তারেক আবেদীন ●
দেশের ৮২টি কোম্পানিসহ ১০০টি সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যান পদটি শূন্য রয়েছে। ২ মার্চ থেকে আইডিআরএ প্রধানের পদ রয়েছে খালি। সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, এ পদে বীমা সংশ্লিষ্ট যোগ্য কর্মকর্তার বেশ আকাল রয়েছে। চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বেশ কজন প্রার্থী সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রি ও নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। চলছে জোর লবিং। লবিংয়ের শীর্ষে রয়েছেন জীবন বীমা কোম্পানির নির্বাহী এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর সাবেক সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, তার পিছনে বিএনপি সরকারের একজন প্রভাবশালী পূর্ণ মন্ত্রি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং প্রবীণ মন্ত্রির ব্যবসায়ী ও ক্রীড়ামোদি পুত্র কাজ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর আশির্বাদপুষ্ট আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান- উল-আবেদীন মোল্লার পক্ষে কাজ করছেন বরিশালের একজন পূর্ণ মন্ত্রি। উল্লেখ্য, বীমা পাড়ায় কামরুল ও সুলতান মোল্লা নানা অভিযোগে বিতর্কিত কর্মকর্তা।
ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এ মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রশাসক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর (আইডিআরএ) সাবেক সদস্য সুলতান উল-আবেদীন মোল্লার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছিল। ডেলটা লাইফ ২০২১ সালের মে মাসে লাজিম মিডিয়া থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক কেনে। প্রতিটি ৫০ টাকা করে এই মাস্কের মূল্য ধরা হয় এক কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যে সময় এই মাস্ক কেনা হয়, সে সময় ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পনী লিমিটেড এর প্রশাসক ছিলেন আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান- উল-আবেদীন মোল্লা। ক্রয় করা মাস্কের মধ্যে বিভিন্ন জোনাল অফিসে ১৯ হাজার পিস মাস্ক বিতরণ করা হয়। বাকি ১ লাখ ৯৬ হাজার পিস মাস্কের কোনো হদিস মেলেনি। উল্লেখ্য, সুলতান মোল্লা প্রশাসক থাকা অবস্থায় কোনো দরপত্র আহ্বান ছাড়া নিয়মবর্হিভূতভাবে এক কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক কেনেন।
৮ লাখ টাকার বেশি মূল্যের কিছু কিনতে গেলে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগে ও জাতীয় পত্রিকায় এ জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। উনি (মোল্লা) এর কোনোটিই না করে ক্ষমতার দাপটে তার নিকট আত্মীয়কে কাজটা দিয়ে দেন।
বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছিল খোদ অর্থ মন্ত্রণালয় এর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ ছিল। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, এনডিসিকে কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্ত সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. মামুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত পত্রে (নম্বর-৫৩.০০.০০০০.২৩১.৯৯.০০১.২৪.৮৩) বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, এনডিসির কক্ষে (নং-৩১৮, চতুর্থ তলা,ভবন-০৭, বাংলাদেশ সচিবালয়) ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই দুপুরে প্রথম শুনানীর জন্য অভিযোগকরী ও অভিযুক্তকে শুনানীর জন্য ডাকা হয়। কিন্তু সে দিন ৩ জন সাক্ষীর কেউ উপস্থিত থাকতে পারেননি।২০২৪ সালে আগস্টে সরকার পরিবর্তন হলে কামরুলের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট পদস্থ একজন কর্মকর্তা অর্থকাগজকে সে সময় জানায়, লাইফ এ সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বেশ কিছু কাগজপত্র বিভাগে জমা পড়ে।
জানা গেছে, দেশের জীবন বীমা পেশায় কামরুল হাসান ২২ বছরের ওপরে সংপৃক্ত। চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান কামরুল হাসান আমেরিকান লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি (আলীকো) বর্তমান মেটলাইফ এ ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েট হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ৬ বছর কাজ করেন এখানে তিনি। সর্বশেষ এখানে তিনি দাবী বিভাগের প্রধান ছিলেন। কিন্তু ঘন ঘন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া আসার কারণে মেটলাইফ এ চাকরি করার ক্ষেত্রে তার সমস্যা তৈরি হয়। ফলে মেটলাইফ থেকে চাকরি ছেড়ে তিনি ন্যাশনাল লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এ উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগদান করেন। ৩ বছর চাকরি করার পর তিনি দুবাই চলে যান । এক বছর পর দেশে ফিরে প্রগতি লাইফে উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যুক্ত হন তিনি। বিশিষ্ট বীমাবিদ জাফর হালিম (প্রয়াত), একচ্যুয়ারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে চলে গেলে তিনি এখানে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে তার স্থলাভিষিক্ত হন। প্রগতি লাইফে ডিএমডি ও ভারপ্রাপ্ত এমডি পদে মোট ৬ বছর কাজ করে চার্টার্ড লাইফে এমডি পদে ৭ মাস এবং প্রোটেক্টিভ লাইফে একই পদে দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর কাজ না পেয়ে ৬/৭ মাস বসে থাকেন তিনি। এরপর কিছুদিন পর বায়রা লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কাজ করে সেখান থেকে ইস্তফা দেন কামরুল। তারপর পদ্মা ইসলামী লাইফে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চঃ দাঃ) পদে ৬ মাস তিনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) প্রতিবেদনে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত ঋণখেলাপী হওয়ায় পদ্মা ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নিয়মিত পদে তিনি অযোগ্য হন। ফলে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক তার নিয়োগ অনুমোদন বাতিল করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আইডিআরএ থেকে পদত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন বেকার ছিলেন। অল্প সময়ের জন্য কামরুল হাসান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এ মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগ দেন। কিন্তু আইডিআরএ তার নিয়োগ অনুমোদন দেয়নি।
২০২২ সালের ২৩ জুন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সদস্য (লাইফ) পদে অভিজ্ঞ বীমা নির্বাহী কামরুল হাসানকে ৩ বছরের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নিয়োগ প্রদান করে। নিয়োগ পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে দেশের জীবন বীমা কোম্পানি থেকে অনিয়মের অভিযোগ আসতে শুরু করে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- বীমা দাবীর চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কোম্পানির কাছ থেকে ‘প্যাকেট’ গ্রহণ, কোম্পানির অর্থে দেশ-বিদেশে আনন্দ ভ্রমণ, ‘বিশেষ ব্যবস্থার বিনিময়ে ভূয়া শিক্ষা সনদ, অভিজ্ঞতা ও বয়স সময়কালের অযোগ্য প্রধান নির্বাহীদের সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা, বছরের পর বছর অবৈধভাবে চলতি দায়িত্বে সিইওদের টিকিয়ে রাখা, যোগ্যদের ফাইল আটকে রাখা, অন্য কোম্পানির ছাড়পত্রবিহীন সিইওদের নতুন কোম্পানিতে যোগদানের ক্ষেত্রে ‘আর্থিক সুবিধায় তাদের ছাড় দেওয়া। শোনা যায় আইডিআরএ’র ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেনের সময়ে চেয়ারম্যান, সদস্য (লাইফ) ও পরিচালককে (লাইফ) কুরবানীর উপহারস্বরূপ প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ষাঁড় কিনে পাঠিয়েছিলেন সোনালী লাইফের সাবেক সিইও এমন অভিযোগ বীমা পাড়ায় মুখে মুখে ছিল।
দুর্নীতি ও অনিয়মে অভিযুক্ত সে সময়কার আইডিআরএ সদস্য কামরুল হাসানের জন্য বিব্রত ও নাখোশ ছিল লাইফ কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ভয়ে তারা কিছুই বলতে পারতেন না। একের পর এক ‘সুবিধা দিতে গিয়ে কোম্পানির বার্ষিক ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যেত। উল্লেখ্য, সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী তাকে অপছন্দ করতেন। কোম্পানি পরিচালনায় পারতপক্ষে তিনি সদস্যকে (লাইফ) ফাইল পাঠাতেন না । বরং নিচের পদের কর্মকর্তাকে কাজ সম্পাদনের জন্য চেয়ারম্যান দায়িত্ব দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতেন।
২০২৩ সালে অনৈতিক পথ অবলম্বন করে অর্থ দাবীর অভিযোগ ওঠে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর (আইডিআরএ) সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ ওঠে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড থেকে। ২০২৪ সালে প্রথমদিকে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. জহির উদ্দিনকে সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসান বলেছিলেন, ‘তোমার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বলেছেন। তুমি এখানে (আইডিআরএ) আসলে শুধু আমার সঙ্গে দেখা করবা। অন্য কারো সঙ্গে নয়! প্রগ্রেসিভ লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইওকে ভয় দেখাতেন কামরুল হাসান!
দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের জীবন বীমা কোম্পানি প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর কোম্পানি সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিনকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে কোম্পানির এমডি বানিয়ে দিবেন বলে সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে তখন অভিযোগ ওঠে। বিষয়গুলোর প্রমাণসহ আইডিআরএ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে মো. জহির উদ্দিন অবহিত করেছিলেন সে সময়।
সে সময় জানা যায়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর (আইডিআরএ) সদস্য (লাইফ) প্রগ্রেসিভ লাইফের হুমায়ুন নামের সাবেক এক মাঠ নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি কামরুল হাসানের ঘনিষ্ঠ ও পূর্ব পরিচিত; তার মাধ্যমে জহির উদ্দিনকে ডেকে পাঠান এই কামরুল হাসান। কামরুল হাসান তার অফিস কক্ষে জহির উদ্দিনকে তখন বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও মেয়ে দেশের বাহিরে থাকে; তাদের টাকা পাঠাতে হয়। আমি খুব কম টাকা বেতন পাই, তাতে আমার চলে না। গাড়ির ২০০ লিটার জ্বালানি সরকার দেয়, তাতেও চলে না, গুলশান যেতে আসতে অর্থ শেষ হয়ে যায়। প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা এবং আমাকে নিয়ে বীমা দাবী পরিশোধের মিটিং করবা। প্রতিটি সভায় ২ লাখ টাকা করে সম্মানী দিবা।’ প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর ‘বিতর্কিত’ ও ক্ষমতাবান কোম্পানি সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন (বর্তমানে সাবেক) সে সময় কামরুল হাসানের অনৈতিক এ আবদার নিয়ে প্রচার করতে থাকে। গোটা বীমা পাড়ায় তোলপাড় শুরু হয় তখন। বিক্ষুদ্ধ মো. জহির উদ্দিন কামরুল হাসানের বিষয়টি মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তখন অবহিত করেন।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর (আইডিআরএ) সাবেক সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে অর্থকাগজ অনলাইনে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. শেফাক আহমেদ, একচ্যুয়ারী থেকে শুরু করে সাবেক সচিব শফিকুর রহমান পাটওয়ারী, বীমা নির্বাহী ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএ, সাবেক সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী ও ড. এম আসলাম আলম কেউই আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদে নানা কারণে বেশি সময় থাকতে পারেননি। এর বেশিরভাগ কারণ ছিল রাজনৈতিক এবং সরকার পরিবর্তন। এরমধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত ছিলেন ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্র জানায়, বীমা পেশার অভিজ্ঞ কর্মকর্তা দ্বারা চেয়ারম্যানের পদটি পূরণ করা সম্ভবপর না হলে সরকারের সাবেক সচিব হচ্ছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান। তবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বীমা পেশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অধিক গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন। প্রার্থী বাছাই, বাংলাদেশ ব্যাংক এর সিআইবি ছাড়পত্র ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে। সূত্র আরো জানায়, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রির সিদ্ধান্ত দেয়ার পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্ত অনুমোদন দিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ●
অকা/ বীখা/ বিপ্র/ সৈইহো/সকাল, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 10 hours আগে

