অর্থকাগজ প্রতিবেদন 
টানা পতনের কবল থেকে বের হলো দেশের পুঁজি বাজার। সূচকের বড় লম্ফতে বাজার বিক্রেতা শূন্য হয়ে যায়। শেয়ার কেনার জন্য ক্রেতার চাপ ৯৯ শতাংশে উঠে আসে। যেখানে গেলো কয়েক দিন বিক্রেতারা বেচার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ক্রেতার চাপে ৮২.৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে যায়। বেচাকেনা না বাড়াতে লেনদেনের পরিমাণ এখনো ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারেনি। সেঞ্চুরির বেশি হাঁকিয়েও চট্টগ্রাম স্টকে লেনদেন কমেছে। ডিএসইতে ১.২২ শতাংশ বা ৮ হাজার ১১৬ কোটি টাকা বাজারমূলধন ফিরেছে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচক রয়্যাল ক্যাপিটাল বলছে, কাক্সিত পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়ালো পুঁজি বাজার। ৯ অক্টোবর দিনের শুরুতে বাজার স্থিতিশীল থাকলেও বেলা ১টা থেকে সূচক গতিশীল হয়, যা এক পর্যায়ে ১১১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। তবে লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখ্যযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি।

দিনের লেনদেনের তথ্য থেকে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর লেনদেন শুরুর দেড় ঘণ্টায় অর্থাৎ বেলা ১১.৩০টা পর্যন্ত প্রধান সূচক বা ‘ডিএসইএক্স’ ২৪ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৩৪৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়। শরিয়াহ সূচক বা ‘ডিএসইএস’ ৬ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৯৪ পয়েন্টে আর ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৭ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯৪৭ পয়েন্টে উঠে আসে। ওই সময়ে ডিএসইতে মোট ৯৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বাড়ে দেড় ঘণ্টায় ২৩৩ টির, কমেছে ৮০ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৯টি কোম্পানির।

দিনের লেনলেন শেষে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ অক্টোবরের চেয়ে সূচক ৯৮.৮৩ পয়েন্ট ফিরে পেয়েছে এখন ৫ হাজার ৪২২.০৬ পয়েন্টে, ডিএসই-৩০ সূচক ৪৫.৭৮ পয়েন্ট ফিরে পেয়ে এক হাজার ৯৮৪.৯৯ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৮.১২ পয়েন্ট ফিরে পেয়ে এখন এক হাজার ২০৫.৮৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। লেনদেনকৃত কো¤পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২৭টির বা ৮২.৫৭ শতাংশের, কমেছে ৩৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টি কোম্পানির শেয়ার। ১০ অক্টোবর ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কো¤পানির ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩ হাজার ৩০২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে, যার ১০ অক্টোবরের বাজার মূল্য ছিল ৩৭৬ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার ১৬৬ টাকা। এটি ৯ অক্টোবরের তুলনায় ২১ কোটি টাকা বেশি। ওই দিন ৩৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

ব্লক মার্কেটে ৯ কোম্পানির বড় ট্রেড : এ দিকে, ডিএসইর ব্লক মার্কেটে ১৮টি কোম্পানি ১০ অক্টোবর লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মোট ৬৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ২৮ কোটি ৯০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বাজার মূল্যে। তবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ৯ প্রতিষ্ঠানের ২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকারো বেশি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ অগ্নি সিস্টেমস, প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, খান ব্রাদার্স, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে অগ্নি সিস্টেমসের। কোম্পানিটির ৩৮ লাখ ৫ হাজার ২৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে মোট ১৪ কোটি ২৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের ৪ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ৩ কোটি ২১ লাখ ৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে লাভেলো আইসক্রিম। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- বেক্সিমকোর ১ কোটি ৯০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার, খান ব্রাদার্সের ১ কোটি ৮২ লাখ ৫৯ হাজার টাকার, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকার, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮১ লাখ টাকার, বেক্সিমকো ফার্মার ২৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকার এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ২১ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

