Close Menu
অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • পুঁজি বাজার
    • নির্বাচিত লেখা
    • আলাপন
    • পরিবেশ
    • আরও
      • আর্থিক খাত
      • আবাসন খাত
      • তৈরি পোশাক শিল্প
      • ওষুধ শিল্প
      • কৃষি শিল্প
      • ই-কমার্স
      • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
      • চামড়া শিল্প
      • তথ্য ও প্রযুক্তি
      • পর্যটন
      • বিশেষ প্রতিবেদন
      • বাণিজ্য
      • প্রবাসী আয়
      • পোলট্রি খাত
      • বাজার
      • শিক্ষা খাত
      • শিল্প খাত
      • রাজস্ব
      • মৎস্য খাত
      • শ্রম বাজার
      • স্বাস্থ্য অর্থনীতি
      • হিমায়িত খাদ্য
      • যোগাযোগ
      • পরিবহন খাত
      • নগর দর্পন
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভিনদেশ
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • পুঁজি বাজার
    • নির্বাচিত লেখা
    • আলাপন
    • পরিবেশ
    • আরও
          • আর্থিক খাত
          • ওষুধ শিল্প
          • চামড়া শিল্প
          • বাণিজ্য
          • বাজার
          • মৎস্য খাত
          • যোগাযোগ
          • হিমায়িত খাদ্য
          • বিশেষ প্রতিবেদন
          • তথ্য ও প্রযুক্তি
          • প্রবাসী আয়
          • শিক্ষা খাত
          • কৃষি শিল্প
          • শ্রম বাজার
          • পরিবহন খাত
          • ভিনদেশ
          • রাজস্ব
          • বিশ্ব অর্থনীতি
          • আবাসন খাত
          • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
          • ই-কমার্স
          • পর্যটন
          • পোলট্রি খাত
          • শিল্প খাত
          • স্বাস্থ্য অর্থনীতি
          • তৈরি পোশাক শিল্প
          • নগর দর্পন
    সোমবার, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ

    মেধাও হোক ঋণের জামানত

    এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ৩:২৫ অপরাহ্ণUpdated:এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ৩:২৫ অপরাহ্ণ19
    শেয়ার
    Facebook Twitter LinkedIn Email WhatsApp Copy Link

    মারুফা ইয়াসমিন অন্তরা ●

    দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধা পাচার শুধু গালভরা একটি শব্দ বা তাত্ত্বিক আলোচনা নয় বরং এটি গভীর ও মৌন জাতীয় সংকট। বলা যেতে পারে ‘মেধার রক্তক্ষরণ’। প্রতি বছর দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বের হওয়া মেধাবীদের বিশাল একটি অংশ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ভর্তুকিতে গড়ে ওঠা এই মেধাবীরা মূলত উচ্চশিক্ষা বা উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ-আমেরিকা ও কানাডার দিকে ছুটছেন বেশির ভাগ। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে শিক্ষার্থী যাওয়ার হার অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য মতে, বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। শঙ্কার ব্যাপার হলো, এদের একটি বড় অংশই শিক্ষা শেষে আর দেশে ফিরে আসছেন না। এই ‘ওয়ান-ওয়ে ট্রাফিক’ বা একমুখী যাত্রা আমাদের মেধাসম্পদকে অন্য দেশের জিডিপিতে যোগ করছে, যেখানে আমাদের দেশ বঞ্চিত হচ্ছে তাদের মেধা থেকে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা আমাদের এক ভয়াবহ মেধাশূন্য জাতিতে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। অথচ এই মেধাবীরাই পারতেন দেশের মাটিতে বসে সিলিকন ভ্যালির মতো স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কিংবা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু মেধা থাকলেও তাদের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুঁজির সংকট। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী দেশ ছাড়লে রাষ্ট্র কেবল একজন মানুষকেই হারায় না। একই সঙ্গে হারায় তার শিক্ষার পেছনে করা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং আগামী ৩০-৪০ বছরের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অবদান। এই শূন্যস্থান পূরণ করতে আমাদের আমদানিকৃত বিদেশি বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স উল্টো দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। পুঁজির অভাব এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা আমাদের তরুণদের স্বপ্নগুলোকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে বাধ্য করছে। মেধাবীরা যেখানে তাদের সৃজনশীলতাকে পণ্য হিসেবে রূপান্তর করতে পারতেন, সেখানে উপযুক্ত আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তারা পরদেশের কর্পোরেট চাকরিতে নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছেন। অথচ আমরা যদি মেধা ও সৃজনশীলতাকে ‘অদৃশ্য সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে পারতাম, তবে এই মেধাবীরাই হতে পারতেন আগামী দিনের ‘ইউনিকর্ন’ স্টার্টআপের নির্মাতা।  

