অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণ ছাড় হওয়ায় গত সাত মাসের সার্বিক হিসাবে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেশ বেড়েছে। এই সময়ে প্রায় দেড় শ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছে। বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ঋণ বেশি ছাড় হচ্ছে, সেই তুলনায় কম পরিশোধ করতে হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশে মোট ৩৯৪ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি ঋণ এসেছে। এই সময়ে ঋণের সুদাসল পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ২৪২ কোটি ডলার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তৈরি জুলাই-জানুয়ারি মাসের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। অবশ্য অর্থ বছরের শুরুর কয়েক মাস বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ের চেয়ে পরিশোধ বেশি হয়েছিল।

সাত মাসে বিদেশি ঋণ সবচেয়ে বেশি এসেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সংস্থাটি দিয়েছে প্রায় ১১০ কোটি ডলার। এ ছাড়া বিশ্ব ব্যাংক ৮৮ কোটি ডলার ও জাপান ৬৯ কোটি ডলার দিয়েছে।

অন্যদিকে আলোচ্য সাত মাসে সরকারকে বিদেশি ঋণ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ২৪২ কোটি ডলার। এর মধ্যে আসল পরিশোধ হয়েছে ১৫৪ কোটি ডলার। আর সুদ বাবদ ৮৮ কোটি ডলার শোধ হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে একই সময়ে ১৮৫ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল।

এদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে ঋণসহায়তা বাবদ খুব বেশি প্রতিশ্রুতি মিলছে না। গত জুলাই-জানুয়ারি সাত মাসে ২৩৫ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন-সহযোগীরা। গতবার একই সময়ে ৭১৭ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।

বিদেশি ঋণ পরিশোধ নিয়ে অর্থনীতিবিদেরা শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। কারণ, কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে সব মিলিয়ে ১১০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। পরের ১০ বছরে অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থ বছরে তা বেড়ে ২০১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে তা পৌনে তিন শ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। গত অর্থ বছরের বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ ৩৩৬ কোটি ডলার দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এর মানে গত এক যুগের বিদেশি ঋণ পরিশোধ তিন গুণ হয়েছে।

কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। দুই বছর ধরে আরও বেশি বেড়েছে। বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই চাপ শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন দেশে দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট চলছে। বিদেশি ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের কারণে রিজার্ভ ও বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ ছাড় বাড়েনি। আগের অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে সব মিলিয়ে ৪৪০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। এবার একই সময়ে এর চেয়ে ৪৬ কোটি ডলার কম এসেছে। ●

অকা/আখা/ফর/সন্ধ্যা/২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version