অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারে তারল্য বৃদ্ধিতে ডিএসইর 'শেয়ার নেটিং' প্রস্তাব: বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় সতর্ক অবস্থানে বিএসইসি
ঢাকা, বাংলাদেশ — ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনের গতিশীলতা ও তারল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত 'শেয়ার নেটিং' বা 'স্ক্রিপ নেটিং' পদ্ধতি চালুর বিষয়ে কঠোর ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশন মনে করে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি চালু করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
প্রেক্ষাপট ও পদ্ধতি: 'শেয়ার নেটিং' হলো একটি ইনট্রা-ডে ট্রেডিং পদ্ধতি, যা বিনিয়োগকারীদের একই কার্যদিবসে একই শেয়ার একাধিকবার ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে দিনশেষে নিট পজিশন সমন্বয় করার সুযোগ দেয়। এটি বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হলেও এর সঙ্গে 'শর্ট সেলিং'-এর মতো জটিল ঝুঁকি জড়িত থাকে। উল্লেখ্য যে, প্রায় দুই দশক আগে লেনদেন অটোমেশনের শুরুতে এই সুবিধা থাকলেও বর্তমানের বৃহৎ ও আধুনিক বাজারে এটি প্রয়োগের জন্য আরও সক্ষমতা প্রয়োজন।
বিএসইসির অবস্থান ও উদ্বেগ: বিএসইসি জানায়, অতীতে অনেক ব্রোকারেজ হাউজের আর্থিক অনিয়ম, নেতিবাচক ইক্যুইটি এবং গ্রাহকদের ক্যাশ তছরুপের মতো ঘটনা ঘটেছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখনো তাদের ক্ষতির প্রতিকারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এমতাবস্থায়, ব্রোকারদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত নেটিং বা শর্ট সেলিং চালুর বিষয়টি বাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিএসইসির একজন কমিশনারের মতে, সংস্থাটি এই পদ্ধতির গুরুত্ব অস্বীকার করছে না, তবে ডিএসই-কে তাদের নিজস্ব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উন্নত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কার্যকরের জন্য বিএসইসির তিন শর্ত: শেয়ার নেটিং সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে বিএসইসি তিনটি প্রধান শর্তারোপ করেছে:
১. আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের বড় ধরনের লোকসান থেকে রক্ষায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সিস্টেম চালু করা।
২. শর্ট সেলিং নীতিমালা: শেয়ারের দাম কমার সময়ও যেন বিনিয়োগকারীরা মুনাফা করতে পারেন, তার জন্য কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত শর্ট সেলিং নিয়ম কার্যকর করা।
৩. মার্কেট মেকার নিয়োগ: বাজারে নিরবচ্ছিন্ন ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম ও শক্তিশালী মার্কেট মেকার প্রতিষ্ঠান তৈরি করা।
বিএসইসি এবং ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একমত পোষণ করেছেন যে, বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা সমীচীন হবে। ●
অকা/পুঁবা/ই/দুপুর/১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 days আগে

