Close Menu
অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • পুঁজি বাজার
    • নির্বাচিত লেখা
    • আলাপন
    • পরিবেশ
    • আরও
      • আর্থিক খাত
      • আবাসন খাত
      • তৈরি পোশাক শিল্প
      • ওষুধ শিল্প
      • কৃষি শিল্প
      • ই-কমার্স
      • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
      • চামড়া শিল্প
      • তথ্য ও প্রযুক্তি
      • পর্যটন
      • বিশেষ প্রতিবেদন
      • বাণিজ্য
      • প্রবাসী আয়
      • পোলট্রি খাত
      • বাজার
      • শিক্ষা খাত
      • শিল্প খাত
      • রাজস্ব
      • মৎস্য খাত
      • শ্রম বাজার
      • স্বাস্থ্য অর্থনীতি
      • হিমায়িত খাদ্য
      • যোগাযোগ
      • পরিবহন খাত
      • নগর দর্পন
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভিনদেশ
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • পুঁজি বাজার
    • নির্বাচিত লেখা
    • আলাপন
    • পরিবেশ
    • আরও
          • আর্থিক খাত
          • ওষুধ শিল্প
          • চামড়া শিল্প
          • বাণিজ্য
          • বাজার
          • মৎস্য খাত
          • যোগাযোগ
          • হিমায়িত খাদ্য
          • বিশেষ প্রতিবেদন
          • তথ্য ও প্রযুক্তি
          • প্রবাসী আয়
          • শিক্ষা খাত
          • কৃষি শিল্প
          • শ্রম বাজার
          • পরিবহন খাত
          • ভিনদেশ
          • রাজস্ব
          • বিশ্ব অর্থনীতি
          • আবাসন খাত
          • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
          • ই-কমার্স
          • পর্যটন
          • পোলট্রি খাত
          • শিল্প খাত
          • স্বাস্থ্য অর্থনীতি
          • তৈরি পোশাক শিল্প
          • নগর দর্পন
    শনিবার, ৭ চৈত্র, ১৪৩২ | ২১ মার্চ, ২০২৬
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ

    উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা প্রয়োজন

    ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২ ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণUpdated:ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২ ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ1
    শেয়ার
    Facebook Twitter LinkedIn Email WhatsApp Copy Link

