অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারের দরপতন কোনোভাবেই থামছে না। ৪ মার্চ দেশের দুই পুঁজি বাজারের পতন গড়াল টানা পঞ্চম দিনে। এ কয়দিনে দুই বাজারই বড় ধরনের সূচক হারায়। উল্লিখিত সময় কিছু কিছু স্বল্প মূলধনের কোম্পানিকে কোনো কারণ ছাড়াই মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় দেখা গেলেও বাজারের মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও মূলধনসমৃদ্ধ কোম্পানিগুলো প্রায় প্রতিদিনই দর হারিয়েছে। এমনকি এসব কোম্পানির উদ্যোক্তাদের বাজার থেকে বড় আকারের শেয়ার কেনার ঘোষণাও এক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না।
গত পনেরো দিনের মধ্যে দেশের দুই পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত, মৌলভিত্তির দিক থেকে সামনের কাতারে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি স্কয়ার ফার্মার দুই উদ্যোক্তা ৩০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেও কোম্পানিটির শেয়ারদরে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এর মধ্যে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৫ লাখ ও ৪ মার্চ আরো ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন কোম্পানির দুই উদ্যোক্তা পরিচালক। ৪ মার্চের বাজারদরে এ শেয়ারের মূল্য ৬০ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু৪ মার্চ মূল্য হারিয়েই দিনশেষ করে কোম্পানিটি।
একই অবস্থা বহুজাতিক কোম্পানিসহ মৌলভিত্তিসম্পন্ন অন্যান্য কোম্পানিগুলোরও। প্রতি অর্থবছর শেষে এমনকি কোনো কোনো কোম্পানি অন্তর্বর্তী সময়ের জন্যও লভ্যাংশ ঘোষণা করে থাকে। এরপরও নেতিবাচক প্রবণতার কারণে শেয়ারদরে এর খুব কমই প্রভাব দেখা যায়। আর এটাই বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশকে বাজারবিমুখ করে তুলছে। কমে যাচ্ছে অংশগ্রহণ। ফলশ্রুতিতে তারল্য সঙ্কট দিনের পর দিন প্রবল হচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ মার্চ ২৬ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমেছে। পাঁচ হাজার ২২০ দশমিক ৬০ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ৪ মার্চ দিনশেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ১৯৪ দশমিক ১০ পয়েন্টে।
অপর দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৯৪ ও ৪ দশমিক ০৭ পয়েন্ট। অপরদিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সার্বিক মূল্যসূচক হারিয়েছে ৮২ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট। এ বাজারের সিএসই ৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৬০ দশমিক ৬৭ ও ৫৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট।
ডিএসইতে ৪ মার্চ লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের ওরিয়ন ইনফিউশন। দ্বিতীয় স্থানে ছিল লিনডে বাংলাদেশ। লেনদেনে এগিয়ে থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে আরো র্ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক ও কেডিএস এক্সেসরিজ লিমিটেড।
দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস। ‘জেড‘ গ্রুপে থাকা এ কোম্পানিটি ৪ মার্চ ‘বি’ গ্রুপে উন্নীত হলে এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ৪ মার্চ ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। এ ছাড়া লিনডে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৩১, শাইন পুকুর সিরামিকস ৩.৯৫ ও কেডিএস এক্সেসরিজের ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপরদিকে দিনের দরপতনে শীর্ষে ছিল সোনারগাঁও টেক্সটাইলস। ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।
ঢাকা স্টকে ৪ মার্চ ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার ৬১৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ছিল ৩৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৩৯৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৬৫টির দাম বাড়ে, ২৬৭টির কমে এবং ৬৪টির অপরিবর্তিত ছিল। অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ২৩৭টি লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে ৫১টির দাম বাড়ে, ১৪৯টির কমে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত /৪ মার্চ, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 12 months আগে

