে সূচকের বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে পুঁজি বাজারে। বাজেট নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে এক ধরনের হতাশা ছিল গতকালের বাজার আচরণ তার কিছুটা হলেও কমাবে বলে মনে করছেন পুুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ ৪ মে লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল লেনদেনের পুরো সময় ধরেই তা বজায় ছিল। এর ফলে দিনশেষে সূচকের বড় উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয় পুঁজি বাজারগুলো।
দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবগুলো সূচকেরই কমবেশি উন্নতি ঘটে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ মে ৪৪ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সকালে চার হাজার ৬৬৪ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি লেনদেনের শুরু থেকেই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। মাঝে মধ্যে কিছু সময়ের জন্য বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলেও তা সামলে নিচ্ছিল বাজারটি। লেনদেন শেষ হওয়ার পূর্বে সূচকটি কিছু সময়ে জন্য পৌঁছে যায় চার হাজার ৭১৮ দশমিক ৫২ পয়েন্টে। এ সময় সূচকটির উন্নতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ৫৪ পয়েন্ট। তবে দিনের সমন্বয় শেষে চার হাজার ৭০৯ দশমিক ০৯ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি। বাজারটির অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ এ সময় যথাক্রমে ১৬ দশমিক ১৪ ও ১১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪ মে ৪৮ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এখানে সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৬৬ ও ২৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট।
দুই পুঁজি বাজারেই সূচকের উন্নতি সত্ত্বেও গতি ফিরেনি লেনদেনে। ঢাকা শেয়ার বাজারে ৪ মে ২২৪ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিন অপেক্ষা পাঁচ কোটি টাকা কম। ৩ মে ডিএসইর লেনদেন ছিল ২২৯ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে লেনদেন সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১০ কোটিতে পৌঁছে। ৩ মে এখানে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছিল।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারের বাজেটে পুুঁজি বাজারের জন্য মোটাদাগে যেভাবে প্রণোদনার প্রস্তাব করা হয়েছে তা অতীতে হয়নি। এটি বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তা ছাড়া এর আগে ১১ মে প্রধান উপদেষ্টার সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বৈঠকে দেয়া পাঁচটি নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হলে পুঁজি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসার পাশাপাশি বাজারের গভীরতাও বাড়বে। বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের। এতে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজি বাজার টেকসই হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ৪ মে প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্যাংকিং কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক। ২২ কোটি ২৮ লাখ ৯২ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে লাভেলো আইসক্রিম। ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার টাকায় এদিন কোম্পানিটির ২১ লাখ ৫৬ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১০ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ফাইন ফুডস।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সি পার্ল বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, উত্তরা ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি, মালেক স্পিনিং মিলস এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭৭টির দর বেড়েছে। ৪ মে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল এর। এদিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ৩ টাকা ১০ পয়সা বা ৯.৬৩ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এস আলম কোল্ড রোলের শেয়ারদর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ৯.২৮ শতাংশ। আর ১ টাকা ৩০ পয়সা বা ৭.৩৪ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে তিতাস গ্যাস। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/৫ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

