নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রধান গন্তব্য ইউরোপীয় বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে আগের তুলনায় কম অর্ডার আসার পাশাপাশি পোশাকের ইউনিট মূল্যও কমে যাওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন রফতানিকারকরা। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রফতানি আয় ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখনও ভোক্তাদের ব্যয়সচেতনতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির কারণে পোশাকের চাহিদা প্রত্যাশিত পর্যায়ে ফিরছে না। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আগের তুলনায় ছোট আকারের অর্ডার দিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপও বাড়াচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে সেই অনুযায়ী মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। বরং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে কম দামে রফতানি করতে হচ্ছে। এতে লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে এবং অনেক কারখানা পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহ করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তারা আরও বলেন, ইউরোপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার সম্ভাবনাময় বাজারে রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমাতে নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
রফতানিকারকদের আশা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়লে পোশাক শিল্প আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারবে। তবে সে জন্য সরকার, উদ্যোক্তা এবং ক্রেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

