অর্থকাগজ প্রতিবেদন>

দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ শনিবার থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ থেকে নতুন নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। যানবাহন পরিচালনার সময় ডিভাইসটি সচল আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী গত ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি স্পেসিফিকেশন এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বিআরটিএ জানিয়েছে, ১ আগস্ট থেকে জিপিএস সংযোজন কার্যক্রম শুরু হবে। ১৫ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত গণপরিবহনে জিপিএস সংযোজনের আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। জিপিএস সংযুক্তির প্রমাণ এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটির কার্যকারিতা যাচাই সাপেক্ষে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিপিএস সংযোজন নিশ্চিত না হলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বিআরটিএ আরও জানিয়েছে, জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি স্পেসিফিকেশন সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব গণপরিবহনে জিপিএস সংযোজন সম্পন্ন করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, ‘গণপরিবহনে জিপিএস সংযোজনের সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার ভাষ্য, গাড়ি চুরি বা চালক গাড়ি ফেলে চলে যাওয়ার মতো ঘটনায় দ্রুত অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা মালিকদের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, আয়কর, টোকেন ট্যাক্স, রোড পারমিট, টায়ার, মোবিলসহ বিভিন্ন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিবহন মালিকরা আর্থিক চাপে রয়েছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব যানবাহনে জিপিএস সংযোজন করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে বিআরটিএতে গাড়িপ্রতি ১২ হাজার টাকা ‘টেবিল খরচ’ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবেন মালিক ও চালক। এর ফলে দুর্ঘটনার পর প্রমাণ ছাড়াই চালককে দায়ী করার প্রবণতা কমবে। জিপিএসের মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান, গতি এবং চালকের কার্যক্রমের নির্ভুল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সহজ হবে এবং চালক অন্যায় অভিযোগ থেকে সুরক্ষা পাবেন।’

তবে শুধু জিপিএস স্থাপন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন থেকে আসা তথ্য বিশ্লেষণ এবং তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল বিআরটিএর থাকতে হবে। তা না হলে এই উদ্যোগ কেবল আংশিক বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ থাকবে।

ড. শামসুল হক বলেন, ‘জিপিএসের মাধ্যমে একজন চালক কতক্ষণ টানা গাড়ি চালাচ্ছেন, অতিরিক্ত গতিতে চলছেন কি না কিংবা নির্ধারিত রুট অনুসরণ করছেন কি না—এসব তথ্য সহজেই জানা সম্ভব। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে প্রযুক্তির প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না।’

 

সর্বশেষ হালনাগাদ 17 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version