অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

আগামীতে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিচালকরা ওই কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ নিলে, তা ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ওপরে ট্যাক্স দিতে হবে। প্রস্তাবিত ফাইন্যান্স বিলে এ ধরনের একটি নতুন ধারা যোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মূলত কর এড়িয়ে যেতে ঋণ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকরা অ্যাকিউমুলেটেড প্রফিট (পুঞ্জিভূত লাভ) হওয়া কোম্পানির কাছ থেকে লভ্যাংশ না নিয়ে কিংবা কম লভ্যাংশ নিয়ে ঋণ নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের আয়কর বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, "ঋণের ওপর ট্যাক্স হয় না, কিন্তু লভ্যাংশের ওপর ট্যাক্স হয়। আমরা খেয়াল করেছি যে, কোনো কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে (অ্যাকিউমুলেটেড প্রফিট থাকা কোম্পানি) ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) না নিয়ে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। আবার বছরের পর বছর ধরে ওই ঋণ শোধ করা হচ্ছে না। কিন্তু নতুন করে আবারও ঋণ নেওয়া হচ্ছে।"

"এই উপায়ে ট্যাক্স অ্যাভয়ডেন্স (কর এড়িয়ে যাওয়া) ঠেকাতে ফাইন্যান্স বিলে নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে," বলেন তিনি।

বর্তমানে কেবল অ্যাকিউমুলেটেড প্রফিট রয়েছে, এমন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা (মূলত পরিচালকরা) ওই কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ নিলে তা লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হতো এবং এর ওপর ট্যাক্স দিতে হতো।

বর্তমানে লভ্যাংশ হিসাবে প্রাপ্ত যেকোনো আয় একজন ব্যক্তির মোট আয়ের সাথে যোগ হয় এবং এর ওপর নিয়মিত হারে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়।

তবে নতুন প্রস্তাবে 'প্রাইভেট' শব্দটি তুলে দেওয়ার ফলে পাবলিক লিমিডেট কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাও এই ট্যাক্সের আওতায় চলে আসবেন।

কর বিশেষজ্ঞরা সরকারের নতুন এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেন, "এটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে মিসইউজ (অপব্যবহার) কমবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।"

তিনি বলেন, "মূলত ঋণের সুযোগ নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালকরা মুনাফা হওয়া সত্ত্বেও লভ্যাংশ না নিয়ে ঋণ নিয়ে আসছেন, যার উদ্দেশ্য ট্যাক্স অ্যাভয়েড করা।"

দেশে বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৪০০। এর মধ্যে ৩০০ এর বেশি কোম্পানি মুনাফার বিপরীতে লভ্যাংশ দিচ্ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে এ ধরনের ঋণ অনৈতিক।

তিনি টিবিএসকে বলেন, এমন কোম্পানি থেকে ঋণ নেওয়া— যেখানে কোম্পানির বোর্ডে সব শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধিত্ব নেই— তা অনৈতিক হিসাবে দেখা যেতে পারে।

"কিছু কিছু কোম্পানি আছে, যেখানে স্পন্সররা মাত্র ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং এর মূল দায় থাকে পাবলিকের ওপর। তাই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোতে এ ধরনের ঋণের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়; এটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরে থাকা উচিত," যোগ করেন তিনি।

তিনি এ ধরনের ঋণকে লভ্যাংশ হিসাবে বিবেচনা করে এর ওপর কর আরোপ সমর্থন করেন না। তিনি মনে করেন, পরিচালককে ঋণ দেওয়া হবে কি–না, কেবল পরিচালনা পর্ষদই সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

অকা/পুঁবা/সৈই/সকাল/১০ জুন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

 

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version