অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচায় ঋণ সুবিধা বা অর্থায়ন ব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ শিরোনামে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯৯ সালের পুরনো মার্জিন বিধিমালা বাতিল হয়েছে।
তবে, পুরোনো বিধিমালার আওতায় পূর্বে গৃহীত কোনো আইনগত পদক্ষেপ বা লেনদেন থাকলে তা পুরনো বিধির আলোকেই নিষ্পত্তি করা হবে বলে আলাদা এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের ঋণ সীমা ও যোগ্যতা
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব মূলধনের (ইক্যুইটি) চেয়ে বেশি ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন না। অর্থাৎ, মার্জিন লোনের পরিমাণ গ্রাহকের ইক্যুইটির সমান বা তার কম হতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর ন্যূনতম ইক্যুইটি পাঁচ লাখ টাকা হতে হবে, এবং গত এক বছরে গড়ে এই পরিমাণ বিনিয়োগ বজায় থাকতে হবে।
যাদের বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার নিচে, তারা কোনো অবস্থাতেই মার্জিন সুবিধা পাবেন না।
-
পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুপাত হবে ১:০.৫
-
১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুপাত নির্ধারিত হয়েছে ১:১
এছাড়া, বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (P/E Ratio) যদি ২০-এর বেশি হয়, সেক্ষেত্রেও মার্জিন লোনের সীমা কমিয়ে ১:০.৫ অনুপাতে নির্ধারণ করা হবে।
যোগ্যতা থেকে বাদ পড়বে কারা
নতুন বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রী, গৃহিণী এবং সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মার্জিন লোন পাবেন না। তবে আর্থিকভাবে সক্ষম ও নিয়মিত বিনিয়োগকারী অবসরপ্রাপ্তরা এই সুবিধা পেতে পারেন।
অনুমোদিত শেয়ারের ধরন ও বিশেষ শর্ত
মার্জিন সুবিধা শুধুমাত্র ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিকে অন্তত ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে হবে।
-
লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন অনুপাত হবে ১:০.২৫, অর্থাৎ সর্বোচ্চ এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে।
-
যেসব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির হালনাগাদ অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন নেই, তাদের শেয়ারে কোনো অবস্থাতেই মার্জিন সুবিধা দেওয়া হবে না।
বাজারমূল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
বিধিমালা অনুযায়ী, যেসব কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৫০ কোটি টাকার কম, তাদের শেয়ারে মার্জিন লোন দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া, বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি সর্বদা মার্জিন অর্থায়নের ৭৫ শতাংশ বা পোর্টফোলিও মূল্যের ১৭৫ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারবে না।
-
যদি এই অনুপাত এর নিচে নামে, বিনিয়োগকারীকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ঘাটতি পূরণ করতে হবে, অন্যথায় লেনদেন স্থগিত থাকবে।
-
ইক্যুইটি যদি ৫০ শতাংশ বা পোর্টফোলিও মূল্য ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, প্রতিষ্ঠান কোনো নোটিশ ছাড়াই গ্রাহকের সিকিউরিটিজ বিক্রি করে (Forced Sale) সমন্বয় করতে পারবে।
পুরনো মার্জিন সুবিধার সমন্বয়
১৯৯৯ সালের বিধিমালা অনুযায়ী যারা মার্জিন সুবিধা পেয়েছিলেন, নতুন বিধি কার্যকরের পর যেসব শেয়ার এখন মার্জিন অযোগ্য, সেগুলো ছয় মাসের মধ্যে বিক্রি করে সমন্বয় করতে হবে।
এছাড়া, যেসব বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও মূল্য পাঁচ লাখ টাকার নিচে, তাদের এক বছরের মধ্যে তা ন্যূনতম পাঁচ লাখে উন্নীত করতে হবে; অন্যথায় তাদের মার্জিন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ●
অকা/পুঁবা/ই/সকাল/৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 months আগে

