অর্থকাগজ প্রতিবেদন
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রায় পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর অক্টোবর–ডিসেম্বর সময়ে তা নেমে এসেছে তিন দশমিক শূন্য তিন শতাংশে। একই সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র এক দশমিক ২৭ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের সাময়িক জিডিপি হিসাব প্রকাশ করে। সেখানে এসব তথ্য উঠে আসে।
বিবিএসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) সংশোধিত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল চার দশমিক ৯৬ শতাংশ। কিন্তু, পরবর্তী প্রান্তিকে এসে প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শিল্প খাতে বড় ধাক্কা
জিডিপির প্রধান তিন খাত—কৃষি, শিল্প ও সেবার মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে শিল্প খাতে। এই সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র এক দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে সংশোধিত হিসাবে এই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ছয় দশমিক ৮২ শতাংশ। মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট কমে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানির চাপ, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের গতি কমেছে। এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে।

সেবা খাতেও গতি কমেছে
সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি সামান্য কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে চার দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে সংশোধিত হিসাবে ছিল চার দশমিক ৫১ শতাংশ। যদিও প্রবৃদ্ধি কমার হার খুব বেশি নয়, তবুও অর্থনীতির সবচেয়ে বড় এই খাতের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়াকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কৃষিতে কিছুটা স্বস্তি
কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক ৬৮ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে যা ছিল দুই দশমিক ১১ শতাংশ।
কৃষি উৎপাদন কিছুটা বাড়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পতন কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট ও দামের ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হতে পারে। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। এ কারণে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক অর্থনীতিবিদ।

সর্বশেষ হালনাগাদ 14 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version