অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারে দরপতনের মাত্রা প্রতিদিনই বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর দরপতনের হারও। ১৫ মে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ঢাকা শেয়ার বাজারের লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানির মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৯৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দরপতন ঘটে ৩১৭টির। চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেন হওয়া ২০৫টি কোম্পানির মধ্যে দর হারায় ১৩৭টি। দিনশেষে এমন কোনো খাত পাওয়া যায়নি যাতে দাম বাড়ার সংখ্যা ছিল বেশি। কোনো কোনো খাতে একটি কোম্পানিরও দাম বাড়েনি। ১৫ মে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারের লেনদেনের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায় এখানে মোট ২২টি খাতে কোম্পানি , মিউচুয়াল ফান্ড ও সরকারি বেসরকারি বন্ডগুলো তালিকাভুক্ত রয়েছে। যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বন্ডের লেনদেন নেই বললেই চলে। সে হিসাবে দেশের পুঁজি বাজাার এখনো ইক্যুইটি মার্কেটেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এখানে সচরাচর ২০টি খাতের শেয়ারের লেনদেন চলে। ১৫ মে ডিএসইর লেনদেনে এ বিশটি খাতের কোম্পানিরই অংশগ্রহণে ছিল, যার কোনোটিই ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। ৩৬টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ব্যাংকিং খাতে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় ছিল মাত্র ৫টি কোম্পানি। অথচ বিগত কয়েকদিন থেকে বাজারে লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতের বেশকিছু কোম্পানিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া বিমা, টেক্সটাইল, প্রকৌশল, খাদ্য, মিউচুয়াল ফান্ড ও জ্বালানি খাতের মতো বড় খাতগুলোতে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় খুবই সীমিতসংখ্যক কোম্পানি।
১৫ মে বাজার আচরণ দেখে মনে হয়েছে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার চাইতে বিক্রিতেই বেশি আগ্রহী। আর এ সুযোগটাই নিচ্ছেন কেউ। না কেউ যারা নিজেদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ভালো সময়ের অপেক্ষায় থাকতে পারবেন। বরাবরই আমাদের দেশের পুঁজি বাজারে এমন চিত্রই দেখা যায়। টানা পতনে যখন বিনিয়োগকারিরা অস্থির ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দেন তখন একটি অংশ এসব শেয়ার হস্তগত করেন। এরাই এক সময় সেই শেয়ার থেকে ভালো মুনাফা তুলে নেন। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজার যখন দীর্ঘমেয়াদি পতনের দিকে যায় তখন আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে বরং ধৈর্য ধরলেই কোনো এক সময় মূলধন ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকে।
১৫ মে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৫৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৪ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৬০ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনের লেনদেনশেষে ৪ হাজার ৭৮১ দশমিক ০২ পয়েন্টে স্থির হয়। বাজারটির অপর দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ২০ দশমিক ৯১ ও ১৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট।
অপরদিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৫ মে ১৩৭ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট হারায়। বাজারটির অপর দু’টি সূচক সিএসই৩০ ও সিএসসিএক্স হারায় যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ৮০ ও ৮২ দশমিক ১৯ পয়েন্ট।
এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দু’টি সূচক সমন্বয় করা হয়েছে। সূচক দু’টি হচ্ছে, সিএসই-৫০ ও সিএসই-৩০। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এ সমন্বয় করা হয়েছে। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সমন্বয়ে সিএসই-৩০ সূচক থেকে পাঁচটি কোম্পানি বাদ পড়েছে। এর বিপরীতে নতুন করে পাঁচটি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২২ মে থেকে এটি কার্যকর হবে। অন্যদিকে সিএসই-৫০ সূচকে নতুন করে চারটি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিপরীতে ৪টি কোম্পানি বাদ পড়েছে। ২১ মে থেকে এটি কার্যকর হবে।
সিএসই-৩০ সূচকে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস, ক্রাউন সিমেন্ট, আইটি কনসালট্যান্টস, সেনা ইন্স্যুরেন্স ও ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। সিএসই-৩০ সূচক থেকে বাদ পড়া কোম্পানির তালিকায় রয়েছে আমরা নেটওয়ার্কস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি, ব্যাংক এশিয়া, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ও মতিন স্পিনিং মিলস।
সিএসই-৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মূলধন মোট বাজার মূলধনের প্রায় ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ফ্রি-ফোট বাজার মূলধনের প্রায় ৩৭ দশমিক ১৯ শতাংশ।
সিএসই-৫০ সূচকে নতুন করে যুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এমজেএল বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। অন্যদিকে এ সূচক থেকে বাদ যাওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, জেনেক্স ইনফোসিস, অরিয়ন ফার্মা ও সি পার্ল রিসোর্ট। সিএসই-৫০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মূলধন মোট বাজার মূলধনের শতকরা প্রায় ৭০ দশমিক ৪৭ শতাংশ আর ফ্রি-ফোট বাজার মূলধনের শতকরা ৭০ দশমিক ৩০ শতাংশ।
ডিএসইতে ১৫ মে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল বিচ হ্যাচারি। ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ১৫ মে। লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এনআরবি ব্যাংকের আট কোটি ৬৮ লাখ টাকায় ৬৮ লাখ ৬৭ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ব্রাক ব্যাংক, সী পার্ল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, উত্তরা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ফাইন ফুডস।
অন্যদিকে সিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড, সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, লাভেলো আইসক্রিম, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, মোবিল যমুনা, শাইন পুকুর সিরামিকস, বসুন্ধরা পেপার মিলস ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/১৬ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 10 months আগে

