অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সুকুক বন্ডের মাধ্যমে সরকার ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব।
দেশের আর্থিক খাতের তারল্য ব্যবস্থাপনা ও শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগকে গতিশীল করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার এবং নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। সরকারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যে ১০ বছর মেয়াদি একটি বিশেষ 'সুকুক' বা ইসলামী বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিনিয়োগের রূপরেখা ও মুনাফা: সরকার নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকটিকে সচল করতে মোট ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সরবরাহ করেছে। এই মূলধনের ঠিক অর্ধেক অর্থাৎ ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকটি সরকারি সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি এই ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ একক বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকটি বার্ষিক ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা অর্জন করবে, যা ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
তহবিল ব্যবস্থাপনা ও আমানতকারী সুরক্ষা: বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটাতে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ইতোমধ্যে আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ থেকে আমানতকারীদের দায় পরিশোধের পাশাপাশি একটি বড় অংশ লাভজনক সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, আগামী দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকটি নতুন আমানত সংগ্রহে সক্ষম হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে নগদ টাকার চাহিদা কমিয়ে আনবে।
শরিয়াহ অনুমোদন ও প্রকল্পের অগ্রাধিকার: বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির বিশেষ সভায় এই সুকুক বন্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইজারা (Lease) পদ্ধতিতে এই সুকুক ইস্যু করার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত এই বিশাল অর্থ মূলত জনকল্যাণমূলক ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মিত সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পসমূহ অন্যতম।
ভবিষ্যৎ প্রভাব: এই বিনিয়োগের মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকার বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করল, অন্যদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক একটি নিরাপদ এবং উচ্চ মুনাফাসম্পন্ন খাতে তাদের মূলধন বিনিয়োগের সুযোগ পেল। এটি দেশের ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ●
অকা/ব্যাংখা/ই/দুপুর/১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 days আগে