    কিন্তু মেধা থাকলেও তাদের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুঁজির সংকট। একটি বাস্তব চিত্র কল্পনা করুন- বুয়েট থেকে পাস করা তুখোড় এক তরুণ একটি বিশেষ কৃষি-প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা দেশের চাষাবাদ বদলে দিতে পারে। কিন্তু সে যখন ব্যাংকে গেল, ম্যানেজার তাকে জিজ্ঞেস করলেন—'বাবা, তোমার কি ঢাকার আশেপাশে কোনো জমি আছে?' এই একটি প্রশ্নই হয়তো সেই তরুণের পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বর্তমানে আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটি ‘অ্যাসেট-বেজড লেন্ডিং’ বা সম্পদ-নির্ভর ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একজন ঋণগ্রহীতার যোগ্যতার মাপকাঠি তার সৃজনশীলতা নয়, বরং তার স্থাবর সম্পত্তি। বাংলাদেশে একজন তরুণ উদ্ভাবক আইডিয়া নিয়ে ব্যাংকে গেলেই ‘জামানতের’ দেয়ালে ধাক্কা খান। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা ডিজাইনারদের কাছে ব্যাংক প্রথমেই স্থাবর সম্পত্তি বা ‘কোল্যাটারাল’ দাবি করে বসে। অথচ মেধাবী উদ্যোক্তাদের শিক্ষা সনদ ও প্রকল্প ধরণ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের জামানত হতে পারে। আমাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিশ্বাস করে যে, ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা কেবল জমি বা ফ্ল্যাটের দলিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই ‘ইট-পাথরের’ গ্যারান্টি খোঁজা অনেকটা মধ্যযুগীয় মানসিকতার সামিল। বিশ্বজুড়ে এখন 'নন-ট্যাঞ্জিবল অ্যাসেট' (অস্পৃশ্য সম্পদ) যেমন—সফটওয়্যার কোড, অ্যালগরিদম, এবং পেটেন্টকে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ধরা হয়। অথচ আমাদের দেশে একজন উদ্ভাবকের মেধা ব্যাংকের খাতায় ‘জিরো ভ্যালু’ বহন করে। সৃজনশীল খাতে বিনিয়োগকে আমাদের ব্যাংকগুলো ‘হাই রিস্ক’ মনে করলেও বিশ্ব অর্থনীতি বলছে ভিন্ন কথা। সিলিকন ভ্যালির উত্থানই হয়েছে এই মেধার ওপর বাজি ধরে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের সরকার এবং ব্যাংকগুলো স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করেছে। যার ফলে আজ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে আইনি জটিলতা এবং সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্কের অভাবে ব্যাংকগুলো চাইলেও উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থায়ন করতে পারছে না। মেধাকে পুঁজি করে ঋণ দেওয়া কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের ব্যাংকিং কাঠামোতে কিছু টেকনিক্যাল এবং স্ট্রাকচারাল রিফর্ম আনতে হবে। জমি বন্ধকের বদলে নিবন্ধিত পেটেন্ট বা কপিরাইটকে সিকিউরিটি হিসেবে গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। এর জন্য একটি ‘আইপি ভ্যালুয়েশন সেল’ গঠন করা প্রয়োজন। এই সেলটিই সফটওয়্যার বা আর্টওয়ার্কের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্য নির্ধারণ করবে। প্রথাগত সিআইবি রিপোর্টের বদলে তরুণদের জন্য ‘ট্যালেন্ট ক্রেডিট স্কোর’ চালু করা যেতে পারে। এখানে একজন উদ্যোক্তার একাডেমিক রেকর্ড, তার স্কিলসেট, পূর্ববর্তী প্রজেক্টের ইমপ্যাক্ট এবং বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে (যেমন- GitHub বা Behance) তার রেটিংকে পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মেধানির্ভর প্রকল্পে ঝুঁকি কমাতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সেফটি নেট তৈরি করতে পারে। যদি কোনো সৃজনশীল প্রজেক্ট ব্যর্থ হয়, তবে সেই ঋণের একটি বড় অংশ (৭০-৮০%) কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিশোধের নিশ্চয়তা দেবে। এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভয় দূর করবে। ঋণ দেওয়ার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। সব টাকা একসঙ্গে না দিয়ে প্রকল্পের ‘মাইলস্টোন’ অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা উচিত। ‘সিড ফান্ডিং’- ‘প্রোটোটাইপ’ বা ‘আইডিয়া’ প্রমাণের জন্য প্রাথমিক মূলধন। ‘স্কেলিং লোন’- যখন উদ্যোগটি বাজারে সাড়া ফেলবে এবং আয়ের মুখ দেখবে, তখন বড় অংকের ঋণ। শুধু টাকা দেওয়াই সমাধান নয়। ব্যাংকের সঙ্গে ‘থার্ড-পার্টি ইনকিউবেটর’ বা ‘মেন্টরশিপ’ প্রোগ্রাম যুক্ত থাকতে হবে। সৃজনশীল একজন মানুষের কারিগরি জ্ঞান থাকলেও তার ব্যবসায়িক বা বিপণন জ্ঞান কম থাকতে পারে। ‘মেন্টরশিপ’ থাকলে ঋণের টাকা সঠিকভাবে বিনিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। আধুনিক বিশ্বে ‘ইন্টেলিজেন্ট ক্যাপিটাল’ বা বুদ্ধিভিত্তিক মূলধনকে প্রকৃত মূলধন ধরা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো তাদের মোট ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ‘আইপি-কোলেটারাল’ হিসেবে দিয়ে থাকে। বাংলাদেশেও যদি এই মডেল চালু করা যায়, তবে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ মানে মেধা পাচার কেবল কমবেই না, বরং বিদেশের বসবাসরত মেধাবীরাও বাংলাদেশে ফিরে এসে কাজ করতে উৎসাহিত হবে। কর্মসংস্থানের আকালে দেশের মেধাবীদের উপযুক্ত পারিশ্রমিকে কাজে লাগাতে না পেরে আমাদের দেশে নিয়োজিত বিদেশী পরামর্শগণ দেশের উন্নয়নের অনেকটা লাভ গিলে ফেলছেন।

