অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ছয় দিন টানা পতনের পর সপ্তম দিনে এসে সূচকের উন্নতি দেখলেন পুঁজি বাজারের বিনিয়োগকারীরা। ২২ মে পুঁজি বাজার সূচকের টানা পতন শুরু হয়, যা অব্যাহত ছিল ২৮ মে পর্যন্ত। এ ছয় দিনে ১৮০ পয়েন্ট সূচক হারায় দেশের প্রধান শেয়ার বাজার। ২৯ মে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এসে কিছুটা ব্যতিক্রম আচরণ দেখলেন বিনিয়োগকারীরা, উন্নতির দেখা পেলেন সূচকের।
২৯ মে দিনের শুরুতেও পতনের এ ধারা অব্যাহত ছিল। সকাল ১০ টায় লেনদেন শুরু হওয়া বাজারটি প্রথম বিশ মিনিটেই প্রায় ২৭ পয়েন্ট সূচক হারায়। কিন্তু এর পরই ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাজারটি। দুপুর সাড়ে ১২টার পর ডিএসই সূচক পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৬৬২ দশমিক ১২ পয়েন্টে। এ সময় সূচকটির উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৪৭ পয়েন্ট। তবে পরবর্তীতে আবার সংশোধন ঘটলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের একটি অংশ হারিয়ে বসে বাজারটি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২২ দশমিক ৫১ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। ৪ হাজার ৬১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার দিনশেষে ৪ হাজার ৬৩৭ দশমিক ৯২ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ এ সময় যথাক্রমে ২১ দশমিক ২৬ ও ৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই এ দিন ২৬ দশমিক ২৩ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। সিএসইর অন্য দু’টি সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স একই সময় যথাক্রমে ৫০ দশমিক ২৭ ও ২১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সূচকের উন্নতি ঘটলেও ২৯ মে উভয় বাজারেই লেনদেনের বড় ধরনের অবনতি ঘটতে দেখা যায়। ঢাকা শেয়ার বাজার ২৯ মে ২৪৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ১৯ কোটি টাকা কম। গত বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ২৬৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেন নেমে আসে আট কোটি টাকায়। ওই দিন সিএসইর লেনদেন ছিল ১৮ কোটি টাকা।
দীর্ঘ পতনের পর হঠাৎ সূচকের উন্নতি ঘটলেও তা আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্দিহান। এভাবে বারবারই তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাই সূচকের উন্নতি ঘটলেও এ পর্যায়ে বিনিয়োগ সক্ষমতা খুব কম বিনিয়োগকারিরই রয়েছে। আর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও ছিল তুলনামূলক কম। পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা কয়েক দিন সূচকের উন্নতি না ঘটলে বাজার আচরণকে বিনিয়োগকারীরা আস্থায় নেবেন না। কারণ বারবার এ অবস্থায় বিনিয়োগ করেই তা ক্ষতির মধ্যে পড়েন। আবার বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পরিকল্পিত মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে শেয়ার বিক্রির সুযোগ নিচ্ছেন।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ২৯ মে প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে মিডল্যান্ড ব্যাংক। আট কোটি ৫৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৩১ লাখ ৯৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৯ মে। আট কোটি ৩৮ লাখ এক হাজার টাকায় তিন লাখ ১৮ হাজার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, বিচ হ্যাচারি, শাইনপুকুর সিরামিকস, আইএফআইসি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম ও অগ্নি সিস্টেমস।
একই সময় সিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় উঠে আসে যথাক্রমে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, হাক্বানি পেপার অ্যান্ড পাল্প, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, লাভেলো আইসক্রিম, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা, সিভিও পেট্রো সিনথেটিকস, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, রংপুর ডেইরি ফুড ও ওয়ালটন হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং।
এ সময় ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২২টির দর বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে দেশ গার্মেন্টের। এ দিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ৬ টাকা বা ৯.৯৭ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল টি-এর শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ১৪ টাকা ১০ পয়সা বা ৯.৯৭ শতাংশ। আর ৯০ পয়সা বা ৯.৩৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে এস এম এল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট । ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে- সিএপিএম ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড ৮.৮৬ শতাংশ, এসইএমএল গ্রোথ ফান্ড ৭.৫৫ শতাংশ, আরমিট সিমেন্ট ৬.২৫ শতাংশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৫.৯৭ শতাংশ,ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ৫.৫৭ শতাংশ, শাশা ডেনিমস ৫.২৯ শতাংশ ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ৫.০৬ শতাংশ দর বেড়েছে।
২৯ মে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯টির দর কমেছে। সবচেয়ে বেশি দর কমেছে এনআরবি ব্যাংকের। এ দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৮০ পয়সা বা ৯.৩০ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকার প্রথমে ছিল কোম্পানিটি। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ফান্ডের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৮.১১ শতাংশ।
ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ছিল ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ৭.৪১ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৭.১৪ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্স ৬.৫৮ শতাংশ, এনআরবিসি ব্যাংক ৫.৯৬ শতাংশ, নর্দান জুট ৫.৪১ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ৫.০০ শতাংশ এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের দর ৪.৮৮ শতাংশ কমেছে। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/২৯ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

