অর্থকাগজ ডেস্ক> 

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন উদ্বেগে তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৫ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে, যা প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের সতর্কতা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং জ্বালানিনির্ভর শিল্পে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

এদিকে, বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর আগামী কয়েক দিনের তেলের বাজার অনেকটাই নির্ভর করবে। যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বিঘ্নিত হয় বা সংঘাত বিস্তৃত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 15 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version