    আমাদের নীতিনির্ধারকদের জন্য এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল সংখ্যা নয়, বরং একটি অশনি সংকেত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সাধারণ বেকারত্বের হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এটি প্রমাণ করে যে, আমাদের প্রথাগত কর্মসংস্থান মেধা ও সৃজনশীলতাকে ধারণ করার ক্ষমতা হারিয়েছে। ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’ -এ বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উদ্ভাবনী সক্ষমতায় আমরা ভারত বা ভিয়েতনামের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে। ভারত যেখানে ইনোভেশন ইনডেক্সে শীর্ষ ৪০-এ জায়গা করে নিয়েছে, সেখানে আমাদের অবস্থান তালিকার শেষাংশের কাছাকাছি। এর প্রধান কারণ হলো গবেষণায় বিনিয়োগের অভাব এবং সৃজনশীল উদ্যোগের জন্য পর্যাপ্ত দেশীয় অর্থায়নের অনুপস্থিতি। বর্তমানে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে যে বিনিয়োগ আসছে, তার সিংহভাগই বিদেশি উৎস থেকে আসা। দেশীয় ব্যাংকিং খাতের অনীহার কারণে আমাদের শ্রেষ্ঠ স্টার্টআপগুলোর মালিকানার বড় অংশ চলে যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। ফলে লাভের গুড় যেমন বিদেশে যাচ্ছে, তেমনি উদ্ভাবনের নিয়ন্ত্রণও থাকছে বিদেশের হাতে। যদি আমাদের স্থানীয় ব্যাংকগুলো মেধা ও সৃজনশীলতার ওপর ভিত্তি করে ঋণের ব্যবস্থা করত, তবে মালিকানা ও মুনাফা—উভয়ই দেশের ভেতরেই থাকত। অর্থনীতিবিদদের মতে, মেধা ও সৃজনশীলতাকে যদি ব্যাংকিং ঋণের আওতায় আনা যায়, তবে আগামী ৫ বছরে দেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান অন্তত ৩-৫% বৃদ্ধি করা সম্ভব। এটি শুনতে ছোট মনে হলেও বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যাত্রায় এটি হবে এক বিশাল মাইলফলক। এর মধ্যে কেবল সফটওয়্যার বা আইটি নয়, বরং স্থাপত্য , গ্রাফিক ডিজাইন, মিউজিক প্রোডাকশন, ই-কমার্স এবং সোশ্যাল ইনোভেশনও অন্তর্ভুক্ত। প্রতি ১ কোটি টাকার ‘ট্যালেন্ট লোন’ গড়ে ১০-১৫ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে, যা প্রথাগত ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল খাতকে (যেমন- কে-পপ, ড্রামা, গেমিং) ঋণের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আজ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাজার দখল করেছে। আমাদেরও সেই পথে হাঁটার সুযোগ রয়েছে।