    রেজাউল করিম খোকন ●

    বাংলাদেশ এক অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখ-টি এক সময়ে বিভিন্ন উপনিবেশিক শাসন শোষণে অন্ধকার গহ্বরের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, বন্যা, খরা, মহামারীর কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়েছে বাংলার জনপদ। অভাব, দুঃখ, দারিদ্রকে নিত্যসঙ্গী করে বাঁচতে হয়েছে এদেশের কোটি কোটি মানুষকে। পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসনামলে শাসকচক্র এখানকার মানুষের পরিশ্রমে অর্জিত সুফল জোর করে সুকৌশলে নিয়ে গেছে তাদের দেশে। পশ্চিম পাকিস্তানের ভূখ-ে সমৃদ্ধশালী হয়েছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লুটে নেওয়া সম্পদের মাধ্যমে। অবহেলিত অযতেœ লালিত এদেশের মানুষের দুঃখ দুর্দশা দূর করতে পশ্চিমা শাসক শোষকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন একজন মহান মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির স্বাধীকার সার্বভৌমত্বের দাবিতে এদেশের মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিবাদি সংগ্রামে সামিল করেছিলেন মহান সেই মানুষটি। আপোষহীন, নির্ভীক, সাহসী জনদরদী একজন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এদেশের মানুষের কাছে। বাংলার আপামর জনগণ তাঁকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে আন্দোলন সংগ্রামের কঠিন পথে যাত্রা শুরু করেছিল। তখনই বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের কাছে বাংলার অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন। এখানে অফুরন্ত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। চাইলে এখানে সোনা ফলানো সম্ভব। বাংলার পরিশ্রমী উদ্যমী মানুষগুলো চেষ্টা করলে মেধা ও শ্রমে উপযুক্ত ব্যবহার ঘটিয়ে সোনার এক দেশ গড়া সম্ভবÑ তেমন উপলদ্ধি জাগিয়ে তুলেছিলেন এদেশের মানুষের মনে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের পথ পাড়ি দিয়ে মুক্ত করেছে এদেশকে। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্র জায়গা করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন উপনিবেশিক শাসন শোষণে জর্জরিত এদেশটি অনেক সম্ভাবনাময়। এদেশের মানুষ অনেক পরিশ্রমী, সংগ্রামী বিরূপ প্রকৃতির সাথে লড়াই করে তারা টিকে থাকে, নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে। বঙ্গবন্ধু এই অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে। তিনি ক্রমেই সাজিয়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার সব পরিকল্পনা। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, আধুনিক প্রযুক্তি সবকিছুর অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে নতুন নতুন পরিকল্পনা, চিন্তা-ভাবনা ছিল তার মনে। যার বাস্তবায়নও শুরু করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে। যার প্রায় সবগুলোই দারুণ সম্ভাবনাময় হিসেবে সুফল দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, সেই দুরদর্শী অদম্য, বিচক্ষণ জনদরদী চিরসংগ্রামী মানুষটিকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ষড়যন্ত্রকারী ঘাতকের নির্মম বুলেট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল অফুরন্ত সম্ভাবনার আধার হিসেবে। সেই মহান নেতার আকষ্মিক বিদায়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে গিয়েছিল। উজ্জ্বল সম্ভাবনাগুলো আবার অন্ধকারে তলিয়ে যেতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেই অনিশ্চিত অন্ধকার থেকে বাংলাদেশ আবার আলোর পথ ধরে চলার দিশা খুঁজে পায় ব্ঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে। তার সুযোগ্য, দক্ষ, বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার গতিশীল উদ্যমী বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাংলাদেশকে আমুল বদলে দিয়েছে। টেকসই উন্নয়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এদেশ। দুর্বল , অনুন্নত, নড়বড়ে অবস্থা থেকে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। প্রচলিত অবকাঠামোর আধুনিক রূপান্তর সম্ভাবনার নতুন নতুন দিক উন্মোচণ করছে প্রতিদিন। যেসব খাত কিংবা ব্যবসা আগে অবহেলিত অবস্থায় ধুঁকে ধুঁকে চলছিল সেগুলোতে নবজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। অমিত সম্ভাবনার হাতছানি এদেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত, আগ্রহী করে তুলছে। অবহেলায়, অযতেœ লালিত সেই সম্ভাবনাময় খাতগুলো ক্রমেই জেগে উঠছে। উন্নয়নের অগ্রদূত, উন্নত বাংলাদেশের কা-ারি শেখ হাসিনা সেই সম্ভাবনাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এগিয়ে নিতে বরাবরই আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ, দপ্তর, মন্ত্রণালয়কে সময়ে সময়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। ফলে সম্ভাবনার নতুন নতুন খাতের বিকাশ ঘটে চলেছে। সম্ভাবনাময় নতুন নতুন খাতগুলো বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে, অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই অক্ষম, দুর্বল, মেধাহীন নয়। তারা অনেক পরিশ্রম করতে পারে। সেই সক্ষমতা, উদ্যমী মনোভাবকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন কারিশমেটিক নেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নতুন বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন অনেকবার। তার সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের অগণিত মানুষ জেগে উঠেছে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারীপুরুষ যারা এর আগে বেকারত্ব, দারিদ্রতা, আর অসহায়ত্বের বেড়াজালে নিজেদের বন্দী করে রেখেছিল, তারা এখন নিজের মেধা, বুদ্ধিমত্তা, শক্তি, সাহস, পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনার নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে নিজেই নিজের ভাগ্য নতুনভাবে গড়ে তুলছেন। এভাবে সবার সম্মিলিত উদ্যোগে পাল্টে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকা, জনপদের চিত্র। সম্ভাবনার উজ্জ্বল চমক দ্যুতি ছড়াচ্ছে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টা এবং দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় বাংলাদেশ।
