সাভার প্রতিনিধি
ঢাকার অদূরে সাভারে একটি মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন রাজধানীর বেসরকারি প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার দত্ত।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, ঘটনার কয়েকদিন পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও হত্যা চেষ্টার কল্পিত মামলা করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত জানান, গত ১২ জুলাই রাতে তিনি মোটরসাইকেলে স্ত্রী শিউলি রাণী রায়কে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বাসা থেকে কুষ্টিয়ার খোকসায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে সাভার গলফ ক্লাব এলাকার কাছে তাঁদের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় কয়েকজন একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে প্রথমে তাঁদের নিকটতম গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাঁদের মোটরসাইকেল, ব্যাগ ও হেলমেট অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি নিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ কুমার দত্তের ভাষ্য, দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ হাঁটু ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর জখম হয়। তাঁর স্ত্রীও মাথা, কপাল ও চোখে আঘাত পান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে জরুরি বিভাগের পাশে একটি স্ট্রেচারে বিশ্রামে রাখা হয় এবং তাঁর স্ত্রীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ভর্তি রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সেদিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁর শ্বশুর নিরোদ রায়, শাশুড়ি স্বপ্না রায়, শ্যালক শুভ রায় এবং মামা শ্বশুর মানিক হাসপাতালে এসে তাঁর ওপর অকথ্য হামলা চালান। তাঁকে মারধর করে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে উদ্ধার হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল ছাড়তে হওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও এক্স-রে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অসুস্থতা এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ কুমার দত্তের দাবি, দুর্ঘটনার তিনদিন পর ১৫ জুলাই আশুলিয়া থানায় শ্বশুর নিরোদ রায় বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক দাবি এবং সড়কে ফেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি কল্পিত মামলা দায়ের করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে বা ভিন্নখাতে নিতেই এই মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী নিরোদ রায়সহ যাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 hours আগে

