তারেক আবেদীন ●
অবশেষে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদ থেকে মোহাম্মদ জয়নুল বারী পদত্যাগ করছেন বলে আজ দুপুরে অর্থকাগজকে জানান।
সাবেক সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে ২০২২ সালের ১৫ জুন আইডিআরএ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁকে তিন বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান করা হয়।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও পদস্থ কর্মকর্তাগণ পদত্যাগ করছেন, তার ধারাবাহিকতায় আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।
জয়নুল বারী বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পদত্যাগ পত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়ে দেব।’
আইডিআরএতে যোগ দেওয়ার আগে জয়নুল বারী পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ছিলেন। তার আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত আইডিআরএর প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন এম শেফাক আহমেদ। জয়নুল বারীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে পেশাগত বীমা ব্যক্তিত্ব ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএকে বিদায় নিতে হয়। তবে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযুক্ত ড. মোশাররফ হোসেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো বা মন্দ সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদত্যাগ করার জন্য চাপ তৈরি হতে থাকে। এমন ধারবাহিকতায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর বিরুদ্ধে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডসহ কটি কোম্পানি ও ব্যক্তি অতি সম্প্রতি আইডিআরএ অফিসের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করে। একদল বীমা কর্মী কদিন আগে আইডিআরএ‘র অফিসের অভ্যন্তরে ঢুকে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ করে। আইডিআরএ অফিসের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আইডিআরএ‘র পক্ষ থেকে রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করা হয়। পুলিশ প্রহরায় ছিল কয়েকদিন রাজধানীর দিলকুশাস্থ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর অফিস।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর সদস্য কেউই থাকছেন না। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর একে একে ৪ জনকেই বিদায় নিতে হবে। এরমধ্যে সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তের বিষয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সূত্রটি অর্থকাগজকে আরও জানায়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যার নাম বেশি শোনা যাচ্ছে- তিনি অভিজ্ঞ ও উচ্চ শিক্ষিত একজন বীমা নির্বাহী; বর্তমানে তিনি দেশের চতুর্থ প্রজন্মের একটি জীবন বীমা কোম্পানির সফল মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা। জানা গেছে, সেই সুভাগ্যবান বীমা ব্যক্তিটি হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বেশ আস্থাভাজন। ●
অকা/বীখা/বিপ্র/রাত/৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

