অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
প্রায় সাড়ে তিন মাসের অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করেছে এমভি বাংলার জয়যাত্রা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জাহাজটি দীর্ঘদিন সেখানে আটকে ছিল।
বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুকে নিয়ে জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়। বর্তমানে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে জ্বালানি সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করতে পেরেছে। জাহাজে থাকা সব নাবিক ও ক্রু সুস্থ রয়েছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। কাতার থেকে স্টিল কয়েল পরিবহনের পর এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। তবে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা জাহাজটির নির্ধারিত রুটকে জটিল করে তোলে।
পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নেয় জাহাজটি। কিন্তু হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে সেটি নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে পারেনি।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর গত এপ্রিল মাসে জাহাজটি পুনরায় যাত্রা শুরু করলেও হরমুজ অতিক্রমের সময় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে ওমান উপকূলে অবস্থান নিতে হয়।
বিএসসির কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নতির ফলে জাহাজটির চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এর ফলে শুধু ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 15 hours আগে

