অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
২০২৪ সালে উৎপাদন মৌসুমে প্রায় ১১ কোটি কেজি চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাসভিত্তিক লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে রয়েছে চা খাত। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদন কমেছে। যদিও সেপ্টেম্বর জুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনো সম্ভাবনা দেখছেন চা বাগানসংশ্লিষ্টরা।
চা বোর্ডের মাসভিত্তিক উৎপাদন তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগস্ট পর্যন্ত দেশের চা উদ্যোক্তারা উৎপাদন করেছে সর্বমোট ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার কেজি চা। আগের বছরের একই সময় এ পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার কেজি। এ হিসাবে চলতি মৌসুমের এ পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় পণ্যটির উৎপাদন কমেছে ৫১ লাখ ৬৩ হাজার কেজি।
চট্টগ্রামের উদালিয়া চা বাগানের কো-অর্ডিনেটর মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ দেশে চা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম হলো বর্ষা। এ সময়ে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত না হলে চা উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। চা উৎপাদন ভালো হওয়ার জন্য বৃষ্টিপাত ও রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ মিলিয়ে একটি অনন্য আবহাওয়া জরুরি। কিন্তু চলতি বছর গরমের তীব্রতা বেশি ছিল। যার প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে।’
বাগান মালিকরা বলছেন, প্রতি বছর জুন-অক্টোবর পর্যন্ত দেশে গড়ে দেড় কোটি কেজি করে চা উৎপাদন হয়। গত বছরের আগস্টে দেশে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। চলতি বছর একই সময় তা কমে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার কেজিতে নেমে এসেছে। আগামী কয়েক মাস উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা না গেলে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশে জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে কম চা উৎপাদন হয়। জানুয়ারিতে সারা দেশে চা উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৭৫ হাজার কেজি। ফেব্রুয়ারিতে তা ৪২ হাজার কেজিতে নেমে আসে। মার্চে এ পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৩ হাজার কেজি।
বাংলাদেশ চা বোর্ড দেশের ১৬৮টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা চাষের উপযোগী জমিতে এ বছর ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। দেশে সাধারণত জুন-অক্টোবর পর্যন্ত সর্বোচ্চ পরিমাণ চা উৎপাদনের সুযোগ থাকে। তবে জুন-জুলাইয়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে আশানুরূপ চা উৎপাদন হয়নি।
চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশে রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল।
ন্যাশনাল ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন দেব বর্মণ বলেন, ‘চা উৎপাদনে আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত না হলে চায়ের গুণগত মানও পরিবর্তন হয়। এর পরও দেশের বাগান মালিকরা ভালো চা উৎপাদনে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এছাড়া পরিমাণে কম হলেও নিলামগুলো ভালো মানের চা সরবরাহ করছে। এতে দামও ভালো পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ●
অকা/পবা/ফর/সকাল/২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

