অর্থকাগজ ডেস্ক

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন) নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও উন্মুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা। তাদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক বিরোধ এবং সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে উৎপাদন, রপ্তানি, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর পড়ে।

এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশ এককভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না। উৎপাদন থেকে শুরু করে কাঁচামাল সংগ্রহ, পরিবহন এবং পণ্য সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সরবরাহ শৃঙ্খলে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধারও ব্যাহত হতে পারে।

তারা আরও বলেন, মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। তাই বাণিজ্যে অযৌক্তিক প্রতিবন্ধকতা কমানো, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলার বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বারবার চাপে পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং প্রযুক্তিপণ্যের দাম বেড়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এ ধরনের অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আস্থা বাড়বে, বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদার হবে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 12 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version