    বিশ্বের বর্তমান শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশেরই মূল সম্পদ হলো তাদের ডেটা, অ্যালগরিদম এবং পেটেন্ট—যাকে খালি চোখে দেখা যায় না। আমাদের ব্যাংকিং নীতিমালায় যতক্ষণ না এই ‘অদৃশ্য সম্পদ’ বা ‘ইনট্যানজিবল এসেটকে’ ঋণ পাওয়ার যোগ্য জামানত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কেবল মেধাবী মানুষ রফতানি করে যাব। মেধার ওপর ঋণ প্রদান কেবল বাণিজ্যিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি স্বনির্ভর জাতি গঠনের দীর্ঘমেয়াদী এবং লাভজনক বিনিয়োগ। যেদিন আমাদের ব্যাংকগুলো একজন তরুণের ‘বিজনেস প্ল্যান’ বা ‘আইডিয়ার’ গভীরতা দেখে চেক বই বের করবে, সেদিন থেকে কেবল মেধা পাচারই বন্ধ হবে না, বরং শুরু হবে ‘ব্রেইন গেইন’। অর্থাৎ, বিদেশের মাটিতে কাজ করা আমাদের দক্ষ বিশেষজ্ঞরা তখন দেশের মাটিতে ফিরে এসে বিনিয়োগ করতে এবং কাজ করতে উৎসাহিত হবেন। আমরা যদি ২০৪১ সালের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখি, তবে সেই স্মার্টনেসের মূল চাবিকাঠি হতে হবে আমাদের তরুণদের সৃজনশীলতা। ইট-কাঠ-পাথরের উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও মেধার উন্নয়নই টেকসই অগ্রগতির মূল ভিত্তি।
    আমাদের এমন একটি অর্থ ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে কোনো তরুণের পকেটে টাকা না থাকলেও তার মাথায় যদি একটি দেশ বদলানোর ‘আইডিয়া’ থাকে, তবে দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমই হবে তার সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। যেদিন ব্যাংকের কাউন্টারে বন্ধকী দলিলের বদলে একজন মেধাবীর কপিরাইট বা একজন প্রোগ্রামারের কোডকে হাসিমুখে গ্রহণ করা হবে, সেদিন থেকেই প্রকৃত অর্থে একটি ‘মেধাতান্ত্রিক’ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। মেধা পাচার রুখে দিয়ে মেধাকে সম্পদে রূপান্তর করার লড়াইটা শুরু হোক আজ থেকেই। ●

    লেখক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কলাম লেখক
    অকা/ নিলে/সৈইহো/ দুপুর/ ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

    সর্বশেষ হালনাগাদ 1 hour আগে

    এই বিষয়ে আরও সংবাদ

    ব্যাংক মালিকানা পুনরুদ্ধার: সংস্কার নাকি সংকটের নতুন দ্বার?

    খামারির ক্ষতি, বাজারে দামের আগুন

    নীতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ

    বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেও স্থিতিশীল ডলার বাজার

    দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.০৩ শতাংশে

    দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

    Comments are closed.

    সাম্প্রতিক সংবাদ

    মেধাও হোক ঋণের জামানত

    ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইন

    ব্যাংক ঋণ বাড়ায় ট্রেজারি বিলের সুদে ঊর্ধ্বমুখী চাপ

    বৈদেশিক ঋণের চাপ: সামনে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা

    জ্বালানি মূল্য বাড়লেও কর স্থির রাখার কৌশল সরকারের

    ব্যাংক মালিকানা পুনরুদ্ধার: সংস্কার নাকি সংকটের নতুন দ্বার?

    সন্ধানী লাইফ ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যাংক্যাসুরেন্স কার্যক্রম উদ্বোধন

    ইরানে ক্ষতি ১৮ লাখ কোটি টাকা

    ধীর পুনরুদ্ধারের পথে অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি ৪% পূর্বাভাস

    খামারির ক্ষতি, বাজারে দামের আগুন

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দারিদ্র্যের নতুন ঝুঁকি

    নীতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ

    বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেও স্থিতিশীল ডলার বাজার

    বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারে চাপে শেয়ার বাজার

    খেলাপি ঋণের পাহাড়, অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ

    তালিকায় সাবেক সদস্য কামরুল ও সুলতান মোল্লা
    আইডিআরএ চেয়ারম্যানের শূন্য পদে অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজদের জোর লবিং

    দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.০৩ শতাংশে

    বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও লোকসানের ঝুঁকি
    যুদ্ধের অভিঘাতে শিল্পে ‘কস্ট-পুশ’ সংকট

    মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত, তবুও আয়-ব্যয়ের চাপ কাটেনি

    দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

    সম্পাদক প্রণব কুমার মজুমদার

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় - ৬২/১, পুরানা পল্টন (দোতলা), দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

    বিটিসিএল ফোন +৮৮০২৪১০৫১৪৫০ +৮৮০২৪১০৫১৪৫১ +৮৮০১৫৫২৫৪১৬১৯ (বিকাশ) +৮৮০১৭১৩১৮০০৫৩

    ইমেইল - arthakagaj@gmail.com

    Editor PRANAB K. MAJUMDER
    Editorial & Commercial Office - 62/1, Purana Paltan (1st Floor), Dainik Bangla Crossing, Paltan, Dhaka, Bangladesh.
    BTCL Phone +880241051450 +880241051451 +8801552541619 (bkash) +8801713180053
    Email - arthakagaj@gmail.com

    ২০২৪
    অর্থকাগজ
    | আমাদের বৃত্তান্ত | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা | প্রচার | বিজ্ঞাপন | বিজ্ঞপ্তি | যোগাযোগ

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.