টাকায় লেনদেন, দর বৃদ্ধি ও পতনে শীর্ষ কোম্পানি : ১০ অক্টোবর ডিএসইতে টাকায় লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: অগ্নি সিস্টেম, তৌফিকা ফুড, মিডল্যান্ড ব্যাংক, জিপি, ইসলামী ব্যাংক, টেকনো ড্রাগ, এনআরবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এসআইবিএল ও স্কয়ার ফার্মা। আর দর বৃদ্ধির শীর্ষে ১০ কো¤পানি হলো: আইসিবি, বিডি কম, অগ্নি সিস্টেম, ক্রিস্টাল ইন্সু:, আমরা টেক, বিডি ফাইন্যান্স, জেনেক্স ইনফোসিস, ই-জেনারেশন, আইডিএলসি ও খান ব্রাদার্স পিপি। অন্য দিকে, দর পতনে শীর্ষে ১০ কো¤পানি হলো: নিউ লাইন, রানার অটো, এপেক্স ট্যানারি, মেঘনা পেট, আনলিমা ইয়ার্ন, তাক্কাফুল ইন্সু:, রেনউইক যজ্ঞেশ^র, এআইবিএল ১ম মি. ফা, দুলামিয়া কটন ও এফএএস ফাইন্যান্স।

সিএসইতে ৩ সূচক সেঞ্চুরি পয়েন্ট পেল : এ দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) তিনটি মূল্য সূচক গড়ে সেঞ্চুরির বেশি হারে পয়েন্ট ফিরে পেয়েছে। পয়েন্ট হারাতে হারাতে সূচকে শুষ্কতা চলে আসে। সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৭৩.৬০ পয়েন্ট। আর সিএসই-৩০ সূচক ১৮৬.৫৮ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স ১০৬.২৭ পয়েন্ট এবং সিএসই-৫০ সূচক ১৬.৪০ পয়েন্ট ফিরে পেয়েছে। ১০ অক্টোবর লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৩টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৫টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে মোট ৮ কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার ২১৬ টাকা বাজারমূল্যে। যেখানে ৯ অক্টোবর লেনদেন হয় ১১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ফলে লেনদেন কমেছে তিন কোটি টাকা।

যমুনা ব্যাংকের হাসানের ৬২ লাখ শেয়ার গ্রহণ : তালিকাভুক্ত যমুনা ব্যাংকের পরিচালক মো: হাসান ৬২ লাখ শেয়ার গ্রহণ করেছেন বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। ব্যাংক কোম্পানিটির প্রয়াত পরিচালক ফজলুর রহমানের ৬১ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৭টি শেয়ার তার ছেলে মো: হাসান গ্রহণ করেছেন। আদালত কর্তৃক প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদ অনুযায়ী মো: হাসান এই শেয়ার গ্রহণ করেছেন।

রানার অটোমোবাইলস ‘জেড’ শ্রেণীতে : এ দিকে, তালিকাভুক্ত রানার অটোমোবাইলসকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এ তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। ডিএসই কোম্পানিটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠিয়েছে। ৯ অক্টোবর থেকে কোম্পানিটির লেনদেন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে। জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের কারণে এ কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণ না দিতে ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

লাফার্জহোলসিমের নাম ও ট্রেডকোড পরিবর্তন : বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্ট খাতের কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের নাম ও ট্রেডিং কোড পরিবর্তন করা হয়েছে বলে প্রকাশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ডিএসই জানিয়েছে, ৯ অক্টোবর থেকে কোম্পানিটির নতুন নাম হবে ‘লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি’ এবং ট্রেডিং কোড হবে ‘এলএইচবি’। ২০০৩ সালে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জহোলসিমের অনুমোদিত মূলধন এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বিপরীতে কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে পরিমাণ ১ হাজার ৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১১৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৬৪.১৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১.২৬ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারী ০.৭১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ১৩.৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় রয়্যাল ক্যাপিটাল : ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪২২ পয়েন্টে শেষ হয়। অপর দিকে বাজার লেনদেন ২১ কোটি টাকা বেড়ে ৩৭৬ কোটি টাকায় শেষ হয়েছে। ঢাকার শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মূলধন গত দিনের তুলনায় ১.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে ভলিউম ৯ শতায়শ এবং ৬ শতাংশ টার্নওভার বেড়েছে। ১৯টি সেক্টরের মধ্যে ১৯টি সেক্টরের বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোর প্রাইসে ১টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ব্লক মার্কেটে ২৮.৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ৭.৬ শতাংশ। এসএমই বাজার সূচক (ডিএসএমইএক্স) ৪.৮২ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮.৬ কোটি টাকা, যা গত দিনের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। শুরু থেকেই বাজার ১০ অক্টোবর ইতিবাচক ছিল। ●

অকা/পুঁবা/ফর/সন্ধ্যা/১০ অক্টোবর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version