অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
গত বছরের ছাগলকাণ্ডের পর খামার থেকে বড় গরু কেনার প্রবণতা কমতে শুরু করে। এবারের কোরবানিতে বড় গরু কম বিক্রির বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন খামারিরা। তাই এ বছর তুলনামূলক মাঝারি থেকে ছোট গরুই বিক্রি করেছেন।
খামারির মালিক তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব বলেন, ‘গত বছর আমার ফার্ম থেকে ১ হাজার ২৫০ কেজি ওজনের গরু বিক্রি হয়েছিল। এ বছর আমরা বড় গরু রাখিনি। মাঝারি ও ছোট গরু বিক্রি করেছি ৭০টি। বড় গরুর চাহিদা কম থাকায় ৯০০-৯৫০ কেজি ওজনের তিনটা গরু এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। এগুলো অবশ্য আমার আগের গরু। যারা নতুন করে বড় গরু তুলেছে এবং কোরবানিতে বিক্রির টার্গেট নিয়েছে, তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।’
দেশের বিভিন্ন খামারেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বড় গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে। এবার কোরবানির বাজারে বেশি চাহিদা ছিল ছোট ও মাঝারি গরুর। রাজধানীর হাটগুলোয় দেখা গেছে, ঈদের একদিন আগেই হাটের ছোট ও মাঝারি গরু বিক্রি শেষ হয়ে যায়।
খামারিরা দাবি করছেন, সাধারণত বিত্তবানরাই বড় গরুর ক্রেতা। গত বছরের ছাগলকাণ্ড ও ব্রাহমা জাতের গরুর বিষয়টি দেশব্যাপী আলোচনায় আসার পর বড় গরুর ক্রেতা অনেকটাই কমে গেছে। যে কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারিরা। এ কারণে ব্যবসা সংকুচিত করার কথা ভাবছেন কেউ কেউ। আবার অনেকেই ব্যবসার পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনার কথা বলছেন।
নড়াইলের চিত্রা এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. মিল্টন হোসেন বলেন, এবার আমি ৪৫টি গরু বিক্রি করেছি। আমি ১ হাজার ৪০০ কেজির গরুও বিক্রি করেছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি অন্যদিক থেকে। অন্যান্য বছর ঈদের এক মাস কিংবা ১৫ দিন আগেই বেশির ভাগ গরু বিক্রি হয়ে যেত। এবার ঈদের আগের দিনও আমি গরু বিক্রি করেছি। লাভ একেবারেই সীমিত ছিল। ঈদের আগে পরিবহন খরচ ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। এক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কোরবানির মার্কেট এখন যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, আমাদের ব্যবসার ধরনই পাল্টাতে হবে। তাছাড়া ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় খামারিরা দিন দিন বড় গরুতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।’
বড় গরু অবিক্রীত থাকার বিষয়টি সামগ্রিক কোরবানির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে না বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম সাত্তার মন্ডল। তিনি বলেন, ‘অন্যান্যবারের মতো এবারো মানুষ কোরবানি করেছেন। হয়তো ছোট গরু কিংবা ভাগে তারা কোরবানি দিয়েছেন। বড় গরু কোরবানিদাতা সবসময় সীমিত সংখ্যক হয়ে থাকেন। এবার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নানা কারণে সে সংখ্যাটা হয়তো কমেছে, কিন্তু এটা বড় বিষয় না। এটা সাময়িক। ●
অকা/আখা/ফর/রাত/৯ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে
