অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পতনের ধারাবাহিকতা সাময়িকভাবে কাটিয়ে উঠেছে পুঁজি বাজার। ৬ মার্চ সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসটিতে দুই পুঁজি বাজারে ছিল সূচকের মিশ্র আচরণ। উভয় বাজারে দু’টি সূচকের কিছুটা উন্নতি ঘটলেও পতন ঘটেছে একটি সূচকের। এ নিয়ে টানা দু’দিন সূচকের উন্নতি ঘটে দুই বাজার সূচকের। দিনের শুরুতে দুই বাজারে সবগুলো সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে এসে বিক্রয়চাপের মুখে পড়লে ঊর্ধ্বমুখী এ ধারার পুরোটা ধরে রাখতে পারেনি বাজারগুলো।
প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ৬ মার্চ ৭ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে ২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। তবে ডিএসইর বিশেষায়িত ডিএসই-৩০ সূচকের অবনতি ঘটে দশমিক ৮১ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট হারায়। এখানে সিএসসিএক্স সূচকটির ১ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট উন্নতি ঘটলেও ৪১ দশমিক ১৭ পয়েন্ট অবনতি ঘটে ডিএসই-৩০ সূচকের।
এ দিকে ৬ মার্চ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তদারকিবিহীন অবস্থা পার করে পুঁজি বাজার। ৫ মাচ পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে একজন নির্বাহী পরিচালককে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় কমিশনের কর্মকর্তারা চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে। পরবর্তীতে চার দফা দাবি পেশ করে তা না মানা হলে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। ৫ মার্চ বিকেলে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কমিশন ত্যাগ করলেও কর্মকর্তাদের দাবির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ৬ মার্চ থেকে কর্মকর্তারা কর্মবিরতি শুরু করেন। ৬ মার্চ বেলা দুটো পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কমিশনে আসেননি। এতে কার্যত স্থবির ছিল কমিশন।
পুুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেখানে বাজারে প্রচণ্ড আস্থাহীনতা বিরাজ করছে, এ পরিস্থিতিতে কমিশনের এ ঘটনায় বাজারগুলোর ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের মতে, যত দ্রুত সম্ভব এ পরিস্থিতির সমাধান করা না গেলে বাজারে তার প্রভাব পড়বে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
এ দিকে ৫ মার্চের মতো ৬ মার্চও সূচকের উন্নতিতে দিন শুরু করে দুই পুঁজি বাজার। ঢাকা শেয়ারবাজারে পাঁচ হাজার ১৯৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে ডিএসইর প্রধান সূচকটি বেলা ১১টায় পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ২৩০ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ৩৪ পয়েন্ট। লেনদেনের এ পর্যায়ে বিক্রয়চাপ তৈরি হলে নিম্নমুখী হতে থাকে বাজারসূচক। দিনের বাকি সময় এ চাপ অব্যাহত থাকে। এতে দিনশেষে সূচকটি মাত্র ৭ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
৬ মার্চ টানা তৃতীয় দিনের মতো ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ছয় লাখ ৩০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় ৬ মার্চ। ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করা রবি অজিয়াটা ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। লেনদেনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে আলহাজ টেক্সটাইলস, হাক্কানি পেপার অ্যান্ড পাল্প, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আইএফআইসি ব্যাংক, ইন্দু-বাংলা ফার্মা, ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স ও বিচ হ্যাচারিজ।
দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস ৬.৫১ ও প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫ দশমিক ০২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে পাওয়ার গ্রিড, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, তিতাস গ্যাস, বাটা স্যু ও ওয়াটার কেমিক্যালস।
দিনের দরপতনের শীর্ষে ছিল আলহাজ টেক্সটাইলস। ৬ মার্চ ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। উল্লখযোগ্য দর হারানো অন্য কোম্পানির মধ্যে হামিদ ফ্যাব্রিক্স ৮ দশমিক ১৩ ও তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ৫.৬২ শতাংশ দর হারায়।
ঢাকা শেয়ার বাজারে ৬ মার্চ এক লাখ ৯ হাজার ৬৬টি হাওলায় মোট ১২ কোটি ৮৭ লাখ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়, যার মূল্য ছিল ৩৫৩ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজ ছিল ৩৯৪টি। এর মধ্যে ১৩৯টির দাম বাড়ে, ১৬৯টির কমে এবং ৮০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেন হওয়া ২২৬টি কোম্পানির মধ্যেও দাম বাড়ে ৭৩টির, কমে ১১৫টির এবং ৪০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/৭ মার্চ, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 12 months আগে

