অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ১৭ জুলাই সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও বাজারগুলোতে লেনদেন ও সূচকের উন্নতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। তবে দিনের শুরুতে বাজার যতটুকু সাবলীল ছিল শেষ দিকে এসে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে মুনাফা তুলে নেয়ার জন্য বিক্রয়চাপ তৈরি হলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের পুরোটা ধরে রাখতে পারেনি বাজারগুলো। দিনের শেষভাগে তৈরি হওয়া এ বিক্রয়চাপকে বাজার সংশ্লিষ্টরা মূল্যবৃদ্ধির পর সংশোধন হিসাবেই দেখছেন।
প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ জুলাই ১৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ১১৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ১৭ জুলাই দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ১৩২ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে। লেনদেনের শুরু থেকে সূচকটি বেশ সাবলীল গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিল। বেলা ১টায় সূচকটি ৫ হাজার ১৬০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি ঘটে ৪৪ পয়েন্ট। এখান থেকেই শুরু হয় বিক্রয়চাপ। এ সময় দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই দর হারাতে দেখা যায়। লেনদেনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ চাপ কার্যকর থাকলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের একটি বড় অংশই হারায় বাজারটি। এ সময় ডিএসইর অপর দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৮৯ ও ৭ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে।
অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৭ জুলাই ১৩২ দশমিক ১৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। বাজারটির অন্য দু’টি সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১৯০ দশমিক ৭৮ ও ৮৪ দশমিক ০৬ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৭ জুলাই দিনের শুরুতে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পায়। আগের দিনই সূচকের বড় উন্নতি ঘটলে দু’দিনের সূচকের উন্নতি মূল্যস্তরে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তা ছাড়া বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলোও বিক্রয় মুডে ছিল। এতে লেনদেন বাড়লেও বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের পুরোটা ধরে রাখতে পারেনি বাজারগুলো।
এ দিকে পুঁজি বাজারে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এল আর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফান্ড ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদেরকে ৬০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে কমিশনের ৯৩৬তম সভায় প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এল আর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত ১. ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ২. গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, ৩. এ আই বি এল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ৪. এল আর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, ৫. এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড ও ৬. এমবিএল মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম নামক একটি অনলাইন পত্রিকার শেয়ারে বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করা হয়। প্রতিটি ১০০ টাকার শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
বিষয়টি তদন্ত করে কমিশন এর সত্যতা পেলে উক্ত প্রতিষ্ঠান ও এর কর্ণধার রিয়াজ ইসলামকে ৩০ দিনের মধ্যে ওই ৬টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করা পুরো অর্থ সুদসহ ফান্ডসমূহে জমা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করে। উক্ত সময়ের মধ্যে সুদসহ বিনিয়োগ করা পুরো টাকা ফান্ডগুলো ফেরত আনা বা জমা প্রদানে ব্যর্থ হলে রিয়াজ ইসলাম ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর মধ্যে ১. রিয়াজ ইসলাম ৫০ কোটি টাকা, ২. জর্জ স্টক সিপিএ ৪ কোটি টাকা, ৩. মনোয়ার হোসাইন ৪ কোটি টাকা, রোনাল্ড মিকি গোমেজ ১ কোটি টাকা ও ৪. এল আর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফান্ডগুলো থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করার ফলে ফান্ডগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষুণ্ন হয় এসব ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ। এ জন্য ফান্ডের ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দায়িত্বশীলতা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ১৭ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ দিন ৪৬ কোটি ১৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৭৪ লাখ ৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকায় ৩২ লাখ ৪৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। আর ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, গ্রামীণফোন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, প্রাইম ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি এবং বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড।
এ দিন লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড। এ দিন কোম্পানিটির দর বৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিবিএস ক্যাবলস। পিএলসির শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ৫০ পয়সা। এ দিন দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসা অপর কোম্পানিগুলো ছিল একমি পেস্টিসাইজ, দেশ গার্মেন্টস, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস, বেস্ট হোল্ডিং, ব্র্যাক ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড।
একই সময়ে বাজারটিতে দর পতনের শীর্ষে ছিল পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক দর হারায় ৫ শতাংশ। দর পতনের শীর্ষে উঠে আসা অপর কোম্পানিগুলো ছিল পিপল লিজিং, রূপালী ব্যাংক, এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, এবং এসিআই লিমিটেড। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/১৮ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 8 months আগে