    বাংলাদেশ কখনই ভিক্ষার ঝুলি ছিল না। দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নই তা প্রমাণ করে। বরং স্বাধীন দেশেও দীর্ঘদিন সামরিক শাসন থাকার কারণে বাংলাদেশ সম্ভাবনা অনুযায়ী সাফল্য অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়েছে। টানা ১৫ বছর সামরিক শাসন না থাকলে বাংলাদেশ হয়তো ৫০ বছরেই উন্নত দেশে পরিণত হতো। তা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। একাত্তরে বিশ্বের মানচিত্রে যখন নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়, তখন অর্থনৈতিকভাবে এটির টিকে থাকা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। অথচ সেই দেশটিই অর্থনৈতিক ও সামাজিক এমন কোন সূচক নেই যে, অগ্রগতি লাভ করেনি। আর সবচেয়ে বড় নিন্দুকেরাও এখন বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন অবিশ্বাস্য রকমের। বিশ্ববাসী যা ভাবতে পারেনি, তাই করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ সময় পাট রফতানি করে দেশটি অধিকাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করত। বিশ্বে পলিপ্রোপাইলিন যুগ আসার পর পাটপণ্যের চাহিদা দ্রুত হ্রাস পায়, কিন্তু সেই শূন্যস্থান ক্রমান্বয়ে দখল করে নেয় তৈরি পোশাক খাত।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব চাইতে বেশি অবদান এই তৈরি পোশাক খাতেরই। এই শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোট প্রবৃদ্ধির ৬-৮ শতাংশই আসছে পোশাক খাত থেকে। বাংলাদেশের এই শিল্পকে বর্তমানে উন্নত বিশ্বসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো অনুকরণ করছে। স্বাধীনতার পরে যে শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছে তার একমাত্র মাধ্যম কিন্তু এই পোশাক শিল্পই। বিশ্বের বুকে নিজেদের কঠোর শ্রম ও উৎপাদন দক্ষতা দেখাতে পারার প্রমাণ মেলে এই শিল্পের মাধ্যমে। এই শিল্পের ওপর ভর করেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বর্তমানে ৪১তম স্থানে উঠে এসেছে। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশ এখন পঞ্চম। এককালের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ ২০৩৫ সালে হতে যাচ্ছে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় ২৫টি অর্থনীতির দেশের একটি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস এ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর)। অথচ স্বাধীনতার ঠিক পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা শোনা যেতে থাকে। মূলত এ সব দুর্ভাবনা ছড়িয়েছিল একাত্তরের যুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান সরকার। তাদের বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশ যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে একটা টেকসই রাষ্ট্র হবে না। মূলত এই ধারণা থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একটি ভিক্ষার ঝুলি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।স্বাধীন দেশে ১৯৭২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রথম যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল, সেখানে বাংলাদেশ নিয়ে হতাশার কথাই ছিল বেশি। বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ‘সবচেয়ে ভাল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ একটি নাজুক ও জটিল উন্নয়ন সমস্যার নাম। দেশের মানুষেরা গরিব। মাথাপিছু আয় ৫০ থেকে ৭০ ডলার, যা গত ২০ বছরেও বাড়েনি। একটি অতি জনবহুল দেশ (প্রতি বর্গমাইলে জনসংখ্যা প্রায় এক হাজার ৪০০) এবং জনসংখ্যা আরও বাড়ছে (বছরে ৩ শতাংশ হারে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি) এবং দেশটির মানুষ অধিকাংশই নিরক্ষর (সাক্ষরতার হার ২০ শতাংশের কম)।’
    স্বাধীনতার ঠিক পাঁচ বছর পর ১৯৭৬ সালে নরওয়ের অর্থনীতিবিদ জাস্ট ফ্যালান্ড এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জে আর পারকিনশন বাংলাদেশ : দ্য টেস্ট কেস ফর ডেভেলপমেন্ট নামের একটি গবেষণামূলক বইয়ে লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, যদি এই দেশটি উন্নতি করতে পারে, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায় পৃথিবীর যে কোন দেশ উন্নতি করতে পারবে।’ এর আগে ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। যার মানে হচ্ছে, এখানে যত অর্থই ঢালা হবে, তলা না থাকায় কোন কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। কিসিঞ্জারের পর সেই সময়ের অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও অনেকেই তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছিলেন বাংলাদেশ হবে অর্থনৈতিক তত্ত্বের একটি অগ্নিপরীক্ষা বা টেস্ট কেস। সেসব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে, তখন অনেক বিবেচনাতেই বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। এখন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদ ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মুখে বাংলাদেশের উন্নয়নের জয়গান শোনা যায়। সমৃদ্ধির বহু নামে বাংলাদেশকে পরিচিতি দেয়া হয় বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে।কিন্তু ঈর্ষণীয় এ সব অর্জনের উচ্চতার সবচেয়ে বড় পরিমাপের পরিষ্কার ধারণা উঠে এসেছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে। বিশ্বের নীতিনির্ধারণী এই আন্তর্জাতিক সংস্থার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তকমা ঘুচিয়ে উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতার পর প্রথম কয়েক বছর বাংলাদেশের লেগেছে পুনর্গঠনের জন্য। পাকিস্তানী সেনারা অত্যন্ত নির্মমভাবে এদেশের রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোকে ধ্বংস করেছিল। ধ্বংস করেছিল দেশের অবকাঠামোকে কিন্তু তা সত্ত্বেও পুনর্গঠনের পর্যায় অতিক্রম করার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই এগিয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত দ্রুত হয় নব্বইয়ের দশক থেকে। তখন শুরু করে এখন পর্যন্ত গত তিন দশকে বাংলাদেশে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিতর্ক থাকলেও মাথাপিছু আয় অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মানবসম্পদের দিক থেকেও বাংলাদেশে অনেক উন্নতি হয়েছে।
    দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনেও অভূতপূর্ব সাফল্য দেখা গেছে। স্বাধীনতার সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি খাদ্যশস্য এখন উৎপাদন করতে পারছে দেশ। শুধু তাই নয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও অনেক বেড়েছে। বেড়েছে প্রবাসী আয়, আমাদনি ব্যয় ও রফতাািন আয়। সবচেয়ে বড় কথা, সেই ভিক্ষার ঝুলির অপবাদ পাওয়া সেই বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী হওয়ার পথে। ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে এই দেশের উন্নয়ন ব্যয়ের ৮০ শতাংশই বিদেশী সাহায্য ও ঋণের মাধ্যমে মেটানো হতো। বর্তমানে সেই দেশের বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয়ে বিদেশী ঋণ ও সাহায্যের পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। রাজস্ব আয়ের যে উদ্বৃত্ত অংশ থাকে, তা বিনিয়োগ করা হচ্ছে উন্নয়ন বাজেটে। এখন উন্নয়ন ব্যয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ আসছে বৈদেশিক সাহায্য থেকে। বাকি ৭০ শতাংশই নিজস্ব অর্থ থেকে যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এক সময় বৈদেশিক অর্থায়ন না পেলে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলেও সেটি নেয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু, এখন সেই অবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন নিজেদের অর্থে বৈদেশিক ঋণ ছাড়াই প্রকল্প নেয়ার সক্ষমতা অর্জন হয়েছে, যার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতুর মতো ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন। এর কৃতিত্ব জনগণের এবং আওয়ামী লীগ সরকারের। জনগণ টাকা দিয়েছে আর আওয়ামী লীগ সরকার নিজ দেশের টাকায় এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সাহস দেখিয়েছে। এ সব থেকে এটাই প্রমাণিত হয়- বাংলাদেশ কখনই ভিক্ষার ঝুলি ছিল না। ভিক্ষার ঝুলির তকমা লাগা সেই বাংলাদেশের গত ৫০ বছরে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ।
    #
    লেখক কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক ও সাবেক ব্যাংকার

