অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সপ্তাহের প্রথম চারটি কর্মদিবসে টানা দরপতনের ফলে গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনের অবনতি ঘটেছে। এ সময় পুঁজি বাাজরটি মূলধন হারিয়েছে তিন হাজার ৩৯৬ কোটি টাকার বেশি। আগের সপ্তাহের সাত লাখ ১৫ হাজার ৭৯ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে সপ্তাহ শুরু করা ডিএসইর বাজার মূলধন সপ্তাহান্তে সাত লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছে যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা দশমিক ১৬ শতাংশ কম। তবে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় পুঁজি বাজার। এতে হারানো মূলধনের কিছুটা ফিরে পায় পুঁজি বাজারটি। তা না হলে আরো বড় অবনতি ঘটতে পারত মূলধনের।
ফেলে আসা সপ্তাহটিতে (১০-১৪ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটি ৫৭ দশমিক ৮২ পয়েন্ট হ্রাস পায়। রোববার পাঁচ হাজার ৪০৮ দশমিক ৭ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি ১৪ আগস্ট সপ্তাহান্তে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৩৫০ দশমিক ২৫ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির অন্য দু’টি সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮৮ ও ৭ দশমিক ২৬ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। সূচকের এ অবনতির ফলে বাজারের মূল্যস্তর কমে গিয়ে ডিএসসির বাজার মূলধনকে প্রভাবিত করে। হ্রাস পায় মূলধন।
গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচকের বড় ধরনের অবনতি ঘটলেও বাকি দিনগুলোতে বিক্রয়চাপের মাত্রা কিছুটা কমে আসতে শুরু করে। তবে এ সময় বাজার আচরণে কিছুটা পরিবর্তন ঘটতে দেখা যায়। স্বল্পমূলধনের কোম্পানিগুলোর দিকে এ সময় বিনিয়োগকারিদের প্রচুর আগ্রহ দেখা যায়। মৌলভিত্তির দিক থেকে দুর্বল হলেও বাজারে এ কোম্পানির শেয়ারের কাটতি ছিল বেশি। ফলে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ে এ ধরনের কোম্পানিগুলো বিক্রেতা শূন্য ছিল।
অন্য দিকে সপ্তাহের, শেষদিকে এসে বাজারে বিক্রয়চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কমবেশি স্বস্তি দেখা যায়। তারা মনে করছেন, সংশোধন শেষ করে সামনের দিনগুলোতে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ ধারণা থেকেই সপ্তাহের শেষ দু’দিন বাজারে লেনদেনও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন গত সপ্তাহের শেষদিকে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীতে একটি বিদেশী বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যা কিছুটা হলেও প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। সপ্তাহের শেষদিনে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানো তারই ইঙ্গিত বলে মনে করেন তারা।
দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। টানা চরটি কর্মদিবসেই ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষস্থান ধরে রাখে কোম্পানিটি। এর ফলে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ৪২ কোটি ছয় লাখ টাকার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে যা ছিল ডিএসইর সপ্তাহিক মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এ সময় তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রতিদিন গড়ে ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এটি ছিল ডিএসইর মোট সপ্তাহিক লেনদেনের ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ।
আর তৃতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের ১৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ছিল ডিএসইর লেনদেনের ২ দশমিক ৫০ শতাংশ। লেনদেনের তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের ১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, মালেক স্পিনিংয়ের ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, রহিমা ফুডের ১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, এশিয়াটি ল্যাবরেটরিজের ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড হোটেলের ১১ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ১১ কোটি এক লাখ টাকা এবং সোনালী পেপারের ১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন করা ৩৯৬ কোম্পানির মধ্যে ৯৯টির শেয়ারদর বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ২৬ শতাংশ। ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় ছিল বেক্সিমকো সুকুক বন্ড। মূল্যবৃদ্ধি শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজের তালিকায় থাকা অন্যগুলোর মধ্যে ডমিনেজ স্টিল ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশন ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, সমতা লেদার ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ, আইএসএন ১৬ দশমিক ৮২ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমার ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, লিগ্যাসী ফুটওয়্যার ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, জিকিউ বলপেন ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং আনোয়ার গ্যালভেনাইজিংয়ের ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ দর বেড়েছে।
একই সময় লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৬টি কোম্পানির মধ্যে ২৭৪ কোম্পানির দর কমেছে। আলোচ্য সময়ে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির দর কমেছে ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসইএমএলএলইসি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। দরপতনের তালিকার শীর্ষ দশে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল ম্যাকসন্স স্পিনিং, রিজেন্ট টেক্সটাইলস, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নুরানি ডাইং, উত্তরা ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং ও এসইএমএল গ্রাথ ফান্ড। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/১৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 months আগে

