অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
জুনে দেশে রেকর্ড ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। আর এর ওপর ভর করেই বিদায়ী অর্থ বছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ১ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালোই ছিল। কিন্তু মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তা কমতে থাকে। চতুর্থ সপ্তাহে এসে তা তলানিতে নেমে যায়। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে ডলারের দাম। ২৯ জুলাই খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। গত সপ্তাহে তা ১২০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ১ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রথম সপ্তাহে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৭ কোটি ডলার। ৭ থেকে ১৩ জুলাই দ্বিতীয় সপ্তাহে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ থেকে ধরে নেয়া হয়েছিল জুনের মতো জুলাইতেও আড়াই বিলিয়ন ডলারের ওপর রেমিট্যান্স আসবে। কিন্তু তৃতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৪ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স আসে ৪৫ কোটি ডলার। আর চতুর্থ সপ্তাহে রেমিট্যান্সে ধস নামে। চতুর্থ সপ্তাহে অর্থাৎ ২১ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স আসে মাত্র ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সব মিলে ১ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৫৬ কোটি ডলার, যেখানে জুনে এসেছিল ২৫৪ কোটি ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলনে এক সপ্তাহের ওপর ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ ছিল। এ কারণে যথাসময়ে অনলাইনে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ ছিল। আর এরই প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে।
এ দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের দামও বেড়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহেও খোলাবাজারে প্রতি ডলার পেতে ১২০ টাকা ব্যয় করতে হতো। ২৯ জুলাই তা ১২৪ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। এর কারণ হিসেবে একজন মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের কারণে কয়েক দিন সাধারণ ছুটি ছিল। ২৪ জুলাই থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই ডলারের দাম বাড়তে থাকে। ১২১ টাকা থেকে গত সপ্তাহে ১২২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ২৯ জুলাই তা ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে প্রতি ডলারের দাম ১২৪ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ঋণের কিস্তি ছাড় পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ এর পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক কলিং পেগ নামক নতুন পদ্ধতিতে ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়। তাতে এক লাফে প্রতি ডলারের দাম ১১০ টাকা থেকে ৭ টাকা বেড়ে ১১৭ টাকায় উঠে যায়। যদিও এ দর মিড রেট ছিল। কিন্তু রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ডলারের দাম আরো বাড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ প্রতি ডলার ১১৮ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। তবে অনেক ব্যাংকই আরো বেশি দামে রেমিট্যান্স আহরণ করছে। আর এ কারণে যেসব ব্যাংক ডলার আহরণে সোনালী ব্যাংকের ধারে কাছেও যেতে পারত না, এখন ওই সব ব্যাংকই সোনালী ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স আহরণ করছে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নানা কারণে রেমিট্যান্স আহরণ কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার আবারো অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে। কারণ রফতানি আয় কমে যাচ্ছে। রেমিট্যান্স অর্থনীতির বড় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে ডলারের দাম আরো বাড়তে পারে। এ দিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আর আগের মতো সহযোগিতা করতে পারবে না। আমদানিতে আরো বেশি হস্তক্ষেপ করতে হবে। এতে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ●
অকা/আখা/ফর/সকাল/৩১ জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

