অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সূচকের পতন অব্যাহত রয়েছে পুঁজি বাজারে। ২৬ মে টানা চতুর্থ দিনে গড়ায় দেশের দুই পুঁজি বাজারে সূচকের পতন। গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস ২২ মে থেকেই শুরু হয়েছে এ পতন। বরাবরের মতো ২৬ মেও লেনদেনের প্রায় অর্ধেক সময় কাটে সূচকের উন্নতিতে। কিন্তু এর পরেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজারগুলো। দিনের বাকি সময় এ চাপ আর সামলে উঠতে পারেনি বাজারগুলো। সূচকের পতন ঘটলেও সোমবার দুই বাজারেই লেনদেনের কমবেশি উন্নতি ঘটে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬ মে ১৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৪ হাজর ৭৩৬ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে ৪ হাজার ৭১৯ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে স্থির হয়। একই সময় ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট হ্রাস পায়। কিন্তু ডিএসই শরিয়াহ সূচকটি দশমিক ৭৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৬ মে ৫২ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। সিএসইর অন্য দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স হারায় যথাক্রমে ১০১ দশমিক ৫১ ও ৩৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে।
২৫ মে পুঁজি বাজারগুলোতে লেনদেনের বড় ধরনের অবনতি ঘটলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়। ২৬ মে মতিঝিলে বিভিন্ন ব্রোকার হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফোরগুলোতে গিয়ে দেখা যায় বেশির ভাগ হাউজ ও ফোর ছিল ফাঁকা। বেলা ১২টার দিকে কিছু কিছু হাউজে বিনিয়োগকারীরা পৌঁছলেও তাদের বেশির ভাগই গল্পগুজবে অলস সময় পার করছিলেন। কোন কোন হাউসে দু-একজন নামমাত্র ট্রেডিংয়ে অংশ নিচ্ছিলেন। তাদের বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সাথে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তাদের সবার মধ্যেই হতাশার ভাব দেখা যায়।
একজন ছাত্র বাজার নিয়ে নিজের হতাশা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বাবার পেনশনের কিছু টাকা নিয়ে ২০২৩ সালে তিনি পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ শুরু করেন। সে সময় বাজার ভালো থাকায় শুরুতে কিছু মুনাফাও পেয়েছেন। কিন্তু এর পরই তার পুঁজি আটকে যায়। এখন বলতে গেলে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে হাউজে আসলেও এখন তিনি বাসা থেকেই খবরাখবর নিয়ে থাকেন। অপেক্ষায় আছেন কখন পুঁজি ফেরত পান। এটাই এ মুহূর্তে শেয়ার বাজারের চিত্র।
এ দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে স্কয়ার ফার্মা। ১১ কোটি ২৭ লাখ ১১ হাজার টাকায় ২৬ মে কোম্পানিটির ৫ লাখ ৫১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার। ১০ কোটি ৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৬১ লাখ ৮ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এদিন। ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শাইনপুকুর সিরামিকস, মিডল্যান্ড ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি, এস আলম কোল্ড রোল্ড, এনআরবি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইল।
এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৮টির দর বেড়েছে। ২৬ মে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে প্রকৌশল খাতের বেসরকারি কোম্পানি বিবিএস ক্যাবলসের। কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ১০.০০ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাহি অ্যালুমিনিয়ামের শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ৯.৫২ শতাংশ। আর ৩ টাকা ৩০ পয়সা বা ৯.৪৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স।
এ ছাড়া ২৬ মে ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফারইস্ট ফাইন্যান্স ৯.৩০ শতাংশ, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াাল ফান্ড ৬.৩৬ শতাংশ, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম ৬.০৬ শতাংশ, এস আলম কোল্ড রোল ৬.০৫ শতাংশ, ফরচুন সুজ ৫.৬৩ শতাংশ, দেশবন্ধু পলিমার ৫.৫৬ শতাংশ ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট ৫.০০ শতাংশ দর বেড়েছে।
এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬৮টির দর কমেছে। ২৬ মে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ব্র্যাক ব্যাংকের। লভ্যাংশের প্রদানের রেকর্ড পরবর্তী মূল্যসমন্বয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৫ টাকা ১০ পয়সা বা ৯.৮৩ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান নিয়েছে এই কোম্পানির শেয়ার। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়ান ব্যাংকের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ৬০ পয়সা বা ৭.৮৯ শতাংশ। ২০২৪ সালের জন্য কোম্পানিটি শেয়ার হোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না এমন ঘোষণায় এ দর হারায় ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিটি। আর ৮০ পয়সা বা ৭.১৪ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে এনআরবি ব্যাংক।
এ ছাড়া ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যেÑ সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ৬.৪১ শতাংশ, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ৬.৩৭ শতাংশ, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ৫.৭৯ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৪.৬৭ শতাংশ, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ৪.৬৫ শতাংশ, জুট স্পিনার্স ৪.৬৪ শতাংশ এবং ন্যাশনাল টি ৪.৬৪ শতাংশ কমেছে।
২৬ মে ঢাকা শেয়ার বাজারে ১ লাখ ৭ হাজার ৪৯১টি হাওলায় মোট ১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যার বাজারমূল্য ছিল ২৮২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৩৯৩টি যার মধ্যে ১৪৮টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে দর কমে ১৬৮টির। অপরিবর্তিত ছিল ৭৭টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এখানে লেনদেন হওয়া ১৭৪টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ৭৩টির দাম বাড়লেও কমেছে ৮৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দর। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/২৭ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