    ananno86bolly@gmail.com
    অ/নিলে/ সকাল, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

    সর্বশেষ হালনাগাদ 4 years আগে

    এই বিষয়ে আরও সংবাদ

    ব্যাংক ও বীমার নিরাময়

    হরমুজ প্রণালী ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত

    তালের অর্থনীতি ও বজ্রপাত মোকাবেলা

    অর্থনৈতিক সাশ্রয়- টবে কাঁচা মরিচ উৎপাদন

    অপ্রয়োজনীয় সার ব্যবহারে আলুর উৎপাদনে ক্ষতি

    বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলার বনাম দুদেশের মুদ্রা

    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক সংবাদ

    প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ এর সঙ্গে ভিএ টেক ওয়াবাগ লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষর

    ক্রেডিট কার্ড লিমিট বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ

    ঈদ আগেই রেমিট্যান্সে জোয়ার

    ব্যাংক ও বীমার নিরাময়

    আমদানি বাড়লেও রমজানে ফলের দাম কেন কমছে না

    ব্লু-চিপ শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন আগ্রহ

    আতঙ্কে কেনাকাটা, বাজারে তেল–চিনির চাপ

    শেয়ারবাজারে নারীর আগ্রহ কমছে

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানি আদেশ কমার আশঙ্কা, শিল্পে ডিজেল কোটার দাবি

    এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো

    ঈদ কেনাকাটায় ফ্রিজ বিক্রিতে উচ্ছ্বাস – ক্রেতার পছন্দে ওয়ালটনের আধিপত্য

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের দামে বাংলাদেশের নতুন মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

    দুদকের জালে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
    এমডি ফরমান ও রাফাত উল্লাহের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ (১ম পর্ব)

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

    মজুত থাকলেও খাতুনগঞ্জে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কেন?

    কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পুরস্কার অর্জন

    ব্যাংক ঋণে ঢাকার আধিপত্য, দুই বিভাগেই প্রায় ৮৭ শতাংশ

    এলপি গ্যাস বাজারে অস্থিরতা, চড়া মূল্য দিচ্ছেন ভোক্তারা

    হরমুজ প্রণালী ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত

    কাতারের এলএনজি সংকটে গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা

    সম্পাদক প্রণব কুমার মজুমদার

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় - ৬২/১, পুরানা পল্টন (দোতলা), দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

    বিটিসিএল ফোন +৮৮০২৪১০৫১৪৫০ +৮৮০২৪১০৫১৪৫১ +৮৮০১৫৫২৫৪১৬১৯ (বিকাশ) +৮৮০১৭১৩১৮০০৫৩

    ইমেইল - arthakagaj@gmail.com

    Editor PRANAB K. MAJUMDER
    Editorial & Commercial Office - 62/1, Purana Paltan (1st Floor), Dainik Bangla Crossing, Paltan, Dhaka, Bangladesh.
    BTCL Phone +880241051450 +880241051451 +8801552541619 (bkash) +8801713180053
    Email - arthakagaj@gmail.com

    ২০২৪
    অর্থকাগজ
    | আমাদের বৃত্তান্ত | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা | প্রচার | বিজ্ঞাপন | বিজ্ঞপ্তি | যোগাযোগ

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.