অর্থকাগজ প্রতিবেদন ● বেসরকারি বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৪.৯%-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করছে অর্থ বিভাগ। এতে বেসরকারিখাতে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এজন্য বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহে ১৫% প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করা হচ্ছে।
সরকার নিজেই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ বাড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো। আর এসব খাতের উদ্যোক্তারাই ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছেন সবচেয়ে কম। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে গেলে এসএমই খাতের উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোভিডের ধাক্কা সামলে শিল্প খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনা, সম্প্রসারণ, কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির ব্যয় মেটাতে এখন বাড়তি অর্থের প্রয়োজন। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে ঋণের সুযোগ কমে আসলে করোনা থেকে ব্যবসাবাণিজ্যের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হবে বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ঋণে প্রক্রিয়াগত জটিলতা না থাকায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা সব সময় সরকারকে ঋণ দিতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে। সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়লে এর প্রভাবে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমানে আমানত প্রবৃদ্ধি ভালো নয়। আগামী অর্থবছরও এটি ভালো হবে বলে মনে হয় না।
"মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে মানুষের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে, যা আগামী বছরও অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় নতুন অর্থবছরে সরকার এত বেশি ঋণ নিলে বেসরকারিখাতে 'ক্রাউড-আউট' পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে"- যোগ করেন তিনি।
তবে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় অর্থসচিব বলেন, টানা তিন বছর ধরে ১৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য থাকলেও গত দুই বছর ধরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮-৯ শতাংশের মধ্যে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৮৭%। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি খুবই অস্থিতিশীল। এ অবস্থায় কোনো খাতে নতুন বিনিয়োগ হবে না। দেশেও গ্যাসের রেশনিং শুরু হয়েছে, আগামীতে হয়তো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে কেউই নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না।
#
অকা/ব্যাংখা/দুপুর, ২৭ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে

