অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
শেয়ার বাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চারে শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নিজস্ব শেয়ার বাজারে ছাড়ার বা ‘স্ব-তালিকাভুক্তি’ (Self-listing) নিয়ে এখনও নীরব অবস্থানে রয়েছে।
২০১৩ সালে পাস হওয়া ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করা হয়। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল— বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ। আইনের আওতায় ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) শেয়ার কাঠামো পুনর্গঠিত হয়। ৪০ শতাংশ শেয়ার প্রাক্তন সদস্যদের (ব্রোকারদের) কাছে হস্তান্তর করা হয়, ২৫ শতাংশ বিক্রি হয় দুটি চীনা কৌশলগত অংশীদারের কাছে এবং বাকি ৩৫ শতাংশ সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির কথা, যা সম্পন্ন হলে এক্সচেঞ্জটি বাজারে তালিকাভুক্ত হবে।
যদিও আইনে শেয়ার বিক্রির নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, তবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডিএসইকে ২০২২ সালের মধ্যে তালিকাভুক্তি সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছিল।
ডিএসইর তুলনায় সিএসই এ বিষয়ে বেশি সক্রিয়। সম্প্রতি সিএসই তাদের স্ব-তালিকাভুক্তির প্রস্তাব বিএসইসির কাছে জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার-পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন মনে করেন, আগের পর্ষদগুলোর ব্যর্থতার কারণেই এতদিন তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ— স্বাধীন পরিচালকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও তারা এই পদক্ষেপে অগ্রণী ভূমিকা নেননি। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিএসইসি অনেক সিদ্ধান্ত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে চাপিয়ে দিলেও, ডিএসইকে তালিকাভুক্তির জন্য কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ জারি করেনি।
অন্যদিকে, ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা তালিকাভুক্তির বিষয়ে বিএসইসির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়েছিলেন, কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি।
বিএসইসি মুখপাত্র মো. আবুল কালাম মনে করেন, ডিএসইর তালিকাভুক্তির জন্য বর্তমান সময়ই উপযুক্ত। তার মতে, বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং ডিএসই একটি মৌলিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ভালো দামে শেয়ার বিক্রি সম্ভব। তবে পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই মতের বিরোধিতা করে বলেন, এক্সচেঞ্জের পরিচালন আয় বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং শেয়ারহোল্ডাররা কম দামে শেয়ার বিক্রিতে আগ্রহী নন। বর্তমানে ডিএসইর আয় মূলত ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের সুদ থেকে আসছে। তার দাবি, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে এবং আয় বাড়লে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুঁজি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএসইর স্ব-তালিকাভুক্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং বাজারের গভীরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এক্সচেঞ্জ নিজেই তালিকাভুক্ত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি বাজারে বড় মাপের বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণও বাড়তে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং বাজার-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠা না গেলে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় ভুগতে পারে। ●
অকা/পুঁবা/ই/সকাল/১১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 months আগে

